টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ
গাজীপুরে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তে শনিবার মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী জানান, আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটি ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। বিচারক তার বক্তব্য জবানবন্দি হিসেবে রেকর্ড করেছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনার তদন্তে মাদ্রাসায় যায় পুলিশ। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এরপর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা জানায়।

এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পর শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলে দাবি তার। এসব অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। তার ভাষ্য, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কাউকে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়।

শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

/এমআর/