আইটিসির যান্ত্রিক ত্রুটি, ভোগান্তিতে ৩৩ ব্যাংকের গ্রাহক

আইটিসির যান্ত্রিক ত্রুটি, ভোগান্তিতে ৩৩ ব্যাংকের গ্রাহক
সিজেডএন ডেস্ক

প্রযুক্তিগত সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের ৩৩টি ব্যাংকের গ্রাহকরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ব্যাংকগুলোর এটিএম ও সিআরএম বুথের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স ও বাংলাপের (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) মতো ডিজিটাল সেবাগুলোও। ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির (আইটিসি) সফটওয়্যার জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি।
আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসি বা আইটিসি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, আর্থিক ও অনার্থিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত পেমেন্ট অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সেবা দেয়। এর মধ্যে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে দেশের অন্তত ৩৩টি ব্যাংক। এই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই দেশজুড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর এটিএম ও পিওএস টার্মিনাল পরিচালিত হয়।
সেবা বন্ধ হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও রয়েছে বিদেশী ব্যাংক।
পিএসওর নেটওয়ার্কে যুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো হলো- আইএফআইসি, যমুনা, উত্তরা, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট, বাংলাদেশ কমার্স, ব্যাংক এশিয়া, মিডল্যান্ড, কমিউনিটি ব্যাংক, ওয়ান, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মেঘনা, মধুমতি, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, এনআরবিসি, শাহ্জালাল ইসলামী, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন্স ব্যাংক।
আর বিদেশী ব্যাংকগুলো হলো- উরি ব্যাংক ও ব্যাংক আলফালাহ। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাত ১০টার পর এ ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, কিউ-ক্যাশ সিস্টেম স্থানান্তরের (মাইগ্রেশন) কারণে ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টা পর্যন্ত এটিএম, সিআরএম, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স এবং বাংলাপে (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) সেবাগুলো বন্ধ থাকবে।’
এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন, কার্ডে কেনাকাটা ও অনলাইন লেনদেনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করে যেসব গ্রাহক বিদেশে গিয়েছেন, তাদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরাও বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করছেন। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইটিসির পক্ষ থেকে এটিএম বুথের লেনদেনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা বন্ধ করে দেওয়াটা নজিরবিহীন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগও করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের এটিএম বুথসহ ডিজিটাল লেনদেন বন্ধের বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’
এ বিষয়ে আইটিসি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী সাইফুদ্দিন মুনির বলেন, ‘বাংলা কিউআর কোডসহ আধুনিক পেমেন্ট সেবাগুলো যুক্ত করতে কিউ-ক্যাশ সিস্টেমের আপগ্রেডেশনের (আধুনিকায়ন) কাজ করা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে নতুন সফটওয়্যারে ডেটা স্থানান্তর করার কথা থাকলেও বিদ্যমান সফটওয়্যার লোড (চাপ) নিতে না পরায় রবিবার রাতেই কাজ শুরু করতে হয়েছে। সিস্টেম আপগ্রেডেশনের বিষয়টি ৩ অক্টোবর সব পক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের ভাষ্য, আইটিসির পক্ষ থেকে তাদের আগে থেকে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে ব্যাংকের এটিএম বুথসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রযুক্তিগত সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের ৩৩টি ব্যাংকের গ্রাহকরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ব্যাংকগুলোর এটিএম ও সিআরএম বুথের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স ও বাংলাপের (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) মতো ডিজিটাল সেবাগুলোও। ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির (আইটিসি) সফটওয়্যার জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি।
আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসি বা আইটিসি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, আর্থিক ও অনার্থিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত পেমেন্ট অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সেবা দেয়। এর মধ্যে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে দেশের অন্তত ৩৩টি ব্যাংক। এই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই দেশজুড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর এটিএম ও পিওএস টার্মিনাল পরিচালিত হয়।
সেবা বন্ধ হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও রয়েছে বিদেশী ব্যাংক।
পিএসওর নেটওয়ার্কে যুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো হলো- আইএফআইসি, যমুনা, উত্তরা, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট, বাংলাদেশ কমার্স, ব্যাংক এশিয়া, মিডল্যান্ড, কমিউনিটি ব্যাংক, ওয়ান, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মেঘনা, মধুমতি, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, এনআরবিসি, শাহ্জালাল ইসলামী, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন্স ব্যাংক।
আর বিদেশী ব্যাংকগুলো হলো- উরি ব্যাংক ও ব্যাংক আলফালাহ। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাত ১০টার পর এ ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, কিউ-ক্যাশ সিস্টেম স্থানান্তরের (মাইগ্রেশন) কারণে ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টা পর্যন্ত এটিএম, সিআরএম, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স এবং বাংলাপে (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) সেবাগুলো বন্ধ থাকবে।’
এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন, কার্ডে কেনাকাটা ও অনলাইন লেনদেনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করে যেসব গ্রাহক বিদেশে গিয়েছেন, তাদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরাও বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করছেন। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইটিসির পক্ষ থেকে এটিএম বুথের লেনদেনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা বন্ধ করে দেওয়াটা নজিরবিহীন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগও করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের এটিএম বুথসহ ডিজিটাল লেনদেন বন্ধের বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’
এ বিষয়ে আইটিসি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী সাইফুদ্দিন মুনির বলেন, ‘বাংলা কিউআর কোডসহ আধুনিক পেমেন্ট সেবাগুলো যুক্ত করতে কিউ-ক্যাশ সিস্টেমের আপগ্রেডেশনের (আধুনিকায়ন) কাজ করা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে নতুন সফটওয়্যারে ডেটা স্থানান্তর করার কথা থাকলেও বিদ্যমান সফটওয়্যার লোড (চাপ) নিতে না পরায় রবিবার রাতেই কাজ শুরু করতে হয়েছে। সিস্টেম আপগ্রেডেশনের বিষয়টি ৩ অক্টোবর সব পক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের ভাষ্য, আইটিসির পক্ষ থেকে তাদের আগে থেকে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে ব্যাংকের এটিএম বুথসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আইটিসির যান্ত্রিক ত্রুটি, ভোগান্তিতে ৩৩ ব্যাংকের গ্রাহক
সিজেডএন ডেস্ক

প্রযুক্তিগত সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের ৩৩টি ব্যাংকের গ্রাহকরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ব্যাংকগুলোর এটিএম ও সিআরএম বুথের লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স ও বাংলাপের (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) মতো ডিজিটাল সেবাগুলোও। ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির (আইটিসি) সফটওয়্যার জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি।
আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসি বা আইটিসি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, আর্থিক ও অনার্থিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত পেমেন্ট অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সেবা দেয়। এর মধ্যে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে যুক্ত রয়েছে দেশের অন্তত ৩৩টি ব্যাংক। এই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই দেশজুড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর এটিএম ও পিওএস টার্মিনাল পরিচালিত হয়।
সেবা বন্ধ হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও রয়েছে বিদেশী ব্যাংক।
পিএসওর নেটওয়ার্কে যুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো হলো- আইএফআইসি, যমুনা, উত্তরা, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট, বাংলাদেশ কমার্স, ব্যাংক এশিয়া, মিডল্যান্ড, কমিউনিটি ব্যাংক, ওয়ান, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মেঘনা, মধুমতি, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, এনআরবিসি, শাহ্জালাল ইসলামী, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন্স ব্যাংক।
আর বিদেশী ব্যাংকগুলো হলো- উরি ব্যাংক ও ব্যাংক আলফালাহ। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাত ১০টার পর এ ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, কিউ-ক্যাশ সিস্টেম স্থানান্তরের (মাইগ্রেশন) কারণে ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টা পর্যন্ত এটিএম, সিআরএম, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স এবং বাংলাপে (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) সেবাগুলো বন্ধ থাকবে।’
এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন, কার্ডে কেনাকাটা ও অনলাইন লেনদেনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর করে যেসব গ্রাহক বিদেশে গিয়েছেন, তাদের বিপদ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরাও বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করছেন। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইটিসির পক্ষ থেকে এটিএম বুথের লেনদেনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা বন্ধ করে দেওয়াটা নজিরবিহীন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগও করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের এটিএম বুথসহ ডিজিটাল লেনদেন বন্ধের বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’
এ বিষয়ে আইটিসি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী সাইফুদ্দিন মুনির বলেন, ‘বাংলা কিউআর কোডসহ আধুনিক পেমেন্ট সেবাগুলো যুক্ত করতে কিউ-ক্যাশ সিস্টেমের আপগ্রেডেশনের (আধুনিকায়ন) কাজ করা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে নতুন সফটওয়্যারে ডেটা স্থানান্তর করার কথা থাকলেও বিদ্যমান সফটওয়্যার লোড (চাপ) নিতে না পরায় রবিবার রাতেই কাজ শুরু করতে হয়েছে। সিস্টেম আপগ্রেডেশনের বিষয়টি ৩ অক্টোবর সব পক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের ভাষ্য, আইটিসির পক্ষ থেকে তাদের আগে থেকে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে ব্যাংকের এটিএম বুথসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঢাবিতে চালু হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের দুই এটিএম বুথ
২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, বেড়েছে খেলাপি ঋণ







