শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টা, ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুর সংবাদদাতা
ফরিদপুর সংবাদদাতা
শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টা, ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত ইমাম আরিফুল ইসলাম

ফরিদপুরে ১০ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার দায়ে আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে এক ইমামকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে এ আদেশ দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন।

রায় ঘোষণার সময় আরিফুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের পুরুরা গ্রামের খবির মোল্লার ছেলে। তিনি পাশ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পাশাপাশি মসজিদে শিশুদের মক্তবের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল ইসলাম প্রতিদিন ভোরে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মসজিদের মাইকের মাধ্যমে শিশুদের ডাকতেন। ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে বৃষ্টি হওয়ায় মাইকে ডাকেননি। এরমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুটি মসজিদে চলে যায়। এরপর শিশুটিকে একা পেয়ে পা টিপাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে গোপনাঙ্গ ধরিয়ে বিকৃত আচরণ করেন। এছাড়া শিশুটিকে বলাৎকারের চেষ্টা চালায়। ওই সময় শিশুটি কৌশলে দরজা খুলে দৌঁড়ে বের হয় এবং বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি পরিবারকে জানায়। এমন খবরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মসজিদে গিয়ে আরিফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

এ ঘটনায় ওই দিন নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুটির মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, যাদের দায়িত্ব ছিল শিশুদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার, তাদের দ্বারা এ ধরনের অপকর্ম মেনে নেওয়ার মতো নয়। সুতরাং এ রায়ে মধ্যে দিয়ে সমাজ এমন অপকর্ম থেকে রক্ষা পাবে।

/এসবি/