যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: হারজিত লুকিয়ে এআই ডেটা সেন্টারে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: হারজিত লুকিয়ে এআই ডেটা সেন্টারে
সিজেডএন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারবিরোধী জনমত। বিশাল এসব স্থাপনার পরিবেশগত প্রভাব, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ সিনেটর ডেটা সেন্টার নিয়ে তেমন চিন্তিত ছিলেন না। এখন তিনি নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং এসব স্থাপনার সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছেন। দেশজুড়ে জনঅসন্তোষ বাড়ায় দুই দলের রাজনীতিকেরাই নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডেটা সেন্টার হলো বিশাল ভবন বা স্থাপনা, যেখানে ইন্টারনেট ও এআই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও সার্ভার রাখা হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যাঞ্জেলিটা সোরিয়ানোর বাড়ির ঠিক বিপরীতে অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টার নির্মিত হচ্ছে। ২৬টি ভবনের এই প্রকল্প এক বর্গমাইলের বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে এবং এতে থাকবে ডিজেলচালিত ৭৮২টি জেনারেটর। সোরিয়ানো বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার গিনিপিগ হতে চাই না।’
পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাসিন্দারা এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, এসব স্থাপনা স্থানীয় পরিবেশ, বায়ুর মান, পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্মাণকাজের শব্দ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুমোদন নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।
এআই ডেটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার ওয়াচের গবেষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রকল্পের বিরোধিতায় সক্রিয় কমিউনিটি গোষ্ঠীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৮৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
এআই নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ক্লোয়ি অটো বলেন, ডেটা সেন্টার নিয়ে বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাট বা বামপন্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রক্ষণশীলদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তার মতে, যে দলের রাজনীতিকই এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবেন, তিনি নির্বাচনে সুবিধা পেতে পারেন।
চাপে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষে। ডেটা সেন্টারবিরোধী মনোভাবকে তিনি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসব স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে চাওয়া মানুষ ও শহরগুলোকে ‘পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে তার এমন অবস্থান বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।
অ্যারিজোনার গভর্নর কেটি হবস আগে ডেটা সেন্টারের পক্ষে থাকলেও জনচাপের মুখে গত জুলাইয়ে নতুন প্রকল্পের জন্য কোম্পানিগুলোকে নতুন কর ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন বছরের স্থগিতাদেশ কার্যকর করেন।
ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডও নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। সাম্প্রতিক জরিপে অঙ্গরাজ্যটির অধিকাংশ ভোটার ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট শেরউড ব্রাউন নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রচার চালাচ্ছেন এবং জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।
টেক্সাসেও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগে টেক্সাসকে এআই উন্নয়নের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তুলে ধরলেও পরে ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া বন্ধের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন
ডেটা সেন্টারের সমর্থকেরা এসব প্রকল্পের পক্ষে নতুন কর্মসংস্থান ও ভালো বেতনের চাকরির যুক্তি তুলে ধরেন। তবে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, একটি নতুন ডেটা সেন্টার স্থানীয়ভাবে প্রায় ১০০ থেকে ২০০টি চাকরি তৈরি করে-শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির চেয়ে যা কম। স্থানীয় মজুরির ওপরও এসব প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই।
এদিকে অনেক রাজনীতিকের নেওয়া স্থগিতাদেশ ও অন্যান্য পদক্ষেপ সাময়িক। এগুলোর মেয়াদ এক থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে আপাতত ডেটা সেন্টার নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তীব্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব- সব মিলিয়ে ডেটা সেন্টারবিরোধী মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারবিরোধী জনমত। বিশাল এসব স্থাপনার পরিবেশগত প্রভাব, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ সিনেটর ডেটা সেন্টার নিয়ে তেমন চিন্তিত ছিলেন না। এখন তিনি নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং এসব স্থাপনার সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছেন। দেশজুড়ে জনঅসন্তোষ বাড়ায় দুই দলের রাজনীতিকেরাই নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডেটা সেন্টার হলো বিশাল ভবন বা স্থাপনা, যেখানে ইন্টারনেট ও এআই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও সার্ভার রাখা হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যাঞ্জেলিটা সোরিয়ানোর বাড়ির ঠিক বিপরীতে অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টার নির্মিত হচ্ছে। ২৬টি ভবনের এই প্রকল্প এক বর্গমাইলের বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে এবং এতে থাকবে ডিজেলচালিত ৭৮২টি জেনারেটর। সোরিয়ানো বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার গিনিপিগ হতে চাই না।’
পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাসিন্দারা এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, এসব স্থাপনা স্থানীয় পরিবেশ, বায়ুর মান, পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্মাণকাজের শব্দ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুমোদন নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।
এআই ডেটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার ওয়াচের গবেষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রকল্পের বিরোধিতায় সক্রিয় কমিউনিটি গোষ্ঠীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৮৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
এআই নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ক্লোয়ি অটো বলেন, ডেটা সেন্টার নিয়ে বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাট বা বামপন্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রক্ষণশীলদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তার মতে, যে দলের রাজনীতিকই এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবেন, তিনি নির্বাচনে সুবিধা পেতে পারেন।
চাপে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষে। ডেটা সেন্টারবিরোধী মনোভাবকে তিনি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসব স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে চাওয়া মানুষ ও শহরগুলোকে ‘পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে তার এমন অবস্থান বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।
অ্যারিজোনার গভর্নর কেটি হবস আগে ডেটা সেন্টারের পক্ষে থাকলেও জনচাপের মুখে গত জুলাইয়ে নতুন প্রকল্পের জন্য কোম্পানিগুলোকে নতুন কর ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন বছরের স্থগিতাদেশ কার্যকর করেন।
ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডও নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। সাম্প্রতিক জরিপে অঙ্গরাজ্যটির অধিকাংশ ভোটার ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট শেরউড ব্রাউন নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রচার চালাচ্ছেন এবং জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।
টেক্সাসেও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগে টেক্সাসকে এআই উন্নয়নের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তুলে ধরলেও পরে ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া বন্ধের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন
ডেটা সেন্টারের সমর্থকেরা এসব প্রকল্পের পক্ষে নতুন কর্মসংস্থান ও ভালো বেতনের চাকরির যুক্তি তুলে ধরেন। তবে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, একটি নতুন ডেটা সেন্টার স্থানীয়ভাবে প্রায় ১০০ থেকে ২০০টি চাকরি তৈরি করে-শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির চেয়ে যা কম। স্থানীয় মজুরির ওপরও এসব প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই।
এদিকে অনেক রাজনীতিকের নেওয়া স্থগিতাদেশ ও অন্যান্য পদক্ষেপ সাময়িক। এগুলোর মেয়াদ এক থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে আপাতত ডেটা সেন্টার নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তীব্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব- সব মিলিয়ে ডেটা সেন্টারবিরোধী মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: হারজিত লুকিয়ে এআই ডেটা সেন্টারে
সিজেডএন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারবিরোধী জনমত। বিশাল এসব স্থাপনার পরিবেশগত প্রভাব, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ সিনেটর ডেটা সেন্টার নিয়ে তেমন চিন্তিত ছিলেন না। এখন তিনি নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং এসব স্থাপনার সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছেন। দেশজুড়ে জনঅসন্তোষ বাড়ায় দুই দলের রাজনীতিকেরাই নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডেটা সেন্টার হলো বিশাল ভবন বা স্থাপনা, যেখানে ইন্টারনেট ও এআই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও সার্ভার রাখা হয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যাঞ্জেলিটা সোরিয়ানোর বাড়ির ঠিক বিপরীতে অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টার নির্মিত হচ্ছে। ২৬টি ভবনের এই প্রকল্প এক বর্গমাইলের বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে এবং এতে থাকবে ডিজেলচালিত ৭৮২টি জেনারেটর। সোরিয়ানো বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার গিনিপিগ হতে চাই না।’
পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাসিন্দারা এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, এসব স্থাপনা স্থানীয় পরিবেশ, বায়ুর মান, পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্মাণকাজের শব্দ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুমোদন নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।
এআই ডেটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার ওয়াচের গবেষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রকল্পের বিরোধিতায় সক্রিয় কমিউনিটি গোষ্ঠীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৮৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
এআই নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ক্লোয়ি অটো বলেন, ডেটা সেন্টার নিয়ে বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাট বা বামপন্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রক্ষণশীলদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তার মতে, যে দলের রাজনীতিকই এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবেন, তিনি নির্বাচনে সুবিধা পেতে পারেন।
চাপে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষে। ডেটা সেন্টারবিরোধী মনোভাবকে তিনি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসব স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে চাওয়া মানুষ ও শহরগুলোকে ‘পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে তার এমন অবস্থান বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।
অ্যারিজোনার গভর্নর কেটি হবস আগে ডেটা সেন্টারের পক্ষে থাকলেও জনচাপের মুখে গত জুলাইয়ে নতুন প্রকল্পের জন্য কোম্পানিগুলোকে নতুন কর ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন বছরের স্থগিতাদেশ কার্যকর করেন।
ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডও নিজের অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। সাম্প্রতিক জরিপে অঙ্গরাজ্যটির অধিকাংশ ভোটার ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট শেরউড ব্রাউন নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রচার চালাচ্ছেন এবং জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।
টেক্সাসেও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগে টেক্সাসকে এআই উন্নয়নের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তুলে ধরলেও পরে ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া বন্ধের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন
ডেটা সেন্টারের সমর্থকেরা এসব প্রকল্পের পক্ষে নতুন কর্মসংস্থান ও ভালো বেতনের চাকরির যুক্তি তুলে ধরেন। তবে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, একটি নতুন ডেটা সেন্টার স্থানীয়ভাবে প্রায় ১০০ থেকে ২০০টি চাকরি তৈরি করে-শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির চেয়ে যা কম। স্থানীয় মজুরির ওপরও এসব প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই।
এদিকে অনেক রাজনীতিকের নেওয়া স্থগিতাদেশ ও অন্যান্য পদক্ষেপ সাময়িক। এগুলোর মেয়াদ এক থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে আপাতত ডেটা সেন্টার নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তীব্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব- সব মিলিয়ে ডেটা সেন্টারবিরোধী মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।









