শিরোনাম

সিলিন্ডার গ্যাস পেতে ৩০০ টাকা বেশি গুনতে হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
সিলিন্ডার গ্যাস পেতে ৩০০ টাকা বেশি গুনতে হয়
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের নানা পদক্ষেপেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজার। বর্তমানে সিলিন্ডার গ্যাস পেতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি। তারপরও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমিয়েছে ১৫ টাকা। নতুন আদেশে খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪১ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকায়। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্যে ফরিদপুর জেলার কোথাও গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসিন্দা নাসির হোসেন বলেন, দাম কমানোর পরও ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিয়ে। তা দেখার কেউ নেই। আমাদের অভিযোগ করারও কোনো জায়গা নেই।

খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা নিলয় বালা বলেন, গ্যাসের দাম বেশি হওয়ায় সংসারে খরচের চাপ বাড়ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

গোয়ালচামট এলাকার খুচরা গ্যাস ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ১৫০০ টাকার নিচে কোনো গ্যাস কিনতে পারছি না। বেক্সিমকোর গ্যাস ১৫৫০ টাকায় আমাদের কিনতে হচ্ছে। তারপর বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ৫০ টাকা মুনাফা করছি।

দোকান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
দোকান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ওমেরা ও বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের এলপিজি ডিলার মো. আব্দুল করিম বলেন, কোম্পানিগুলো থেকে আমরা সরকারের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারছি না। গ্যাস আনতে গিয়ে কোম্পানির ডিপোতে দিনের পর দিন ট্রাক আটকে থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। সমস্যা কোম্পানিতে, সমাধান সেখান থেকেই হতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কোনো তদারকি নেই। এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সরকারের সঙ্গে বসে দাম নির্ধারণ করে। কিন্তু ডিলারদের সঙ্গে সেই দাম সমন্বয় করে না তারা। ফলে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, আমরা যদি কম দামে কিনতে পারি তাহলে কেন বেশি দামে বিক্রি করবো। আমাদের ভাউচার সরবরাহ করা হয় না। এ নিয়ে কথা বললে সাপ্লাই বন্ধ করে দেয়। সমস্যা ওপরে, সমাধানও ওপর থেকে আসতে হবে।

ফরিদপুরের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ফরিদপুরের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুইবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা করেছি। কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। তাই খুচরা ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে পারছেন না।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, গ্যাসের দাম বেশি নেওয়ার বিষয়ে ভোক্তা পর্যায়ে থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে দাম বেশি রাখলে ভ্রামমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ভোক্তা পর্যায়ে ১৩৪১ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

/এসআর/