হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়ে শুটিং করতাম: নাঈম

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়ে শুটিং করতাম: নাঈম
নাঈম ও শাবনাজ

নব্বই দশকের ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় জুটি নাঈম ও শাবনাজ। ১৯৯১ সালে ৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিল এই জুটির প্রথম সিনেমা ‘চাঁদনী’। দেখতে দেখতে ৩৫ বছর কেটে গেছে। মুক্তির পর সিনেমাটি সারা দেশে ব্যাপক ঝড় তুলেছিল। এরপর আরও অনেক হিট সিনেমার জুটি হন নাঈম-শাবনাজ। তবে শুধু রূপালি পর্দায়ই তাদের রোমান্টিক রসায়ন সীমাবদ্ধ ছিল না, বাস্তব জীবনেও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা। আজ সোমবার এই জুটির বৈবাহিক জীবনের ৩২ বছর পূর্ণ হলো।

চাঁদনী সিনেমার ৩৫ বছর পূর্তিতে এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নাঈম। সেখানে তিনি সিনেমায় আসার গল্প, শাবনাজের সঙ্গে বিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন।

সিনেমায় অভিনয়ের আগে মডেলিং করেছেন নাঈম। খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের সঙ্গে তার বাবার ভালো সম্পর্ক ছিলো। একদিন তাকে দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর নায়িকা হিসেবে শাবনাজকে বেছে নেন গুণী এই পরিচালক। নায়িকার বাবাও চাঁদনী সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।

সিনেমার শুটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুটিং শুরুর আগে গানগুলো রেকর্ড করা হয়। মহরতের স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। প্রথম শুটিং করি বারিধারায়। দিনটি ছিল আমার জন্য স্মরণীয়।’

মডেলিংয়ে অভিজ্ঞতার কারণে কোনো ক্যামেরাভীতি ছিল না বলে জানান নাঈম। তিনি বলেন, ‘চাঁদনী সিনেমার জন্য ঢাকার শুটিং শেষ করে আমরা সিলেট চলে যাই। জাফলংয়ে শুটিং করি বেশ কিছুদিন। সেখানে একটি বাড়িতে ছিলাম। তখন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। রাতে আমরা হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়ে শুটিং করতাম।’

জাফলংয়ে শুটিংয়ের অনেক ঘটনা এখনও চোখে ভাসে অভিনেতার। তিনি বলেন, যে বাড়িতে থাকতাম, সেই বাড়িতে একটি পুকুর ছিল। সবাই সেখানে গোসল করতাম। ওই পুকুরে জোঁক ছিল। এই ভয়ে আমি তো পুকুরে নামতাম না।’

সহঅভিনেতাদের প্রসঙ্গে নাঈম বলেন, ‘চাঁদনী সিনেমায় বেশিরভাগ শিল্পীই নতুন ছিলাম। সাদেক বাচ্চু ছিলেন, তিনি মারা গেছেন। রাণী সরকার ছিলেন। তিনিও বেঁচে নেই।’

ইউনিটের সবাই প্রচণ্ড সততা ও শ্রম দিয়ে কাজ করেছেন জানিয়ে অভিনেতা বলেন, শীতের সময় কষ্ট হয়েছে খুব। তারপরও করেছি। ভালো লাগা থেকেই করেছি। সব শিল্পীরাই তাই করেছেন।’

শুটিং শেষ অনেক স্মৃতি, অনেক উত্তেজনা, অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা ঢাকায় ফেরেন বলে জানান এই নাঈম। সিনেমা মুক্তির স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘অল্প কিছু সিনেমা হলে চাঁদনী মুক্তি পায়। নতুন জুটির সিনেমা চলবে কি না, এই রকম ভাবনা থেকেই কেউ কেউ নিতে চাননি। কিন্তু পরিচালকের সম্মানে কিছু হল নিয়েছিলেন। মধুমিতা, বলাকাসহ ২০-২২টি হলে মুক্তি পায় সিনেমাটি।’

সিনেমার মুক্তির আগের দিনের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘ওইদিন সিনেমার বড় একটা টিম ঢাকা শহরের হলে হলে ছুটে যাই ব্যানার ঠিকমতো লেগেছে কি না দেখার জন্য। রাত ৪টা পর্যন্ত সিনেমা হল, শহরের রাস্তার দুই পাশে পোস্টার ঠিক আছে কি না এসব দেখে বেড়াই।’ সিনেমা মুক্তির আগে একদল সিলেটে হযরত শাহজালাল সাহেবের মাজার জিয়ারত করতে যান বলেও জানান এই অভিনেতা।

মুক্তির দিনের গল্প বলতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘সেই সময় মর্নিং শো চলতো। কিন্তু মুক্তির দিন মর্নিং শোতে খুব বেশি দর্শক হয়নি। তবে দুপুরের শো থেকে খবর আসতে লাগল প্রচুর দর্শক আসছেন, হাউজফুল। এরপর হল সংখ্যা বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ‘আমি তো মহাখুশি। সৃষ্টিকর্তার রহমতে দর্শকরা আমার প্রথম সিনেমা দেখতে হলে আসছেন।’

মুক্তির পর মঙ্গলবার আব্বা-আম্মাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মধুমিতা হলে সিনেমা দেখতে যান বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শো শেষ হওয়ার পর হল থেকে বের হতে পারছিলাম না। অনেক ভিড় হয়েছিল। অনেক দর্শক ছিল। সবাই আমাকে দেখতে চাইছিল। এই স্মৃতি ভুলবার নয়।’

/জেএইচ/