বিমানবন্দর এলাকায় অবৈধ প্রিয়াঙ্কা সিটি

বিমানবন্দর এলাকায় অবৈধ প্রিয়াঙ্কা সিটি
রুবেল আবিদ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের ল্যান্ডিং এবং টেক অফ করিডরের উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করে গড়ে উঠেছে অবৈধ প্রিয়াঙ্কা সিটি। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের পাঁচটি প্লটের ভবনগুলো উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে। প্রিয়াঙ্কা সিটির পাশাপাশি আরও কিছু ভবনও প্রাপ্য উচ্চতাসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ আছে। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অসংখ্যবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) অনেকগুলো চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পদক্ষেপ নেবে কী, জানা গেছে রাজউকের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই একের পর এক অবৈধ ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই সুউচ্চ ভবনগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে বিমান ল্যান্ডিং বা টেক অফের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
বেবিচকের তথ্যমতে প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের ৯, ১৩, ২৬, ৩০, ৩৬ নম্বর প্লটের ভবনগুলো উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে। উত্তরা সেক্টর ১৮ এর কলাবতি ভবন ৫, এয়ারপোর্ট রোডে রবি এন্টেনা, নিকুঞ্জ ২ এর ১৬ নম্বর রোডের ৪৯ নম্বর সোহাগ ভিলা এবং ১৪ নম্বর রোডের ভুঁইয়া বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। রানওয়ের অ্যাপ্রোচ ফানেলের উভয় পাশে অবস্ট্রাকল লিমিটেশন সারফেস বা ওএলএস এর নিয়ম অনুসারে প্রাপ্য উচ্চতা সীমার তোয়াক্কা করা হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের ৯ নম্বর প্লটের প্রাপ্য উচ্চতা ৩৬ ফুট। সেই অনুযায়ী ভবনটি হওয়ার কথা ছিল ৩ থেকে ৪ তলা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৭ তলা ভবন। একই রোডের ২৬ নম্বর ভবনটি নির্মাণাধীন, যার প্রাপ্ত উচ্চতা ৩৫ ফুট এবং এটিও নির্মিত হচ্ছে ৭ তলা হিসেবে। ভবনের ম্যানেজার জানান, কিছুদিন আগে ভবনটি মাপার জন্য লোকজন এসেছিল। তবে তারা কারা বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছিল, তা তিনি জানেন না। ওই ম্যানেজার নিজের নাম বা ছবি, কোনোটিই প্রকাশ না করার অনুরোধও করেছেন।
একই রোডের ৩০ নম্বর প্লটের ভবনটিও ৪ তলার স্থানে ৮ তলা। অন্যান্য ভবনগুলোর খোঁজ করতে গেলে প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা প্রদান করে সিজেডএনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানকে। একটা পর্যায়ে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং একপ্রকার বাধ্য করে তাদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে মোটরসাইকেলে করে নজরদারি চালানো হয় এবং ৩-৪ জন নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা ক্যামেরা বন্ধ করতে বলে। অবশেষে ফোনে কোনো এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদক এবং ক্যামেরাম্যান সেখান থেকে চলে আসতে সক্ষম হন।
প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সজলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেলস ম্যানেজার জানান জেনারেল ম্যানেজার ফেরদৌস আহমেদের সাথে কথা বলতে। জেনারেল ম্যানেজার বিস্তারিত শুনে শুধু জানান যে সিভিল এভিয়েশনের সাথে তাদের কথা হয়েছে এবং এরপর ফোন কেটে দেন।
বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সদস্য এয়ার কমোডর মোহাম্মদ নূর-ই-আলম বলেছেন, ‘রানওয়ের কেন্দ্র থেকে চতুর্দিকে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এই লিমিটেশন সারফেস বিস্তৃত এবং এটি উপবৃত্তাকার। প্রায় ৬৪০ থেকে ৬৫০টির মতো ভবন উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাজউককে প্রায় ২২ থেকে ২৩ বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সিটির ৬টি ভবনের ভায়োলেশন নিয়ে বারবার রাজউকের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কবে চিঠি দিয়েছে? চিঠি দিয়ে থাকলে কোথায় সেগুলো? আমাকে দেখান আপনি!
শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম
অথরাইজড অফিসার, রাজউক
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশে অবৈধ সুউচ্চ ভবন নিয়ে একটি জরিপের উদ্যোগ নেয়। বেবিচক ও রাজউক মিলে যৌথ জরিপ পরিচালনার কথা থাকলেও সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি। রাজউকের নথির সূত্রে জানা গেছে, জরিপের জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন সদস্য চেয়ে তারা বেবিচককে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু বেবিচক ৫ জনের বদলে শুধু একজন সদস্য দেয়। সেই একজন সদস্য সিনিয়র কার্টোগ্রাফার শফিকুল ইসলাম রাউজককে জানিয়েছেন, তাকে অবহিত না করেই তার নাম পাঠানো হয়েছে এবং তিনি এ কাজ করতে অপারগ। এ বছরের জুন মাসে আবারও জরিপের জন্য সদস্য চেয়ে বেবিচককে চিঠি দিয়েছে রাজউক।

বিমানবন্দর এলাকায় সুউচ্চ ভবন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাজউকের অথরাইজড অফিসার শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম বলেছেন, ‘আমরা আগেই প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির ৫ থেকে ৬টা ভবন চিহ্নিত করেছি। বেবিচক ও রাজউকের যৌথ জরিপের পর উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের সাপেক্ষে ওই ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে।’
জরিপ কবে হবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল ইমাম বলেন, ‘দেরিতে হলেও বেবিচক ৫ জন প্রতিনিধি দিয়েছে। ৩ জুলাই তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আগামী রোববার (৯ জুলাই) জরিপ শুরু হবে।’
এহসানুল ইমামকে এরপর প্রশ্ন করা হয়, বেবিচক কর্তৃপক্ষ তো আপনাদের ২০১০-১১ সালের দিকে বেশ কয়েকটি চিঠি দিয়েছিল, প্রিয়াঙ্কা সিটির অবৈধ সুউচ্চ ভবন নিয়ে। এই প্রশ্ন শুনে এহসানুল ইমাম একটু রেগে গিয়েই উত্তর দেন, ‘কবে চিঠি দিয়েছে? চিঠি দিয়ে থাকলে কোথায় সেগুলো? আমাকে দেখান আপনি!’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
তা বেবিচক চিঠি দিক বা না দিক, রানওয়েসহ যেকোনো এলাকায় বিধি মেনে ভবন উঠল কিনা, সেটা দেখভালের দায়িত্ব তো রাজউকের। উত্তরা এলাকায় এক বছর ধরে সেই দেখভালের দায়িত্ব এহসানুল ইমামের। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, অবৈধ সুউচ্চ ভবন নির্মাণ ঠেকাবেন কী, এই কর্মকর্তার যোগসাজশেই বরং এগুলো করা হচ্ছে। রাজউকের জোন ১– বা উত্তরা অঞ্চলের অথরাইজড অফিসারের দায়িত্ব পালনের আগে ছিলেন কেরানীগঞ্জ-বাবুবাজার এলাকার দায়িত্বে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের ল্যান্ডিং এবং টেক অফ করিডরের উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করে গড়ে উঠেছে অবৈধ প্রিয়াঙ্কা সিটি। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের পাঁচটি প্লটের ভবনগুলো উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে। প্রিয়াঙ্কা সিটির পাশাপাশি আরও কিছু ভবনও প্রাপ্য উচ্চতাসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ আছে। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অসংখ্যবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) অনেকগুলো চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পদক্ষেপ নেবে কী, জানা গেছে রাজউকের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই একের পর এক অবৈধ ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই সুউচ্চ ভবনগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে বিমান ল্যান্ডিং বা টেক অফের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
বেবিচকের তথ্যমতে প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের ৯, ১৩, ২৬, ৩০, ৩৬ নম্বর প্লটের ভবনগুলো উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে। উত্তরা সেক্টর ১৮ এর কলাবতি ভবন ৫, এয়ারপোর্ট রোডে রবি এন্টেনা, নিকুঞ্জ ২ এর ১৬ নম্বর রোডের ৪৯ নম্বর সোহাগ ভিলা এবং ১৪ নম্বর রোডের ভুঁইয়া বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। রানওয়ের অ্যাপ্রোচ ফানেলের উভয় পাশে অবস্ট্রাকল লিমিটেশন সারফেস বা ওএলএস এর নিয়ম অনুসারে প্রাপ্য উচ্চতা সীমার তোয়াক্কা করা হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের ৯ নম্বর প্লটের প্রাপ্য উচ্চতা ৩৬ ফুট। সেই অনুযায়ী ভবনটি হওয়ার কথা ছিল ৩ থেকে ৪ তলা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৭ তলা ভবন। একই রোডের ২৬ নম্বর ভবনটি নির্মাণাধীন, যার প্রাপ্ত উচ্চতা ৩৫ ফুট এবং এটিও নির্মিত হচ্ছে ৭ তলা হিসেবে। ভবনের ম্যানেজার জানান, কিছুদিন আগে ভবনটি মাপার জন্য লোকজন এসেছিল। তবে তারা কারা বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছিল, তা তিনি জানেন না। ওই ম্যানেজার নিজের নাম বা ছবি, কোনোটিই প্রকাশ না করার অনুরোধও করেছেন।
একই রোডের ৩০ নম্বর প্লটের ভবনটিও ৪ তলার স্থানে ৮ তলা। অন্যান্য ভবনগুলোর খোঁজ করতে গেলে প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা প্রদান করে সিজেডএনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানকে। একটা পর্যায়ে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং একপ্রকার বাধ্য করে তাদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে মোটরসাইকেলে করে নজরদারি চালানো হয় এবং ৩-৪ জন নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা ক্যামেরা বন্ধ করতে বলে। অবশেষে ফোনে কোনো এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদক এবং ক্যামেরাম্যান সেখান থেকে চলে আসতে সক্ষম হন।
প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সজলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেলস ম্যানেজার জানান জেনারেল ম্যানেজার ফেরদৌস আহমেদের সাথে কথা বলতে। জেনারেল ম্যানেজার বিস্তারিত শুনে শুধু জানান যে সিভিল এভিয়েশনের সাথে তাদের কথা হয়েছে এবং এরপর ফোন কেটে দেন।
বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সদস্য এয়ার কমোডর মোহাম্মদ নূর-ই-আলম বলেছেন, ‘রানওয়ের কেন্দ্র থেকে চতুর্দিকে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এই লিমিটেশন সারফেস বিস্তৃত এবং এটি উপবৃত্তাকার। প্রায় ৬৪০ থেকে ৬৫০টির মতো ভবন উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাজউককে প্রায় ২২ থেকে ২৩ বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সিটির ৬টি ভবনের ভায়োলেশন নিয়ে বারবার রাজউকের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কবে চিঠি দিয়েছে? চিঠি দিয়ে থাকলে কোথায় সেগুলো? আমাকে দেখান আপনি!
শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম
অথরাইজড অফিসার, রাজউক
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশে অবৈধ সুউচ্চ ভবন নিয়ে একটি জরিপের উদ্যোগ নেয়। বেবিচক ও রাজউক মিলে যৌথ জরিপ পরিচালনার কথা থাকলেও সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি। রাজউকের নথির সূত্রে জানা গেছে, জরিপের জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন সদস্য চেয়ে তারা বেবিচককে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু বেবিচক ৫ জনের বদলে শুধু একজন সদস্য দেয়। সেই একজন সদস্য সিনিয়র কার্টোগ্রাফার শফিকুল ইসলাম রাউজককে জানিয়েছেন, তাকে অবহিত না করেই তার নাম পাঠানো হয়েছে এবং তিনি এ কাজ করতে অপারগ। এ বছরের জুন মাসে আবারও জরিপের জন্য সদস্য চেয়ে বেবিচককে চিঠি দিয়েছে রাজউক।

বিমানবন্দর এলাকায় সুউচ্চ ভবন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাজউকের অথরাইজড অফিসার শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম বলেছেন, ‘আমরা আগেই প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির ৫ থেকে ৬টা ভবন চিহ্নিত করেছি। বেবিচক ও রাজউকের যৌথ জরিপের পর উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের সাপেক্ষে ওই ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে।’
জরিপ কবে হবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল ইমাম বলেন, ‘দেরিতে হলেও বেবিচক ৫ জন প্রতিনিধি দিয়েছে। ৩ জুলাই তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আগামী রোববার (৯ জুলাই) জরিপ শুরু হবে।’
এহসানুল ইমামকে এরপর প্রশ্ন করা হয়, বেবিচক কর্তৃপক্ষ তো আপনাদের ২০১০-১১ সালের দিকে বেশ কয়েকটি চিঠি দিয়েছিল, প্রিয়াঙ্কা সিটির অবৈধ সুউচ্চ ভবন নিয়ে। এই প্রশ্ন শুনে এহসানুল ইমাম একটু রেগে গিয়েই উত্তর দেন, ‘কবে চিঠি দিয়েছে? চিঠি দিয়ে থাকলে কোথায় সেগুলো? আমাকে দেখান আপনি!’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
তা বেবিচক চিঠি দিক বা না দিক, রানওয়েসহ যেকোনো এলাকায় বিধি মেনে ভবন উঠল কিনা, সেটা দেখভালের দায়িত্ব তো রাজউকের। উত্তরা এলাকায় এক বছর ধরে সেই দেখভালের দায়িত্ব এহসানুল ইমামের। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, অবৈধ সুউচ্চ ভবন নির্মাণ ঠেকাবেন কী, এই কর্মকর্তার যোগসাজশেই বরং এগুলো করা হচ্ছে। রাজউকের জোন ১– বা উত্তরা অঞ্চলের অথরাইজড অফিসারের দায়িত্ব পালনের আগে ছিলেন কেরানীগঞ্জ-বাবুবাজার এলাকার দায়িত্বে।

বিমানবন্দর এলাকায় অবৈধ প্রিয়াঙ্কা সিটি
রুবেল আবিদ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের ল্যান্ডিং এবং টেক অফ করিডরের উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করে গড়ে উঠেছে অবৈধ প্রিয়াঙ্কা সিটি। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের পাঁচটি প্লটের ভবনগুলো উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে। প্রিয়াঙ্কা সিটির পাশাপাশি আরও কিছু ভবনও প্রাপ্য উচ্চতাসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ আছে। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অসংখ্যবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) অনেকগুলো চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পদক্ষেপ নেবে কী, জানা গেছে রাজউকের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই একের পর এক অবৈধ ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই সুউচ্চ ভবনগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে বিমান ল্যান্ডিং বা টেক অফের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
বেবিচকের তথ্যমতে প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের ৯, ১৩, ২৬, ৩০, ৩৬ নম্বর প্লটের ভবনগুলো উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে। উত্তরা সেক্টর ১৮ এর কলাবতি ভবন ৫, এয়ারপোর্ট রোডে রবি এন্টেনা, নিকুঞ্জ ২ এর ১৬ নম্বর রোডের ৪৯ নম্বর সোহাগ ভিলা এবং ১৪ নম্বর রোডের ভুঁইয়া বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। রানওয়ের অ্যাপ্রোচ ফানেলের উভয় পাশে অবস্ট্রাকল লিমিটেশন সারফেস বা ওএলএস এর নিয়ম অনুসারে প্রাপ্য উচ্চতা সীমার তোয়াক্কা করা হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির এক নম্বর রোডের ৯ নম্বর প্লটের প্রাপ্য উচ্চতা ৩৬ ফুট। সেই অনুযায়ী ভবনটি হওয়ার কথা ছিল ৩ থেকে ৪ তলা। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৭ তলা ভবন। একই রোডের ২৬ নম্বর ভবনটি নির্মাণাধীন, যার প্রাপ্ত উচ্চতা ৩৫ ফুট এবং এটিও নির্মিত হচ্ছে ৭ তলা হিসেবে। ভবনের ম্যানেজার জানান, কিছুদিন আগে ভবনটি মাপার জন্য লোকজন এসেছিল। তবে তারা কারা বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছিল, তা তিনি জানেন না। ওই ম্যানেজার নিজের নাম বা ছবি, কোনোটিই প্রকাশ না করার অনুরোধও করেছেন।
একই রোডের ৩০ নম্বর প্লটের ভবনটিও ৪ তলার স্থানে ৮ তলা। অন্যান্য ভবনগুলোর খোঁজ করতে গেলে প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা প্রদান করে সিজেডএনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানকে। একটা পর্যায়ে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং একপ্রকার বাধ্য করে তাদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে মোটরসাইকেলে করে নজরদারি চালানো হয় এবং ৩-৪ জন নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা ক্যামেরা বন্ধ করতে বলে। অবশেষে ফোনে কোনো এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদক এবং ক্যামেরাম্যান সেখান থেকে চলে আসতে সক্ষম হন।
প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সজলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেলস ম্যানেজার জানান জেনারেল ম্যানেজার ফেরদৌস আহমেদের সাথে কথা বলতে। জেনারেল ম্যানেজার বিস্তারিত শুনে শুধু জানান যে সিভিল এভিয়েশনের সাথে তাদের কথা হয়েছে এবং এরপর ফোন কেটে দেন।
বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সদস্য এয়ার কমোডর মোহাম্মদ নূর-ই-আলম বলেছেন, ‘রানওয়ের কেন্দ্র থেকে চতুর্দিকে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এই লিমিটেশন সারফেস বিস্তৃত এবং এটি উপবৃত্তাকার। প্রায় ৬৪০ থেকে ৬৫০টির মতো ভবন উচ্চতা সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাজউককে প্রায় ২২ থেকে ২৩ বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সিটির ৬টি ভবনের ভায়োলেশন নিয়ে বারবার রাজউকের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কবে চিঠি দিয়েছে? চিঠি দিয়ে থাকলে কোথায় সেগুলো? আমাকে দেখান আপনি!
শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম
অথরাইজড অফিসার, রাজউক
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশে অবৈধ সুউচ্চ ভবন নিয়ে একটি জরিপের উদ্যোগ নেয়। বেবিচক ও রাজউক মিলে যৌথ জরিপ পরিচালনার কথা থাকলেও সেটা এখনো হয়ে ওঠেনি। রাজউকের নথির সূত্রে জানা গেছে, জরিপের জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন সদস্য চেয়ে তারা বেবিচককে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু বেবিচক ৫ জনের বদলে শুধু একজন সদস্য দেয়। সেই একজন সদস্য সিনিয়র কার্টোগ্রাফার শফিকুল ইসলাম রাউজককে জানিয়েছেন, তাকে অবহিত না করেই তার নাম পাঠানো হয়েছে এবং তিনি এ কাজ করতে অপারগ। এ বছরের জুন মাসে আবারও জরিপের জন্য সদস্য চেয়ে বেবিচককে চিঠি দিয়েছে রাজউক।

বিমানবন্দর এলাকায় সুউচ্চ ভবন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাজউকের অথরাইজড অফিসার শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম বলেছেন, ‘আমরা আগেই প্রিয়াঙ্কা রানওয়ে সিটির ৫ থেকে ৬টা ভবন চিহ্নিত করেছি। বেবিচক ও রাজউকের যৌথ জরিপের পর উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের সাপেক্ষে ওই ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে।’
জরিপ কবে হবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে এহসানুল ইমাম বলেন, ‘দেরিতে হলেও বেবিচক ৫ জন প্রতিনিধি দিয়েছে। ৩ জুলাই তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আগামী রোববার (৯ জুলাই) জরিপ শুরু হবে।’
এহসানুল ইমামকে এরপর প্রশ্ন করা হয়, বেবিচক কর্তৃপক্ষ তো আপনাদের ২০১০-১১ সালের দিকে বেশ কয়েকটি চিঠি দিয়েছিল, প্রিয়াঙ্কা সিটির অবৈধ সুউচ্চ ভবন নিয়ে। এই প্রশ্ন শুনে এহসানুল ইমাম একটু রেগে গিয়েই উত্তর দেন, ‘কবে চিঠি দিয়েছে? চিঠি দিয়ে থাকলে কোথায় সেগুলো? আমাকে দেখান আপনি!’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
তা বেবিচক চিঠি দিক বা না দিক, রানওয়েসহ যেকোনো এলাকায় বিধি মেনে ভবন উঠল কিনা, সেটা দেখভালের দায়িত্ব তো রাজউকের। উত্তরা এলাকায় এক বছর ধরে সেই দেখভালের দায়িত্ব এহসানুল ইমামের। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, অবৈধ সুউচ্চ ভবন নির্মাণ ঠেকাবেন কী, এই কর্মকর্তার যোগসাজশেই বরং এগুলো করা হচ্ছে। রাজউকের জোন ১– বা উত্তরা অঞ্চলের অথরাইজড অফিসারের দায়িত্ব পালনের আগে ছিলেন কেরানীগঞ্জ-বাবুবাজার এলাকার দায়িত্বে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন







