তেলের দাম বাড়লেও আগের ভাড়াতেই চলছে রাজধানীর বাস

তেলের দাম বাড়লেও আগের ভাড়াতেই চলছে রাজধানীর বাস
রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনেরর সারি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দাম সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রথম প্রহর থেকেই কার্যকর হয়েছে। দাম বাড়ানোর অজুহাতে দূরপাল্লার পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর কিছু গণপরিবহনেও প্রতি স্টপেজে ৫ টাকা করে বেশি চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অধিকাংশ গণপরিবহনে এখনো কোনো প্রভাব পড়েনি। আগের নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছেন বেশিরভাগ বাসের চালক ও কন্ডাক্টর।

রাজধানীর সদরঘাট, ওয়ারী, পল্টন, শাহবাগ, গুলিস্তান, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহনের চালক, কন্ডাক্টর, সুপারভাইজার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য, সরকার নতুন করে বাসভাড়া নির্ধারণ না করায় তারা পুরোনো ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছেন।

গুলিস্তান-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী আজমেরী গ্লোরী বাসের এক চালক বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু নতুন ভাড়ার কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। তাই যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মালিক বা শ্রমিকরা নিজেরা নিতে পারে না। নতুন চার্ট না আসা পর্যন্ত আগের ভাড়াতেই আমাদের বাস চালাতে হবে।’

দুপুরে ওয়ারী এলাকায় ধূপখোলা-মোহাম্মদপুর-ঘাটারচর রুটে চলাচলকারী মালঞ্চ বাসের একজন কন্ডাক্টর বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্টপেজে বাড়তি ৫ টাকা করে ভাড়া চাচ্ছি। তবে সব যাত্রী বাড়তি টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন না। আগের ভাড়ায় বাস চালিয়ে খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন ভাড়ার তালিকা না থাকায় বাড়তি টাকা চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। সরকারি চার্ট ছাড়া বেশি ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীরা প্রশ্ন করেন। নতুন ভাড়া ঠিক হলে তখন সেই অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হবে।

শাহবাগ থেকে মতিঝিলগামী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হয়। ভাড়া ৫ বা ১০ টাকা বাড়লেও মাস শেষে সেটা বড় খরচ হয়ে দাঁড়ায়। আজ বাড়তি ভাড়া নেয়নি, এটা স্বস্তির। তবে সামনে ভাড়া বাড়লে আমাদের যাতায়াত খরচও বাড়বে।’

এদিকে তেলের দাম বাড়ায় সামনে বাসভাড়া বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। তবে অধিকাংশ বাসে পুরোনো ভাড়া নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

গুলিস্তান থেকে ধানমন্ডি যাওয়ার জন্য রজনীগন্ধা বাসে উঠেছেন রিফাত রায়হান মিলন। তিনি বলেন, ‘বিকালে বাসে উঠেই ভাবছিলাম তেলের দাম বাড়ায় হয়তো বাড়তি ভাড়া চাইবে। কিন্তু আগের ভাড়াই নিয়েছে। নতুন ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো ভাড়ায় চলাচল করতে পারা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভালো।’

শাহবাগ থেকে মতিঝিলগামী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হয়। ভাড়া ৫ বা ১০ টাকা বাড়লেও মাস শেষে সেটা বড় খরচ হয়ে দাঁড়ায়। আজ বাড়তি ভাড়া নেয়নি, এটা স্বস্তির। তবে সামনে ভাড়া বাড়লে আমাদের যাতায়াত খরচও বাড়বে।’

আরেক যাত্রী বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার প্রভাব একসঙ্গে অনেক জায়গায় পড়ে। বাসভাড়া বাড়লে শুধু কর্মজীবী নয়, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপরও চাপ বাড়বে। তাই নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগে বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।’

এদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটের বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এসি, নন-এসি প্রায় সব বাসেই বাড়তি টাকায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। সর্বশেষ নির্ধারিত দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে। এর আগে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা ছিল। একধাপে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দেশে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত দাম সমন্বয় না করায় সরকারকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়েই উপায়হীন হয়ে অজনপ্রিয় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

/এফসি/