ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কেমেছে ১৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কেমেছে ১৩ শতাংশ
গার্মেন্টস। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৩.৬৫ শতাংশ। প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ। একই সময়ে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও চীনের রপ্তানি বেড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি মূল্য ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। পরিমাণের দিক থেকে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পোশাকের গড় দাম প্রতি কেজিতে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ইইউতে ১ হাজার ৩৭ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে রপ্তানি ছিল প্রায় ১ হাজার ২০১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ সাত মাসে প্রায় ১৬৪ কোটি ইউরোর বাজার হারিয়েছে বাংলাদেশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউ মোট ৫৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা ৫১ হাজার ৬১৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। অর্থাৎ সাত মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ২ হাজার ৭৭৫ মিলিয়ন ইউরো।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইইউর মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৫.১০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার দ্বিগুণের বেশি। অর্থাৎ শুধু বাজারই সংকুচিত হয়নি; বরং বাংলাদেশের অংশও ছোট হয়েছে।

পরিমাণের তুলনায় বাংলাদেশের মূল্যের পতনও অনেক বেশি। এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য কমে যাওয়া।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো হয়েছে। এটি ইইউর প্রধান পোশাক সরবরাহকারীদের মধ্যে সর্বনিম্ন গড় মূল্য।

এদিকে আমদানির পরিমাণ কম হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপের বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ চীন ও ভিয়েতনাম। চীনের রপ্তানি মূল্য ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে।

এখানে ভিয়েতনামের গড় ইউনিট মূল্যও বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর কম্বোডিয়ার গড় মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিসংখ্যানকে কেবল বৈশ্বিক মন্দা বা ব্যবহারকারীর চাহিদা কমার অজুহাত দেওয়া যাবে না। কারণ, একই সময়ে চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে।

/জেএইচ/