পেটে গজ রেখে সেলাই, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নার্স বিথী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
পেটে গজ রেখে সেলাই, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নার্স বিথী
হাসপাতালের শয্যায় স্বামীর সঙ্গে বিথী আক্তার, (ইনসেটে) অসুস্থ হওয়ার আগে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

একটি ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়ে সুখের সংসার মধুময় করতে চেয়েছিল বিথী আক্তার। কে জানতো চিকিৎসকের অবহেলায় তছনছ হবে জীবন। তিনি নিজে একজন নার্স। তাই চিকিৎসকের প্রতি অন্য রোগীদের থেকে বেশি ভরসা ছিল।

কোন বেসরকারি হাসপাতালের উন্নত চিকিৎসা না নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে গত ৬ মে সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসেকরা ভুল করে পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন।

কয়েকদিন পর সুস্থ হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতা বাড়তে থাকে বিথীর। দেড় মাস পর বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের ডাক্তার দেখালে পেটে গজ রেখে সেলাই করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করে পেট থেকে গজ বের করা হয়।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ৬ মে ডা. তামান্না ও ডা. অরবিন্দের তত্ত্বাবধানে বিথীর সিজার হয়। অপারেশনের পর থেকেই শুরু হয় তীব্র পেট ব্যথা। প্রায় দেড় মাস পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করলে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়।

রাকিবুল বলেন, ডাক্তার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পেটে গজ থাকায় সংক্রমণে নাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হার্টেরও সমস্যা হয়ে গেছে। পরে তাকে বাইপাস সার্জারি করাতে হয়। ৬১ কেজি ওজনের বিথীর ওজন এখন মাত্র ৩৯ কেজি। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু ডা. তামান্না ও ডা. অরবিন্দ কেউ মানবিকতা দেখাতেও বিথীর নূন্যতম খোঁজ নেয়নি।

অসুস্থ বিথী আক্তার বলেন, ডাক্তারদের অবহেলায় আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেল। আমার চার মাসের সন্তানকে আমি কোলে নিতে পারি না। একটু আদর করতে পারি না। আমার অবস্থা ভালো না। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছি। অর্থ সংকটে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছি না। আমি হয়তো বাচঁবো না। কিন্তু আমার সঙ্গে যারা এমন করলো তাদের যেন বিচার হয়। যেন অবহেলার কারণে আর কোন মায়ের কোল খালি না হয়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এর আগে গত ২৯ জুন ফরিদপুর শমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্ত পেটে গজ রেখে কনিকা মন্ডল নামে এক রোগীর সিজার করে পেট সেলাই করে দেন। এরপর কনিকা অসুস্থ হয়ে ১৯ আগষ্ট ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় ফরিদপুরে। ২১ আগষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কনিকার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার বাঘুটিয়া গ্রামে গিয়ে তার পরিবারকে শান্তনা দেন এবং এই ঘটনার বিচারের আশ্বাস দেন।

কনিকার মৃত্যুর এক মাস পর এবার নার্স বিথী আক্তারের ঘটনা সামনে আসলো। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে না পারায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর পথে অগ্রসর হচ্ছে বিথী। তার পরিবার সরকারের কাছে বিথীর উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত ডা. তামান্না বর্তমানে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে ঢাকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বক্তব্যের জন্য হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

/এসআর/