শিরোনাম

এনটিআরসিএ নিয়ে রাতারাতি বদলে গেল বার্তা, নথিতে যা আছে

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শেখ শাহরিয়ার হোসেন
এনটিআরসিএ নিয়ে রাতারাতি বদলে গেল বার্তা, নথিতে যা আছে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএ আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না। ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সভায় একমত হওয়ার কথাও রয়েছে। তবে সোমবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে এনটিআরসিএর নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে আসলে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএ-এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কিত সভার কার্যবিবরণীতে শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এনটিআরসিএকে যে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সংস্থাটিকে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি ২০১৫ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে এনটিআরসিএকে দেওয়া সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ব্যবস্থা আর কার্যকর না রাখার বিষয়ে মতৈক্যের কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পরিবর্তে প্রত্যয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়। কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সরাসরি নিয়োগ সুপারিশ চালুর পর বিভিন্ন মামলা, আইনি জটিলতা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সভায় উপস্থিত সবাই একমত হয়েছেন এমন তথ্যও রয়েছে নথিতে।

এই নথির তথ্য সামনে আসার পর শিক্ষক নিবন্ধনপ্রত্যাশী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিশেষ করে কেন্দ্রীয়ভাবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

কারণ, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রার্থী নির্বাচন, মেধাক্রম ও শূন্যপদের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সুপারিশের সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগে সেই কাঠামো কতটা স্বচ্ছ থাকবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

তবে বিতর্কের মধ্যেই সোমবার রাতে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা। শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার উপায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ‘ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি’ বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয় ওই পোস্টে।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সভার কার্যবিবরণীতে ‘সিদ্ধান্ত’, ‘মতৈক্য’ এবং ‘উপস্থিত সবাই একমত’ এ ধরনের কথা উল্লেখ থাকলেও মন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজে বলা হয়েছে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা সিদ্ধান্তগুলোর অবস্থান নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তখন কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘আজ ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কনফারেন্স করা হবে, সেদিন প্রশ্নের উত্তর পাবেন।’ এরপর তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার সিজেডএন টোয়েন্টিফোর যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেককেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দুই ধরনের সরকারি বার্তার কারণে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় নিবন্ধনধারী শিক্ষকপ্রত্যাশীরা দ্রুত সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

/এমআর/