সিদ্ধান্ত মানছেন না ব্যবসায়ীরা, বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য

সিদ্ধান্ত মানছেন না ব্যবসায়ীরা, বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য
বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বেকারি পণ্যের প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি দামেই পাউরুটি, বনরুটি, বিস্কুট ও কেক বিক্রি হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি স্থগিতের সিদ্ধান্তে দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও স্বস্তি মিলছে না নিম্নআয়ের মানুষের।

ভোরে ঘুম থেকে উঠেই কাজে বেরিয়ে পড়েন রাজধানীর একটি গণপরিবহনের হেল্পার আবদুল হালিম। সারাদিনের পরিশ্রমের আগে কাছের দোকান থেকে একটি বনরুটি ও এক কাপ চা খেয়ে নেন তিনি। আগে যে নাস্তায় ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হতো, এখন একই খাবারের জন্য গুনতে হচ্ছে আরও বেশি টাকা। সংসারের খরচ মেলাতে গিয়ে তাই নাস্তাতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে তাকে।

আবদুল হালিম বলেন, ‘আগে ১০ টাকার বনরুটি, ১৫ টাকার কেক আর চা খেতাম। এখন বনরুটিই ১৫ টাকা, কেক ২০ টাকা। প্রতিদিন এভাবে বাড়তি টাকা খরচ করা কঠিন। তাই অনেক সময় নাস্তা কমিয়ে করি।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বেকারি পণ্য বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১০ বা ১২ টাকার বনরুটি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও কমানো হয়েছে ওজন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বেকারি পণ্য বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১০ বা ১২ টাকার বনরুটি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও কমানো হয়েছে ওজন। ফলে মূল্যবৃদ্ধি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হলেও ক্রেতারা কিনছেন বেশি দামেই।

রাজধানীর পল্টন এলাকার কয়েকটি চায়ের দোকানে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমজীবী মানুষের নাস্তায়ও পরিবর্তন এসেছে। আগে দিনে দুই থেকে তিনবার চা-নাস্তা করলেও এখন অনেকেই একবার চা খাচ্ছেন। কেউ কেউ চায়ের সঙ্গে বনরুটি বা কেক কেনা বাদ দিয়েছেন।

দিনমজুরদের ভাষ্য, প্রতিদিনের আয় দিয়ে বাসাভাড়া, চাল-ডাল-তেল, যাতায়াত ও পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটানোর পর নিজের খাবারের জন্য খুব বেশি টাকা থাকে না। তাই অল্প পরিমাণ দাম বাড়লেও তা তাদের দৈনন্দিন বাজেটে বড় চাপ তৈরি করে।

এদিকে বেকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, শ্রম ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এসব কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি জালাল উদ্দিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘সবকিছুরই দাম বেড়েছে। আমরা তাই সবকিছুর সঙ্গে সমন্বয় করে দাম বাড়িয়েছি। তবে ২০ শতাংশ দামই বাড়বে, বিষয়টি এমন নয়। প্রতিষ্ঠান তার পণ্যের পরিমাণ ও মান অনুযায়ী অতিরিক্ত দামও রাখতে পারে। তবে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

বেকারি পণ্যের প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
বেকারি পণ্যের প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

এর আগে কাঁচামালের মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কয়েকটির ওজন পুনর্নির্ধারণের কথাও জানানো হয়।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, হাতে তৈরি সাধারণ মানের বিস্কুটের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। বনরুটি ও মাফিন কেকের মতো কিছু পণ্যে দাম অপরিবর্তিত রেখে ৪০ গ্রাম থেকে ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, হাতে তৈরি সাধারণ মানের বিস্কুটের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। বনরুটি ও মাফিন কেকের মতো কিছু পণ্যে দাম অপরিবর্তিত রেখে ৪০ গ্রাম থেকে ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়। আবার ১০ বা ১২ টাকা দামের কিছু বনরুটির দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে।

মূল্য সমন্বয়ের দাবিতে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন বেকারি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুই দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নতুন নির্ধারিত দামে বাজারে পণ্য সরবরাহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বেকারি শিল্পের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের দাম ও সম্প্রতি ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা আপাতত বিস্কুট ও ব্রেডের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হন।

বেকারি পণ্যের প্রকৃত উৎপাদন ও বাজারজাত ব্যয় যাচাই করতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কাঁচামালের মূল্য, কর-শুল্কসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় পর্যালোচনা করে কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনার পাশাপাশি ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা জানানো হয়েছে। এমন ঘোষণার পরও বাজারে বাড়তি দাম বহাল থাকায় নিম্নআয়ের মানুষের নাস্তায় স্বস্তি ফিরছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বেকারি পণ্যের দাম নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর।

/টিই/