ইরান যুদ্ধ: সাত মাসেই ১৯ বছরের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ: সাত মাসেই ১৯ বছরের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ইরানের বিরুদ্ধে মাত্র সাত মাসের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে। যুদ্ধের এ স্বল্প সময়ে যে পরিমাণ মিসাইল খরচ হয়েছে, তা স্বাভাবিক সময়ে সংগ্রহ করতে দেশটির প্রায় ১৯ বছর সময় লেগে যেত। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর সাম্প্রতিক এ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বাধুনিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩৩০টির মতো। কিন্তু গত সাত মাসের টানা সংঘাতেই খরচ হয়ে গেছে ১ হাজার ৬০ থেকে ১ হাজার ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র।

পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধের আগে ওয়াশিংটন বছরে গড়ে প্রায় ২২৫টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল সংগ্রহ করত। যদিও বর্তমানে এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য বছরে ৬০০ থেকে ৬৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। তবে এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একার চাহিদার জন্য নির্ধারিত নয়। সিএসআইএসের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মজুতে ফিরে যেতেই আমেরিকার অন্তত ৩ থেকে ৭ বছর লেগে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সিএসআইএসের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেপণাস্ত্রের এ ঘাটতি থাকলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ‘ঝুঁকির’ মুখে পড়তে পারে। আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়টের মতো আধুনিক মিসাইলের যোগান ব্যাহত হলে যেকোনো বড় যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে চরম মাশুল গুনতে হতে পারেও বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

/এমএকে/