এনটিআরসিএ থেকে সরে কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ, অনিয়মের শঙ্কা

এনটিআরসিএ থেকে সরে কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ, অনিয়মের শঙ্কা
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ পরিবর্তনে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা কমে গিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তদবিরের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করে সুপারিশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন প্রস্তাবে এনটিআরসিএকে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রত্যয়নপত্রধারীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের কাঠামো বাদ গেলে প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়োগের মানদণ্ডে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। একই যোগ্যতার একাধিক প্রার্থীর মধ্যে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তখন মেধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ, তদবির কিংবা স্থানীয় প্রভাব কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন প্রতিষ্ঠানের একটি কমিটির হাতে থাকবে, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের মতে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসছেন। এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থাকে সামনে রেখেই অনেকে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এখন নিয়োগের কাঠামো পরিবর্তন হলে তাদের জন্য অভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের আরও আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানের কমিটি যে মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করবে, অন্য প্রতিষ্ঠানে তা নাও হতে পারে। ফলে শিক্ষক নিয়োগে একটি অভিন্ন জাতীয় মানদণ্ড বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত ও জবাবদিহিতার কাঠামো কী হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি শিক্ষার মানের সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু চাকরিপ্রত্যাশীদের ওপর নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও পড়তে পারে।
এদিকে এনটিআরসিএর বর্তমান নিয়োগ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা, মামলা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগের সুপারিশের কারণে বিভিন্ন জটিলতা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা থেকে বের হতে এনটিআরসিএকে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, বর্তমান ব্যবস্থায় জটিলতা থাকলে সেটি সংস্কার না করে পুরো নিয়োগ কাঠামো পরিবর্তন কতটা যৌক্তিক। তাদের মতে, এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কেন্দ্রীয় মেধাভিত্তিক বাছাইয়ের কাঠামো বাদ দিলে বরং নিয়োগে অনিয়মের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীরা এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দাবিতে সরব হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষক নিয়োগে কমিটি পদ্ধতি বাতিল করে মেধাভিত্তিক কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না বলেন, দেশের লাখো নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত বেশি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তত বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে অনিয়ম, তদবির ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ পরিবর্তনে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা কমে গিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তদবিরের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করে সুপারিশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন প্রস্তাবে এনটিআরসিএকে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রত্যয়নপত্রধারীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের কাঠামো বাদ গেলে প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়োগের মানদণ্ডে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। একই যোগ্যতার একাধিক প্রার্থীর মধ্যে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তখন মেধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ, তদবির কিংবা স্থানীয় প্রভাব কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন প্রতিষ্ঠানের একটি কমিটির হাতে থাকবে, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের মতে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসছেন। এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থাকে সামনে রেখেই অনেকে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এখন নিয়োগের কাঠামো পরিবর্তন হলে তাদের জন্য অভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের আরও আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানের কমিটি যে মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করবে, অন্য প্রতিষ্ঠানে তা নাও হতে পারে। ফলে শিক্ষক নিয়োগে একটি অভিন্ন জাতীয় মানদণ্ড বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত ও জবাবদিহিতার কাঠামো কী হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি শিক্ষার মানের সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু চাকরিপ্রত্যাশীদের ওপর নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও পড়তে পারে।
এদিকে এনটিআরসিএর বর্তমান নিয়োগ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা, মামলা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগের সুপারিশের কারণে বিভিন্ন জটিলতা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা থেকে বের হতে এনটিআরসিএকে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, বর্তমান ব্যবস্থায় জটিলতা থাকলে সেটি সংস্কার না করে পুরো নিয়োগ কাঠামো পরিবর্তন কতটা যৌক্তিক। তাদের মতে, এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কেন্দ্রীয় মেধাভিত্তিক বাছাইয়ের কাঠামো বাদ দিলে বরং নিয়োগে অনিয়মের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীরা এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দাবিতে সরব হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষক নিয়োগে কমিটি পদ্ধতি বাতিল করে মেধাভিত্তিক কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না বলেন, দেশের লাখো নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত বেশি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তত বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে অনিয়ম, তদবির ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এনটিআরসিএ থেকে সরে কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ, অনিয়মের শঙ্কা
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ পরিবর্তনে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতা কমে গিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তদবিরের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করে সুপারিশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন প্রস্তাবে এনটিআরসিএকে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রত্যয়নপত্রধারীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের কাঠামো বাদ গেলে প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়োগের মানদণ্ডে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। একই যোগ্যতার একাধিক প্রার্থীর মধ্যে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তখন মেধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ, তদবির কিংবা স্থানীয় প্রভাব কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যখন প্রতিষ্ঠানের একটি কমিটির হাতে থাকবে, তখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের মতে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসছেন। এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থাকে সামনে রেখেই অনেকে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এখন নিয়োগের কাঠামো পরিবর্তন হলে তাদের জন্য অভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের আরও আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানের কমিটি যে মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করবে, অন্য প্রতিষ্ঠানে তা নাও হতে পারে। ফলে শিক্ষক নিয়োগে একটি অভিন্ন জাতীয় মানদণ্ড বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত ও জবাবদিহিতার কাঠামো কী হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি শিক্ষার মানের সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু চাকরিপ্রত্যাশীদের ওপর নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও পড়তে পারে।
এদিকে এনটিআরসিএর বর্তমান নিয়োগ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা, মামলা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগের সুপারিশের কারণে বিভিন্ন জটিলতা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা থেকে বের হতে এনটিআরসিএকে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, বর্তমান ব্যবস্থায় জটিলতা থাকলে সেটি সংস্কার না করে পুরো নিয়োগ কাঠামো পরিবর্তন কতটা যৌক্তিক। তাদের মতে, এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কেন্দ্রীয় মেধাভিত্তিক বাছাইয়ের কাঠামো বাদ দিলে বরং নিয়োগে অনিয়মের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীরা এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দাবিতে সরব হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষক নিয়োগে কমিটি পদ্ধতি বাতিল করে মেধাভিত্তিক কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন মুন্না বলেন, দেশের লাখো নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত বেশি কেন্দ্রীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, তত বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে অনিয়ম, তদবির ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।









