বাজেটের অর্থ জোগান নিয়ে চাপে সরকার

বাজেটের অর্থ জোগান নিয়ে চাপে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেশ ধুমধাম করেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট ঘোষণা করেছিল সরকার। তবে অর্থবছরের শুরুতেই বাজেট বাস্তবায়নে অর্থ জোগান দিতে হোচট খেতে হচ্ছে। বিশাল এই বাজেটের বিপরীতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আসছে না। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি; সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড; এবং বড় প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাজেট অর্থায়নে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। কিন্তু সংস্থাটি তুলতে পেরেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এটি শুধু লক্ষ্যমাত্রার চেয়েই কম নয়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে আহরিত ৫৪ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার তুলনায়ও কম।
এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের রাজস্ব আহরণের পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি এনবিআর। এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এরপর আগস্ট ও চলতি মাসে সরকারের এ ঋণের চাহিদা আরেও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
একদিকে বিশাল ঘাটতি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সরকারকে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত সাড়ে ৬ মাসে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে ৩ গুণ এবং অর্থবছরের শুরুর আড়াই মাসে এ খাতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অথচ পুরো অর্থবছরে এলএনজিতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। চলমান দাম বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানির ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি।
এদিকে সরকারি ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে পে-স্কেল। কয়েক ধাপে বর্ধিত বেতন-ভাতার পুরোটা কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বাবদ আরেও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে প্রথমবার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। এই দুই কার্ডে বাজেট ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল কার্ড চালু করারও ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য সরকারকে বাড়তি অর্থ গুণতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাড়তি এসব ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে অতীতের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ঋণ পরিশোধের দায়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে বিদেশী ঋণ ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিপরীতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। অর্থবছর শেষে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে ঋণের সুদ বাবদও বড় অংকের অর্থ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।
এদিকে দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশ থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪২ কোটি ডলারের পণ্য, যা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ১.৬ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৬৪৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৫৯৩ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ। রপ্তানি কমার বিপরীতে এই আমদানি বৃদ্ধিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়াতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে বিওপি ঘাটতি আরও স্ফীত হবে।
বাজেট অর্থায়নের এই পরিস্থিতিকে আরও চাপে ফেলছে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগের স্থবিরতা। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট ও বাজারে চাহিদা কমে চাওয়ায় গতি কমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক মুনাফায়। অর্থনীতির গতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কর আহরণের পরিমাণও কমছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা পাঁচ মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে না। এতে ব্যয় মেটাতে সরকারের ঋণনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে পরিচালন খাতে বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে। এজন্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় পিছিয়ে পড়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার। চলতি অর্থবছরেও এ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশে। এতে একদিকে রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে মূলধনি ব্যয়ের বাস্তবায়নও পিছিয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতের বিনিয়োগই কমছে। এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণে। উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অর্থনীতির গতি ও মানুষের কর্মসংস্থান কমেছে। সেই তুলনায় ব্যয় কমেনি। আর এর প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে। এমতাবস্থায় অর্থনীতির গতি বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তারা।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। আদালতে আটকে থাকা রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব উদ্যোগ থেকে কত দ্রুত এবং কী পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ, রাজস্ব আয় এবং ব্যয় সাশ্রয় সব দিক সমন্বয় করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

বেশ ধুমধাম করেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট ঘোষণা করেছিল সরকার। তবে অর্থবছরের শুরুতেই বাজেট বাস্তবায়নে অর্থ জোগান দিতে হোচট খেতে হচ্ছে। বিশাল এই বাজেটের বিপরীতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আসছে না। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি; সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড; এবং বড় প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাজেট অর্থায়নে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। কিন্তু সংস্থাটি তুলতে পেরেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এটি শুধু লক্ষ্যমাত্রার চেয়েই কম নয়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে আহরিত ৫৪ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার তুলনায়ও কম।
এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের রাজস্ব আহরণের পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি এনবিআর। এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এরপর আগস্ট ও চলতি মাসে সরকারের এ ঋণের চাহিদা আরেও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
একদিকে বিশাল ঘাটতি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সরকারকে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত সাড়ে ৬ মাসে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে ৩ গুণ এবং অর্থবছরের শুরুর আড়াই মাসে এ খাতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অথচ পুরো অর্থবছরে এলএনজিতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। চলমান দাম বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানির ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি।
এদিকে সরকারি ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে পে-স্কেল। কয়েক ধাপে বর্ধিত বেতন-ভাতার পুরোটা কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বাবদ আরেও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে প্রথমবার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। এই দুই কার্ডে বাজেট ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল কার্ড চালু করারও ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য সরকারকে বাড়তি অর্থ গুণতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাড়তি এসব ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে অতীতের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ঋণ পরিশোধের দায়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে বিদেশী ঋণ ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিপরীতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। অর্থবছর শেষে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে ঋণের সুদ বাবদও বড় অংকের অর্থ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।
এদিকে দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশ থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪২ কোটি ডলারের পণ্য, যা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ১.৬ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৬৪৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৫৯৩ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ। রপ্তানি কমার বিপরীতে এই আমদানি বৃদ্ধিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়াতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে বিওপি ঘাটতি আরও স্ফীত হবে।
বাজেট অর্থায়নের এই পরিস্থিতিকে আরও চাপে ফেলছে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগের স্থবিরতা। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট ও বাজারে চাহিদা কমে চাওয়ায় গতি কমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক মুনাফায়। অর্থনীতির গতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কর আহরণের পরিমাণও কমছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা পাঁচ মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে না। এতে ব্যয় মেটাতে সরকারের ঋণনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে পরিচালন খাতে বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে। এজন্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় পিছিয়ে পড়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার। চলতি অর্থবছরেও এ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশে। এতে একদিকে রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে মূলধনি ব্যয়ের বাস্তবায়নও পিছিয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতের বিনিয়োগই কমছে। এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণে। উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অর্থনীতির গতি ও মানুষের কর্মসংস্থান কমেছে। সেই তুলনায় ব্যয় কমেনি। আর এর প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে। এমতাবস্থায় অর্থনীতির গতি বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তারা।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। আদালতে আটকে থাকা রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব উদ্যোগ থেকে কত দ্রুত এবং কী পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ, রাজস্ব আয় এবং ব্যয় সাশ্রয় সব দিক সমন্বয় করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

বাজেটের অর্থ জোগান নিয়ে চাপে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেশ ধুমধাম করেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট ঘোষণা করেছিল সরকার। তবে অর্থবছরের শুরুতেই বাজেট বাস্তবায়নে অর্থ জোগান দিতে হোচট খেতে হচ্ছে। বিশাল এই বাজেটের বিপরীতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আসছে না। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি ও ভর্তুকি; সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড; এবং বড় প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাজেট অর্থায়নে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। কিন্তু সংস্থাটি তুলতে পেরেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এটি শুধু লক্ষ্যমাত্রার চেয়েই কম নয়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে আহরিত ৫৪ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার তুলনায়ও কম।
এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের রাজস্ব আহরণের পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি এনবিআর। এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এরপর আগস্ট ও চলতি মাসে সরকারের এ ঋণের চাহিদা আরেও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
একদিকে বিশাল ঘাটতি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সরকারকে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত সাড়ে ৬ মাসে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে ৩ গুণ এবং অর্থবছরের শুরুর আড়াই মাসে এ খাতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অথচ পুরো অর্থবছরে এলএনজিতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। চলমান দাম বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানির ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি।
এদিকে সরকারি ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে পে-স্কেল। কয়েক ধাপে বর্ধিত বেতন-ভাতার পুরোটা কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বাবদ আরেও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে প্রথমবার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। এই দুই কার্ডে বাজেট ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল কার্ড চালু করারও ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য সরকারকে বাড়তি অর্থ গুণতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাড়তি এসব ব্যয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে অতীতের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ঋণ পরিশোধের দায়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে বিদেশী ঋণ ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিপরীতে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। অর্থবছর শেষে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে ঋণের সুদ বাবদও বড় অংকের অর্থ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।
এদিকে দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশ থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪২ কোটি ডলারের পণ্য, যা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ১.৬ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৬৪৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৫৯৩ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ। রপ্তানি কমার বিপরীতে এই আমদানি বৃদ্ধিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়াতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে বিওপি ঘাটতি আরও স্ফীত হবে।
বাজেট অর্থায়নের এই পরিস্থিতিকে আরও চাপে ফেলছে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগের স্থবিরতা। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট ও বাজারে চাহিদা কমে চাওয়ায় গতি কমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক মুনাফায়। অর্থনীতির গতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কর আহরণের পরিমাণও কমছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা পাঁচ মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে না। এতে ব্যয় মেটাতে সরকারের ঋণনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে পরিচালন খাতে বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে। এজন্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় পিছিয়ে পড়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার। চলতি অর্থবছরেও এ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশে। এতে একদিকে রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে মূলধনি ব্যয়ের বাস্তবায়নও পিছিয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতের বিনিয়োগই কমছে। এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণে। উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অর্থনীতির গতি ও মানুষের কর্মসংস্থান কমেছে। সেই তুলনায় ব্যয় কমেনি। আর এর প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে। এমতাবস্থায় অর্থনীতির গতি বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তারা।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। আদালতে আটকে থাকা রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব উদ্যোগ থেকে কত দ্রুত এবং কী পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ, রাজস্ব আয় এবং ব্যয় সাশ্রয় সব দিক সমন্বয় করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

কঠোর মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেটের সুফল ম্লান হতে পারে: ডিসিসিআই
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য ব্যাংক লুটেরাই দায়ী: গ্রাহক ফোরামের সভাপতি
এনসিটি-সিসিটি ইজারা দিলে অর্থনীতি-জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকির শঙ্কা






