আফগানিস্তানে আবারও পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ২২

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
আফগানিস্তানে আবারও পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ২২
হেলমান্দ প্রদেশের গারমসির জেলায় পাকিস্তানি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত শিবির ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয় এবং এতে অন্তত ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের এ দাবির ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে কাবুল। আফগান প্রশাসনের অভিযোগ, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে চালানো হামলায় অন্তত নয়জন নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অবশ্য আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এ হতাহতের সংখ্যা বা দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এ হামলা চালানো হয়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দে চালানো হামলায় তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, লক্ষ্যবস্তুতে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং বেলুচ লিবারেশন আর্মি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তুগুলো নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এই গোপন আস্তানাগুলোতে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে।

গত তিন মাস ধরে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ বেশ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে কাবুল।

আল জাজিরার প্রতিনিধি কামাল হায়দার জানান, বেলুচিস্তানে হামলার জন্য বেলুচ লিবারেশন আর্মি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান দায়ী। এছাড়া ২০২২ সালের নভেম্বরে আফগান তালেবানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘাত বেড়েই চলেছে।

তবে আফগান সরকার বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী জঙ্গিদের নিশানা করার আড়ালে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ নারী ও শিশুদের। এদিকে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে সীমান্তজুড়ে চলা সহিংসতায় ইতোমধ্যে এক হাজার একশ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক হতাহতের শিকার হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/