বগুড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বগুড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার মোকামতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় করা অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় এসআই আনছার আলীর। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের বাথরুম ও একটি নির্জন ইটভাটায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।

এ ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগটি তদন্ত করছেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম। তবে ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই।

অভিযোগকারী তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় একই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে স্বামী তাকে তালাক দিলে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আনছার আলী। গত বছরের ৪ নভেম্বর তদন্তের সূত্রে তাঁদের পরিচয় হয়।

তরুণীর দাবি, তদন্তের সময় আনছার আলী তার স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে দেন। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বামীর সঙ্গে তার আবার বিয়ে হয়। এর মধ্যে এসআইয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। স্বামী ঢাকায় থাকার সুযোগে আনছার আলী তাকে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। পুলিশ তদন্তকেন্দ্রেও তাদের দেখা হতো।

একপর্যায়ে তাকে ফুসলিয়ে তদন্তকেন্দ্রের বাথরুমে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাতে আসামি ধরতে তাদের গ্রামে গেলে আনছার আলী তার সঙ্গে দেখা করতেন। একদিন গ্রামের এক ব্যক্তি তাদের একসঙ্গে দেখে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তার স্বামীও তা জানতে পারেন। এরপর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের আবার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।

লিখিত অভিযোগে তরুণী উল্লেখ করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আনছার আলী তাঁকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। রাত নয়টার দিকে একটি নির্জন ইটভাটায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন বিয়ের জন্য চাপ দিলে আনছার আলী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপরই তিনি পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন।

ওই তরুণীর আরও দাবি, আনছার আলী প্রতিদিন তাকে অসংখ্যবার ভিডিও কল করতেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতেন। এসবের ভিডিও ক্লিপ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া এসআইয়ের পক্ষ নিয়ে তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রায়হান তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এএসআই রায়হান বলেন, ওই তরুণী মাঝেমধ্যে তদন্তকেন্দ্রে আসতেন। কয়েক দিন আগে তিনি ডাইনিং রুমে ঘোরাফেরা করছিলেন। তখন তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই আনছার আলী বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওই তরুণী তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই তাদের পরিচয় হয়। পরে সরল বিশ্বাসে কিছুদিন কথা বলেছেন। তবে ধর্ষণ কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ সত্য নয়।

আনছার আলী আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

মোকামতলা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী বলেন, তিনি চার মাস আগে সেখানে যোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ওই তরুণীও তার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী তরুণীকে সাক্ষ্য-প্রমাণসহ তার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

/এমআর/