ইরানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ ট্রাম্পের, নেপথ্যে কী

ইরানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ ট্রাম্পের, নেপথ্যে কী
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এ উত্তেজনার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তার নেই। সম্প্রতি মার্কিন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক অস্ত্র 'মাদার অফ অল বম্বস' বা মোয়াব ব্যবহারের বিষয়টির সরাসরি অস্বীকার করেননি।
ট্রাম্প কী বলেছেন
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তবে কৌশলগত বা যেকোনো ধরণের পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের কথা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, আমি পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করব না। আমাদের এর কোনো প্রয়োজন নেই। আমরাই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পারমাণবিক শক্তি।
মোয়াব ব্যবহার করার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। ‘মাদার অফ অল বম্বস’ পারমাণবিক নয়, এটা কেবল একটি অত্যন্ত বড় ধরনের বোমা। তবে এ বোমার ব্যবহারের অনুমোদন ইতোমধ্যে দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।
ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানান, এখনই যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থামাবে না। কারণ তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগ কিংবা কূটনীতি- যেভাবেই হোক, এ যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে এবং এরপর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে। তবে ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, আমি তেমনটা দেখছি না।

পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে আগে কী বলেছেন ট্রাম্প
সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন পদক্ষেপ কতদূর গড়াতে পারে তা নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। ট্রাম্পের আগের বার্তা পরমাণু হামলার আশঙ্কা উসকে দিয়েছিল। এপ্রিলে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শান্তি চুক্তি না হলে এবং হরমুজ খুলে না দিলে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে।
তিনি একাধিকবার ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও প্রধান অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা এটাকে পরোক্ষ পারমাণবিক হুমকি বলেই মনে করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

‘মাদার অফ অল বম্বস’ কী
জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোম- সংক্ষেপে ‘মোয়াব’। এটি ‘মাদার অফ অল বম্বস’ নামেও পরিচিত। প্রায় ১০ টন ওজনের এ বোমার ভেতরে থাকে সাড়ে আট টন উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক। এটি এতই ভারী যে স্টেলথ বোমারু বিমানগুলো এটি বহন করতে পারে না। এর জন্য ব্যবহার করা হয় সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান ।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মোয়াব উন্মুক্ত স্থানে থাকা সৈন্য বা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো মাটির গভীর সুড়ঙ্গে অবস্থিত। এগুলো ভূপৃষ্ঠে আঘাত করা বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। তাছাড়া ইরানের মতো শক্তশালী সামরিক ব্যবস্থার ভেতরে এত বড় ধীরগতির বিমান নিয়ে ঢুকে পরাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানের ওপর আরেকটি মার্কিন হামলা কেমন হতে পারে
ট্রাম্প মোয়াব ব্যবহারের পথ খোলা রাখায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানের সামরিক ঘাটিগুলোতে এক দফা বড় ধরণের বিমান হামলা চালাতে পারে। এর পাশাপাশি ইরানকে চাপে রাখতে তাদের সমুদ্র বন্দরে নৌ অবরোধ জোরদার করতে পারে মার্কিন বাহিনী, যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
অন্যদিকে, আরও বড় আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে আকাশপথের তীব্র আক্রমণ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমেই ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে চায়।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এ উত্তেজনার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তার নেই। সম্প্রতি মার্কিন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক অস্ত্র 'মাদার অফ অল বম্বস' বা মোয়াব ব্যবহারের বিষয়টির সরাসরি অস্বীকার করেননি।
ট্রাম্প কী বলেছেন
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তবে কৌশলগত বা যেকোনো ধরণের পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের কথা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, আমি পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করব না। আমাদের এর কোনো প্রয়োজন নেই। আমরাই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পারমাণবিক শক্তি।
মোয়াব ব্যবহার করার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। ‘মাদার অফ অল বম্বস’ পারমাণবিক নয়, এটা কেবল একটি অত্যন্ত বড় ধরনের বোমা। তবে এ বোমার ব্যবহারের অনুমোদন ইতোমধ্যে দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।
ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানান, এখনই যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থামাবে না। কারণ তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগ কিংবা কূটনীতি- যেভাবেই হোক, এ যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে এবং এরপর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে। তবে ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, আমি তেমনটা দেখছি না।

পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে আগে কী বলেছেন ট্রাম্প
সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন পদক্ষেপ কতদূর গড়াতে পারে তা নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। ট্রাম্পের আগের বার্তা পরমাণু হামলার আশঙ্কা উসকে দিয়েছিল। এপ্রিলে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শান্তি চুক্তি না হলে এবং হরমুজ খুলে না দিলে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে।
তিনি একাধিকবার ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও প্রধান অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা এটাকে পরোক্ষ পারমাণবিক হুমকি বলেই মনে করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

‘মাদার অফ অল বম্বস’ কী
জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোম- সংক্ষেপে ‘মোয়াব’। এটি ‘মাদার অফ অল বম্বস’ নামেও পরিচিত। প্রায় ১০ টন ওজনের এ বোমার ভেতরে থাকে সাড়ে আট টন উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক। এটি এতই ভারী যে স্টেলথ বোমারু বিমানগুলো এটি বহন করতে পারে না। এর জন্য ব্যবহার করা হয় সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান ।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মোয়াব উন্মুক্ত স্থানে থাকা সৈন্য বা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো মাটির গভীর সুড়ঙ্গে অবস্থিত। এগুলো ভূপৃষ্ঠে আঘাত করা বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। তাছাড়া ইরানের মতো শক্তশালী সামরিক ব্যবস্থার ভেতরে এত বড় ধীরগতির বিমান নিয়ে ঢুকে পরাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানের ওপর আরেকটি মার্কিন হামলা কেমন হতে পারে
ট্রাম্প মোয়াব ব্যবহারের পথ খোলা রাখায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানের সামরিক ঘাটিগুলোতে এক দফা বড় ধরণের বিমান হামলা চালাতে পারে। এর পাশাপাশি ইরানকে চাপে রাখতে তাদের সমুদ্র বন্দরে নৌ অবরোধ জোরদার করতে পারে মার্কিন বাহিনী, যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
অন্যদিকে, আরও বড় আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে আকাশপথের তীব্র আক্রমণ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমেই ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে চায়।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ ট্রাম্পের, নেপথ্যে কী
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এ উত্তেজনার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তার নেই। সম্প্রতি মার্কিন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক অস্ত্র 'মাদার অফ অল বম্বস' বা মোয়াব ব্যবহারের বিষয়টির সরাসরি অস্বীকার করেননি।
ট্রাম্প কী বলেছেন
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তবে কৌশলগত বা যেকোনো ধরণের পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের কথা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, আমি পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করব না। আমাদের এর কোনো প্রয়োজন নেই। আমরাই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পারমাণবিক শক্তি।
মোয়াব ব্যবহার করার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। ‘মাদার অফ অল বম্বস’ পারমাণবিক নয়, এটা কেবল একটি অত্যন্ত বড় ধরনের বোমা। তবে এ বোমার ব্যবহারের অনুমোদন ইতোমধ্যে দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।
ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানান, এখনই যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থামাবে না। কারণ তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইরান যেন কোনোভাবেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শক্তি প্রয়োগ কিংবা কূটনীতি- যেভাবেই হোক, এ যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে এবং এরপর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে। তবে ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, আমি তেমনটা দেখছি না।

পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে আগে কী বলেছেন ট্রাম্প
সংঘাতের শুরু থেকেই মার্কিন পদক্ষেপ কতদূর গড়াতে পারে তা নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। ট্রাম্পের আগের বার্তা পরমাণু হামলার আশঙ্কা উসকে দিয়েছিল। এপ্রিলে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শান্তি চুক্তি না হলে এবং হরমুজ খুলে না দিলে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে।
তিনি একাধিকবার ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও প্রধান অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা এটাকে পরোক্ষ পারমাণবিক হুমকি বলেই মনে করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

‘মাদার অফ অল বম্বস’ কী
জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোম- সংক্ষেপে ‘মোয়াব’। এটি ‘মাদার অফ অল বম্বস’ নামেও পরিচিত। প্রায় ১০ টন ওজনের এ বোমার ভেতরে থাকে সাড়ে আট টন উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক। এটি এতই ভারী যে স্টেলথ বোমারু বিমানগুলো এটি বহন করতে পারে না। এর জন্য ব্যবহার করা হয় সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান ।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মোয়াব উন্মুক্ত স্থানে থাকা সৈন্য বা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো মাটির গভীর সুড়ঙ্গে অবস্থিত। এগুলো ভূপৃষ্ঠে আঘাত করা বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। তাছাড়া ইরানের মতো শক্তশালী সামরিক ব্যবস্থার ভেতরে এত বড় ধীরগতির বিমান নিয়ে ঢুকে পরাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানের ওপর আরেকটি মার্কিন হামলা কেমন হতে পারে
ট্রাম্প মোয়াব ব্যবহারের পথ খোলা রাখায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানের সামরিক ঘাটিগুলোতে এক দফা বড় ধরণের বিমান হামলা চালাতে পারে। এর পাশাপাশি ইরানকে চাপে রাখতে তাদের সমুদ্র বন্দরে নৌ অবরোধ জোরদার করতে পারে মার্কিন বাহিনী, যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
অন্যদিকে, আরও বড় আক্রমণ হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে আকাশপথের তীব্র আক্রমণ ও অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমেই ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে চায়।
সূত্র: আল জাজিরা









