সবুজ শিল্পায়নে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল

সবুজ শিল্পায়নে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের ধারা আরও বেগবান করতে বড় আকারের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে মেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যেন অবশ্যই সহজ ও দ্রুত হয় সে বিষয়ে নজরদারি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবল ফিন্যান্স বিভাগ’ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের ডেলটা প্ল্যান ২১০০, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং জাতীয় টেকসই অর্থায়ন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিল্পখাতকে আরও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই ‘গ্রিন তহবিলের’ আওতায় সুদ ও মেয়াদের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের আওতায় পরিবেশবান্ধব কারখানা বা ভবন নির্মাণের জন্য ঋণ নিলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে মাত্র ৫ শতাংশ। গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো লুকানো খরচ বা ফি নেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ব্যাংক ও ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই ঋণের মেয়াদ হবে ৩ থেকে ১০ বছর। ব্যবসা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড় পাবেন। কোনো একক উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।
জানতে চাইলে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এমন উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। পরিবেশ বাঁচাতে আগামীতে দেশের কারখানাগুলোকে সবুজায়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে এসব খাতে ঋণ পেতে ব্যাংকগুলোকে আন্তরিক হতে হবে।
জানতে চাইলে নিট শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুবিধা উদ্যোক্তাদের সবুজ কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে উৎসাহিত করবে। বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক গ্রিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। অর্থাৎ সারা বিশ্বের গ্রিন ফ্যাক্টরি একসাথে করলেও আমাদের অর্ধেকের কাছাকাছিও হবে না। সারাবিশ্বে র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ২০টি কারখানার মধ্যে ১৯টিই বাংলাদেশের।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগকে আমরা এপ্রিশিয়েট করি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এ বিষয়ে খুব ভালো উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত যে ঋণ সুবিধার শর্ত রাখা হয়েছে তা মাঝারি স্তরের গ্রীন কারখানার পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পর্যাপ্ত হবে। তবে বড় আকারের কারখানার ক্ষেত্রে আর বেশি অর্থায়ন লাগবে। ’
অতীতে ব্যাংকগুলো থেকে ‘গ্রিন লোন’ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল এই তহবিলের অধীন সেই ঋণ ছাড়ানোর প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও দ্রুত হবে কি না জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘বর্তমান গভর্নর এই জায়গাগুলো সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবহিত এবং আমার বিশ্বাস, এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন হবে না।’
অর্থায়নের খাত ও তহবিলের আকার
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠা ও তার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা। এই তহবিলের মোট পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা। এটি একটি আবর্তনশীল তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।
গ্রিন উদ্যোক্তারা যাতে সহজেই এই ঋণ সুবিধা নিতে পারেন, সেজন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, একজন একক গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার থাকবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ হবে ৩ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত। উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হবে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই 'সবুজ অর্থায়ন' দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানা থেকে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ ছাড়া নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব কলকারখানা গড়ে ওঠার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের ধারা আরও বেগবান করতে বড় আকারের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে মেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যেন অবশ্যই সহজ ও দ্রুত হয় সে বিষয়ে নজরদারি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবল ফিন্যান্স বিভাগ’ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের ডেলটা প্ল্যান ২১০০, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং জাতীয় টেকসই অর্থায়ন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিল্পখাতকে আরও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই ‘গ্রিন তহবিলের’ আওতায় সুদ ও মেয়াদের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের আওতায় পরিবেশবান্ধব কারখানা বা ভবন নির্মাণের জন্য ঋণ নিলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে মাত্র ৫ শতাংশ। গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো লুকানো খরচ বা ফি নেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ব্যাংক ও ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই ঋণের মেয়াদ হবে ৩ থেকে ১০ বছর। ব্যবসা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড় পাবেন। কোনো একক উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।
জানতে চাইলে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এমন উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। পরিবেশ বাঁচাতে আগামীতে দেশের কারখানাগুলোকে সবুজায়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে এসব খাতে ঋণ পেতে ব্যাংকগুলোকে আন্তরিক হতে হবে।
জানতে চাইলে নিট শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুবিধা উদ্যোক্তাদের সবুজ কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে উৎসাহিত করবে। বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক গ্রিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। অর্থাৎ সারা বিশ্বের গ্রিন ফ্যাক্টরি একসাথে করলেও আমাদের অর্ধেকের কাছাকাছিও হবে না। সারাবিশ্বে র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ২০টি কারখানার মধ্যে ১৯টিই বাংলাদেশের।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগকে আমরা এপ্রিশিয়েট করি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এ বিষয়ে খুব ভালো উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত যে ঋণ সুবিধার শর্ত রাখা হয়েছে তা মাঝারি স্তরের গ্রীন কারখানার পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পর্যাপ্ত হবে। তবে বড় আকারের কারখানার ক্ষেত্রে আর বেশি অর্থায়ন লাগবে। ’
অতীতে ব্যাংকগুলো থেকে ‘গ্রিন লোন’ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল এই তহবিলের অধীন সেই ঋণ ছাড়ানোর প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও দ্রুত হবে কি না জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘বর্তমান গভর্নর এই জায়গাগুলো সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবহিত এবং আমার বিশ্বাস, এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন হবে না।’
অর্থায়নের খাত ও তহবিলের আকার
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠা ও তার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা। এই তহবিলের মোট পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা। এটি একটি আবর্তনশীল তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।
গ্রিন উদ্যোক্তারা যাতে সহজেই এই ঋণ সুবিধা নিতে পারেন, সেজন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, একজন একক গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার থাকবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ হবে ৩ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত। উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হবে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই 'সবুজ অর্থায়ন' দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানা থেকে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ ছাড়া নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব কলকারখানা গড়ে ওঠার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সবুজ শিল্পায়নে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের ধারা আরও বেগবান করতে বড় আকারের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে মেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যেন অবশ্যই সহজ ও দ্রুত হয় সে বিষয়ে নজরদারি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবল ফিন্যান্স বিভাগ’ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের ডেলটা প্ল্যান ২১০০, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং জাতীয় টেকসই অর্থায়ন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিল্পখাতকে আরও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই ‘গ্রিন তহবিলের’ আওতায় সুদ ও মেয়াদের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের আওতায় পরিবেশবান্ধব কারখানা বা ভবন নির্মাণের জন্য ঋণ নিলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে মাত্র ৫ শতাংশ। গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো লুকানো খরচ বা ফি নেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ব্যাংক ও ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই ঋণের মেয়াদ হবে ৩ থেকে ১০ বছর। ব্যবসা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড় পাবেন। কোনো একক উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।
জানতে চাইলে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এমন উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। পরিবেশ বাঁচাতে আগামীতে দেশের কারখানাগুলোকে সবুজায়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে এসব খাতে ঋণ পেতে ব্যাংকগুলোকে আন্তরিক হতে হবে।
জানতে চাইলে নিট শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুবিধা উদ্যোক্তাদের সবুজ কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণে উৎসাহিত করবে। বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক গ্রিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। অর্থাৎ সারা বিশ্বের গ্রিন ফ্যাক্টরি একসাথে করলেও আমাদের অর্ধেকের কাছাকাছিও হবে না। সারাবিশ্বে র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ২০টি কারখানার মধ্যে ১৯টিই বাংলাদেশের।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগকে আমরা এপ্রিশিয়েট করি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এ বিষয়ে খুব ভালো উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত যে ঋণ সুবিধার শর্ত রাখা হয়েছে তা মাঝারি স্তরের গ্রীন কারখানার পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পর্যাপ্ত হবে। তবে বড় আকারের কারখানার ক্ষেত্রে আর বেশি অর্থায়ন লাগবে। ’
অতীতে ব্যাংকগুলো থেকে ‘গ্রিন লোন’ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল এই তহবিলের অধীন সেই ঋণ ছাড়ানোর প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও দ্রুত হবে কি না জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘বর্তমান গভর্নর এই জায়গাগুলো সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবহিত এবং আমার বিশ্বাস, এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন হবে না।’
অর্থায়নের খাত ও তহবিলের আকার
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠা ও তার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা। এই তহবিলের মোট পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা। এটি একটি আবর্তনশীল তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।
গ্রিন উদ্যোক্তারা যাতে সহজেই এই ঋণ সুবিধা নিতে পারেন, সেজন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, একজন একক গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার থাকবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ হবে ৩ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত। উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দিতে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হবে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই 'সবুজ অর্থায়ন' দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানা থেকে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ ছাড়া নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব কলকারখানা গড়ে ওঠার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।









