জুরাইন-শ্যামপুরে প্রতি ১০ ঘরের পাঁচটিতেই ডেঙ্গু রোগী

জুরাইন-শ্যামপুরে প্রতি ১০ ঘরের পাঁচটিতেই ডেঙ্গু রোগী
রাজধানীর শ্যামপুরের সরদার মার্কেটে রাস্তার পাশের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। এতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার জন্ম হওয়ায় এই এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর পূর্ব জুরাইনের ঋষিপাড়ার বাসিন্দা আদ্রিতা। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ তার। জুরাইন আলম মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রবিউল আলমের স্ত্রীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। তিনি মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই এলাকায় একের পর একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পড়ায় বাসিন্দারা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

জুরাইনের মতো শ্যামপুর এলাকায়ও ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই দুই এলাকার প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে পাঁচটি পরিবারে রয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ি বা ভবনের চারপাশ ও অলিগলিতে নিয়মিত মশা মরার ওষুধ ছিটানো হয় না। এতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বাড়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা গেছে, জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। কোথাও কোথাও ময়লার স্তূপ। ময়লা আটকে ড্রেনের পানি সরছে না। বেশকিছু স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। ঘনবসতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জুরাইনের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই তিন মাসে তাদের এলাকায় ডেঙ্গুতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবার আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত মাসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জুরাইন রেলগেট ও বিক্রমপুর প্লাজার সামনে মশারি ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।

জুরাইন আলম মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের মহল্লায় প্রায় ৯০-১০০ জন লোক বাস করে। এর মধ্যে ২৫ জনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।’ তিনি আরও জানান, তাদের এলাকার এক বড় ভাই তিন-চার দিন আগে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।

শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা জাহিদ পারভেজ বলেন, ‘এবার আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। আমাদের এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ। বেশিরভাগ পরিবারে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় অনেককে হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।

শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, মশকনিধনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। ইউনুস পাটোয়ারী নামে শ্যামপুরের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘এত ময়লার মধ্যে হালকা করে ওষুধ ছিটালেতো মশা মরবে না। আমার পরিবারের দুইজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সবসময় এসব নিয়ে চিন্তিত থাকি। যেসব স্থানে পানি জমে আছে, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সেসব স্থান পরিষ্কার করতে হবে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের ব্যবস্থা না নিলে শুধু ধোঁয়া দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

রাজধানীর জুরাইন এলাকার একটি বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর জুরাইন এলাকার একটি বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একাধিক কর্মকর্তা জানান, জুরাইন-শ্যামপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। এখানে সরু গলি, ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এসব এলাকায় নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় মশকনিধনে যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ওই দুই এলাকায় ডেঙ্গু তুলনামূলক কমই আছে। আমরা প্রতিনিয়তই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। ওই এলাকাগুলোতে আসলেই অবস্থা খারাপ হলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

/বিবি/