শিরোনাম

ডিএসসিসির বাজেট ঘোষণা: স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২১ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএসসিসির বাজেট ঘোষণা: স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২১ কোটি টাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঘোষিত বাজেটে স্বাস্থ্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে বাজেট ঘোষণা করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

বাজেটে শ্রমিক (অনিয়মিত) মজুরি ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। সরবরাহ উপকরণ ও সাধারণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল, ওয়েল এবং লুব্রিকেন্টের জন্য ৪ কোটি টাকা, মশক নিধন কীটনাশকের জন্য ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফগার, হুইল এবং স্প্রে-মেশিন পরিবহনের জন্য ২ কোটি টাকা এবং ঔষধ ও প্রতিষেধকের জন্য ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি'র (মশক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বাজেটে আবর্তক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া, মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে লার্ভিসাইডিং ও বিকালে এডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম নিয়মিত করা হয়েছে। মশককর্মী ও মশক সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সঠিক নিয়মে ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম নিশ্চিতকরণে ডিএসসিসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে।

আবদুস সালাম বলেন, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, মশক নিধনে বিকল্প পদ্ধতি বা ঔষধের জন্য বিশেষজ্ঞ দলের নিকট হতে নিয়মিত সুপারিশ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নাগরিকদের সম্পৃক্তকরণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অঞ্চলভিত্তিক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নাগরিদের সম্পৃক্ত ও সচেতন করতে জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন, সোশাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট নির্মাণ ও প্রচার, টিভিসি নির্মাণ ও প্রচার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রচার ও জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে এ বছর প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ করা হয়েছে। জরিপে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট সূচকের চেয়ে বেশি ঘনত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওয়ার্ডসমূহে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জনসচেতনতার পাশাপাশি জনগণকে দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ করার জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সতর্ক করার পরেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা করার পাশাপাশি লাল চিহ্ন দ্বারা বাসা বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

/এসবি/