বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ
ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

দুই বছরের অধিক সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের দুয়ার খুলেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট ‘চেইন এনএসকে ট্রেড সিটি’র চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হাইকমিশন ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮)। মূলত এর মাধ্যমেই আবার চালু হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।

এদিকে দেশটিতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে ‘জিরো মাইগ্রেশন কস্টে’ ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরপর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেও কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতোমধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ৬ হাজারের বেশি কোটা বরাদ্দ হয়েছে। এই কোটার বিপরীতে নিয়োগকর্তাদের ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন জমা পড়েছে। কিছু ডিমান্ড লেটার ইতোমধ্যে সত্যায়নও করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তের কিছু নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে মন্ত্রণালয়।

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। এর পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়তে থাকে শঙ্কা। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে উদ্যোগ নেয়। সেটা অনেকদূর এগিয়েও যায়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়ায়। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন।

দীর্ঘ ২৬ মাস পর গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস।

এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা। এ কারণে জিরো কস্টে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫০ জন মালয়েশীয় নিয়োগকর্তা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য কোটা বরাদ্দের আবেদন করেছেন। নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় সরকারি ফি ও লেভি পরিশোধ করে নিয়ম অনুযায়ী কোটা পেয়েছেন। এরপর ডিমান্ড লেটার বা চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন জমা পড়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রথমে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানো। এরপর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ পাবেন।

এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

অন্যদিকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) নেতারা বলছেন, মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এছাড়া দেশটিতে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র যথাযথভাবে যাচাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে বলেও মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি উদ্যোগে জিরো কস্টে ১০ হাজার কর্মী পাঠানো এবং বরাদ্দ পাওয়া কোটার ভিত্তিতে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের অভিবাসন খাত শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।

/জেএইচ/