সচিবালয় স্থানান্তরে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের আপত্তি কেন

সচিবালয় স্থানান্তরে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের আপত্তি কেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার কাজ করা হয়। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে গবেষণার জায়গা হারানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার মাঠটিতে মেলার জন্য নির্মাণাধীন দুটি স্থাপনা ভাঙচুর করেন তাদের একটি অংশ। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেছেন, মাঠটি শেকৃবির সম্পত্তি বলে শিক্ষার্থীরা যে দাবি করছেন, তা সঠিক নয়। জায়গাটি গণপূর্তের নামে রয়েছে। এরপরও শিক্ষার্থীরা কেন এ দাবি করছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৯ সালে নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় পুরান ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে। পুরোনো ভবনগুলোর কয়েকটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং আরেকটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল করে তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া জায়গার স্বল্পতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
নতুন সচিবালয়ের জন্য শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় তিনটি বেসমেন্টসহ ১৪টি ১২তলা ভবন রাখার কথা রয়েছে। এসব ভবনের মোট আয়তন হবে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট। সেখানে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, মসজিদ, দুটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
মাঠটি নিজেদের বলছেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। একই সময়ে সেখানে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও এক সপ্তাহব্যাপী যুব মেলার প্রস্তুতি চলছিল। এ জন্য মাঠে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছিল। গতকাল দুপুরের আগে শেকৃবির শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। এর আগের দিনও তারা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি বলে তারা দাবি করছেন। তাদের ভাষ্য, আশির দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে বাণিজ্য মেলার আয়োজনের জন্য সাময়িকভাবে জায়গাটি নেওয়া হয়েছিল। পরে তা আর বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়া হয়নি। মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে চিঠি চালাচালি হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জায়গা সম্পর্কে জেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি এবং কৃষি গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তাদের মতে, ঢাকার মতো জনবহুল নগরের প্রাণকেন্দ্রে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য হুমকি তৈরি করবে।
শিক্ষার্থীরা চিঠিতে তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জায়গা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেকৃবির এক শিক্ষার্থী বলেন, মাঠটির আশপাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সেখানে কোনোভাবেই সচিবালয় নির্মাণ করতে দেবেন না বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার কাজ করা হয়। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে গবেষণার জায়গা হারানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার মাঠটিতে মেলার জন্য নির্মাণাধীন দুটি স্থাপনা ভাঙচুর করেন তাদের একটি অংশ। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেছেন, মাঠটি শেকৃবির সম্পত্তি বলে শিক্ষার্থীরা যে দাবি করছেন, তা সঠিক নয়। জায়গাটি গণপূর্তের নামে রয়েছে। এরপরও শিক্ষার্থীরা কেন এ দাবি করছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৯ সালে নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় পুরান ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে। পুরোনো ভবনগুলোর কয়েকটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং আরেকটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল করে তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া জায়গার স্বল্পতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
নতুন সচিবালয়ের জন্য শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় তিনটি বেসমেন্টসহ ১৪টি ১২তলা ভবন রাখার কথা রয়েছে। এসব ভবনের মোট আয়তন হবে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট। সেখানে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, মসজিদ, দুটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
মাঠটি নিজেদের বলছেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। একই সময়ে সেখানে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও এক সপ্তাহব্যাপী যুব মেলার প্রস্তুতি চলছিল। এ জন্য মাঠে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছিল। গতকাল দুপুরের আগে শেকৃবির শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। এর আগের দিনও তারা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি বলে তারা দাবি করছেন। তাদের ভাষ্য, আশির দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে বাণিজ্য মেলার আয়োজনের জন্য সাময়িকভাবে জায়গাটি নেওয়া হয়েছিল। পরে তা আর বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়া হয়নি। মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে চিঠি চালাচালি হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জায়গা সম্পর্কে জেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি এবং কৃষি গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তাদের মতে, ঢাকার মতো জনবহুল নগরের প্রাণকেন্দ্রে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য হুমকি তৈরি করবে।
শিক্ষার্থীরা চিঠিতে তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জায়গা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেকৃবির এক শিক্ষার্থী বলেন, মাঠটির আশপাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সেখানে কোনোভাবেই সচিবালয় নির্মাণ করতে দেবেন না বলেও জানান তিনি।

সচিবালয় স্থানান্তরে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের আপত্তি কেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার কাজ করা হয়। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে গবেষণার জায়গা হারানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার মাঠটিতে মেলার জন্য নির্মাণাধীন দুটি স্থাপনা ভাঙচুর করেন তাদের একটি অংশ। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেছেন, মাঠটি শেকৃবির সম্পত্তি বলে শিক্ষার্থীরা যে দাবি করছেন, তা সঠিক নয়। জায়গাটি গণপূর্তের নামে রয়েছে। এরপরও শিক্ষার্থীরা কেন এ দাবি করছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৯ সালে নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় পুরান ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতার আগে। পুরোনো ভবনগুলোর কয়েকটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং আরেকটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়। ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল করে তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া জায়গার স্বল্পতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
নতুন সচিবালয়ের জন্য শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় তিনটি বেসমেন্টসহ ১৪টি ১২তলা ভবন রাখার কথা রয়েছে। এসব ভবনের মোট আয়তন হবে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট। সেখানে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, মসজিদ, দুটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
মাঠটি নিজেদের বলছেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। একই সময়ে সেখানে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও এক সপ্তাহব্যাপী যুব মেলার প্রস্তুতি চলছিল। এ জন্য মাঠে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছিল। গতকাল দুপুরের আগে শেকৃবির শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেন। এর আগের দিনও তারা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি বলে তারা দাবি করছেন। তাদের ভাষ্য, আশির দশকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে বাণিজ্য মেলার আয়োজনের জন্য সাময়িকভাবে জায়গাটি নেওয়া হয়েছিল। পরে তা আর বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়া হয়নি। মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে চিঠি চালাচালি হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জায়গা সম্পর্কে জেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি এবং কৃষি গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তাদের মতে, ঢাকার মতো জনবহুল নগরের প্রাণকেন্দ্রে সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য হুমকি তৈরি করবে।
শিক্ষার্থীরা চিঠিতে তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জায়গা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেকৃবির এক শিক্ষার্থী বলেন, মাঠটির আশপাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সেখানে কোনোভাবেই সচিবালয় নির্মাণ করতে দেবেন না বলেও জানান তিনি।









