আদালত থেকে পালালো আসামি: কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালত থেকে পালালো আসামি: কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
আদালত থেকে হাতকড়া খুলে পালাচ্ছেন শরিফুল ইসলাম

আদালত থেকে হাতকড়া খুলে বিচারাধীন আসামি শরিফুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কারাগার থেকে শরিফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় ওই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল আব্দুল আলিমের দায়িত্বে ছিলেন শরিফুল। এ সময় কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল আব্দুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কীভাবে একজন বিচারাধীন আসামি হাতকড়া খুলে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেলেন এবং এতে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে, খিলগাঁও থানায় কিশোর জিসান হোসেন হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে নেওয়া হয়েছিল আসামি শরিফুলকে। শুনানি নিয়ে এজলাস থেকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান তিনি।

এ ঘটনায় ওই দিনই হাজতখানার ইনচার্জ রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া শরিফুলকে ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছিলো। তবে দ্বিতীয়বারও পুলিশের হেফাজত থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা ও আসামি পরিবহনের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

/এসবি/