বায়ুদূষণে আজও শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থা কী

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
বায়ুদূষণে আজও শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থা কী
ছবি: সিটিজেন জার্নাল গ্রাফিক্স

যত দিন যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকায় ততই দূষণের মাত্রা বাড়ছে। বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় শহরটির বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার স্কোর ছিল ১৭০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা।

এ তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে পাকিস্তানের লাহোর। টানা কয়েকদিন ধরেই শহরটি বায়ুদূষণের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলা করছে। আজ লাহোরের স্কোর ছিল ৩২২। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, যার স্কোর ২৭৪। এছাড়া ১৯৬ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শহর কলকাতা।

বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে সেটা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে সেটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়।

বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।

দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয়। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা। বায়ুদূষণে রাজধানী ঢাকা দিন দিন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হতে পারে। এর ফলে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। বায়ুদূষণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

/জেএইচ/