ফুটওভার ব্রিজ এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপারে পথচারীরা

ফুটওভার ব্রিজ এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপারে পথচারীরা
মেহেদী হাছান মাহীম

সড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না অনেক পথচারী। নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এড়িয়ে সরাসরি সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এছাড়াও, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরটি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এ গোলচত্বর দিয়ে গাবতলী, মিরপুর-১০ ও জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে এলাকাটিতে যানবাহন ও পথচারীদের ব্যাপক চলাচল চোখে পড়ে।

তবে এমন ব্যস্ত একটি এলাকায় পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও, সেটি তুলনামূলক কম ব্যবহার করতে দেখা যায়। অনেক পথচারী ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ফলে পথচারীদের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, তেমনি যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন। ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও কেন পথচারীদের একটি অংশ সেটি ব্যবহার করছেন না—এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা এএসআই মিলন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন,
আমরা পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে সবসময় বলি। অনেকে কথা শোনেন, আবার অনেকে শোনেন না। তবে বেশিরভাগ পথচারী ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পারাপার হচ্ছেন।
দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজটির তিন ভাগে মোট ছয়টি সিঁড়ি রয়েছে। প্রতিটি সিঁড়িতে ৩৮টি করে সবমিলিয়ে ব্রিজটিতে প্রায় ২২৮টি ধাপ রয়েছে। ফুটওভার ব্রিজটি স্টিলের কাঠামোর ওপর নির্মিত এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য এতে স্টিলের ছাউনি রয়েছে। এছাড়া স্টিলের পিলার, ট্রাস, রেলিং ও ক্রস-ব্রেসিং ব্যবহার করা হয়েছে। পথচারীদের নিরাপত্তায় দুই পাশে রেলিং এবং মাঝামাঝি অংশে কালো শিটের পার্টিশন রয়েছে। ছাউনির নিচে বৈদ্যুতিক তার ও ঝুলন্ত লাইটও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিজটির দুপাশে বিভিন্ন ফুলের গাছ রয়েছে।
‘ঝুঁকি এড়াতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছি’
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হওয়া মো. আনাস বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে আমি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছি। সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হতে গেলে দুর্ঘটনার শিকারও হতে পারি। এত রিস্ক নিয়ে রাস্তা পারাপার হবো কেন?’

রিয়াজ নামের আরেকজন পথচারী বলেন, ‘সবার ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উচিত। রিস্ক নিয়ে সড়ক দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। যেভাবে যানবাহন চলাচল করে, যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মো. ইমাম ফুটওভার ব্রিজের পাশে চায়ের দোকান করেন প্রায় ৫ বছর ধরে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন হাজারখানেক মানুষ এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন। তবে, বেশিরভাগ মানুষ সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হন।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের মার্চ মাসে একজন মহিলা সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় অচিম পরিবহনের সঙ্গে ধাক্কা খান। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে তিনি বেঁচে ফিরেছেন।’
সময় বাঁচাতেই সরাসরি সড়ক পারাপার
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা পথচারী জাহিদ বলেন,
ফুটওভার ব্রিজে উঠতে সময় লাগে। এরচেয়ে নিচ দিয়ে তাড়াতাড়ি সড়ক পার হয়ে যেতে পারি। এতে সময় বেঁচে যায়।
তবে এভাবে পারাপারে ঝুঁকি রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মিলন নামের আরেক পথচারীও একই কথা বলেছেন। তার মতে, সময় বাঁচাতে তারা সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হন।

সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও কেন ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াসিন আরাফাত নামের এক পথচারী বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজে এত কষ্ট করে উঠতে ইচ্ছে করে না। আমার কাছে এটা বোরিং ফিল হয়। এজন্য আমি সড়ক দিয়ে পারাপার হই।’
পথচারী নিয়ন্ত্রণে কঠোরতার দাবি
এদিকে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের মতে, কেউ যাতে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার না হতে পারে, এজন্য ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশকে কঠোর হওয়ার দাবি জানান। মাহমুদ হাসান নামের একজন বলেন, ‘মানুষের জীবন আগে। কিছু সময় বাঁচানোর জন্য এভাবে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দরকার নেই। ট্রাফিক পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত।’
অচিম পরিবহনের চালক মো. হাসান বলেন, ‘প্রায় সময় এই পথচারীরা বাসের সামনে চলে আসে। এতে যেকোনো সময় দূর্ঘটনা হতে পারে। পরে মানুষ আবার আমাদের দোষ দেয়। পথচারীদের কোনো দোষ তখন আর কেউ দেখে না। এত বড় ফুটওভার ব্রিজ আছে, তারপরও এভাবে রাস্তা পারাপার হওয়া কি বেশি জরুরি?’

সড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না অনেক পথচারী। নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এড়িয়ে সরাসরি সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এছাড়াও, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরটি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এ গোলচত্বর দিয়ে গাবতলী, মিরপুর-১০ ও জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে এলাকাটিতে যানবাহন ও পথচারীদের ব্যাপক চলাচল চোখে পড়ে।

তবে এমন ব্যস্ত একটি এলাকায় পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও, সেটি তুলনামূলক কম ব্যবহার করতে দেখা যায়। অনেক পথচারী ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ফলে পথচারীদের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, তেমনি যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন। ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও কেন পথচারীদের একটি অংশ সেটি ব্যবহার করছেন না—এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা এএসআই মিলন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন,
আমরা পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে সবসময় বলি। অনেকে কথা শোনেন, আবার অনেকে শোনেন না। তবে বেশিরভাগ পথচারী ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পারাপার হচ্ছেন।
দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজটির তিন ভাগে মোট ছয়টি সিঁড়ি রয়েছে। প্রতিটি সিঁড়িতে ৩৮টি করে সবমিলিয়ে ব্রিজটিতে প্রায় ২২৮টি ধাপ রয়েছে। ফুটওভার ব্রিজটি স্টিলের কাঠামোর ওপর নির্মিত এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য এতে স্টিলের ছাউনি রয়েছে। এছাড়া স্টিলের পিলার, ট্রাস, রেলিং ও ক্রস-ব্রেসিং ব্যবহার করা হয়েছে। পথচারীদের নিরাপত্তায় দুই পাশে রেলিং এবং মাঝামাঝি অংশে কালো শিটের পার্টিশন রয়েছে। ছাউনির নিচে বৈদ্যুতিক তার ও ঝুলন্ত লাইটও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিজটির দুপাশে বিভিন্ন ফুলের গাছ রয়েছে।
‘ঝুঁকি এড়াতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছি’
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হওয়া মো. আনাস বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে আমি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছি। সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হতে গেলে দুর্ঘটনার শিকারও হতে পারি। এত রিস্ক নিয়ে রাস্তা পারাপার হবো কেন?’

রিয়াজ নামের আরেকজন পথচারী বলেন, ‘সবার ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উচিত। রিস্ক নিয়ে সড়ক দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। যেভাবে যানবাহন চলাচল করে, যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মো. ইমাম ফুটওভার ব্রিজের পাশে চায়ের দোকান করেন প্রায় ৫ বছর ধরে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন হাজারখানেক মানুষ এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন। তবে, বেশিরভাগ মানুষ সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হন।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের মার্চ মাসে একজন মহিলা সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় অচিম পরিবহনের সঙ্গে ধাক্কা খান। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে তিনি বেঁচে ফিরেছেন।’
সময় বাঁচাতেই সরাসরি সড়ক পারাপার
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা পথচারী জাহিদ বলেন,
ফুটওভার ব্রিজে উঠতে সময় লাগে। এরচেয়ে নিচ দিয়ে তাড়াতাড়ি সড়ক পার হয়ে যেতে পারি। এতে সময় বেঁচে যায়।
তবে এভাবে পারাপারে ঝুঁকি রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মিলন নামের আরেক পথচারীও একই কথা বলেছেন। তার মতে, সময় বাঁচাতে তারা সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হন।

সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও কেন ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াসিন আরাফাত নামের এক পথচারী বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজে এত কষ্ট করে উঠতে ইচ্ছে করে না। আমার কাছে এটা বোরিং ফিল হয়। এজন্য আমি সড়ক দিয়ে পারাপার হই।’
পথচারী নিয়ন্ত্রণে কঠোরতার দাবি
এদিকে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের মতে, কেউ যাতে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার না হতে পারে, এজন্য ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশকে কঠোর হওয়ার দাবি জানান। মাহমুদ হাসান নামের একজন বলেন, ‘মানুষের জীবন আগে। কিছু সময় বাঁচানোর জন্য এভাবে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দরকার নেই। ট্রাফিক পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত।’
অচিম পরিবহনের চালক মো. হাসান বলেন, ‘প্রায় সময় এই পথচারীরা বাসের সামনে চলে আসে। এতে যেকোনো সময় দূর্ঘটনা হতে পারে। পরে মানুষ আবার আমাদের দোষ দেয়। পথচারীদের কোনো দোষ তখন আর কেউ দেখে না। এত বড় ফুটওভার ব্রিজ আছে, তারপরও এভাবে রাস্তা পারাপার হওয়া কি বেশি জরুরি?’

ফুটওভার ব্রিজ এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপারে পথচারীরা
মেহেদী হাছান মাহীম

সড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না অনেক পথচারী। নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এড়িয়ে সরাসরি সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এছাড়াও, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরটি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এ গোলচত্বর দিয়ে গাবতলী, মিরপুর-১০ ও জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে এলাকাটিতে যানবাহন ও পথচারীদের ব্যাপক চলাচল চোখে পড়ে।

তবে এমন ব্যস্ত একটি এলাকায় পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও, সেটি তুলনামূলক কম ব্যবহার করতে দেখা যায়। অনেক পথচারী ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ফলে পথচারীদের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, তেমনি যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন। ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও কেন পথচারীদের একটি অংশ সেটি ব্যবহার করছেন না—এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা এএসআই মিলন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন,
আমরা পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে সবসময় বলি। অনেকে কথা শোনেন, আবার অনেকে শোনেন না। তবে বেশিরভাগ পথচারী ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পারাপার হচ্ছেন।
দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজটির তিন ভাগে মোট ছয়টি সিঁড়ি রয়েছে। প্রতিটি সিঁড়িতে ৩৮টি করে সবমিলিয়ে ব্রিজটিতে প্রায় ২২৮টি ধাপ রয়েছে। ফুটওভার ব্রিজটি স্টিলের কাঠামোর ওপর নির্মিত এবং রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য এতে স্টিলের ছাউনি রয়েছে। এছাড়া স্টিলের পিলার, ট্রাস, রেলিং ও ক্রস-ব্রেসিং ব্যবহার করা হয়েছে। পথচারীদের নিরাপত্তায় দুই পাশে রেলিং এবং মাঝামাঝি অংশে কালো শিটের পার্টিশন রয়েছে। ছাউনির নিচে বৈদ্যুতিক তার ও ঝুলন্ত লাইটও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিজটির দুপাশে বিভিন্ন ফুলের গাছ রয়েছে।
‘ঝুঁকি এড়াতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছি’
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হওয়া মো. আনাস বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে আমি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেছি। সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হতে গেলে দুর্ঘটনার শিকারও হতে পারি। এত রিস্ক নিয়ে রাস্তা পারাপার হবো কেন?’

রিয়াজ নামের আরেকজন পথচারী বলেন, ‘সবার ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উচিত। রিস্ক নিয়ে সড়ক দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। যেভাবে যানবাহন চলাচল করে, যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মো. ইমাম ফুটওভার ব্রিজের পাশে চায়ের দোকান করেন প্রায় ৫ বছর ধরে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন হাজারখানেক মানুষ এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন। তবে, বেশিরভাগ মানুষ সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হন।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের মার্চ মাসে একজন মহিলা সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় অচিম পরিবহনের সঙ্গে ধাক্কা খান। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে তিনি বেঁচে ফিরেছেন।’
সময় বাঁচাতেই সরাসরি সড়ক পারাপার
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা পথচারী জাহিদ বলেন,
ফুটওভার ব্রিজে উঠতে সময় লাগে। এরচেয়ে নিচ দিয়ে তাড়াতাড়ি সড়ক পার হয়ে যেতে পারি। এতে সময় বেঁচে যায়।
তবে এভাবে পারাপারে ঝুঁকি রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মিলন নামের আরেক পথচারীও একই কথা বলেছেন। তার মতে, সময় বাঁচাতে তারা সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হন।

সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও কেন ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াসিন আরাফাত নামের এক পথচারী বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজে এত কষ্ট করে উঠতে ইচ্ছে করে না। আমার কাছে এটা বোরিং ফিল হয়। এজন্য আমি সড়ক দিয়ে পারাপার হই।’
পথচারী নিয়ন্ত্রণে কঠোরতার দাবি
এদিকে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের মতে, কেউ যাতে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার না হতে পারে, এজন্য ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশকে কঠোর হওয়ার দাবি জানান। মাহমুদ হাসান নামের একজন বলেন, ‘মানুষের জীবন আগে। কিছু সময় বাঁচানোর জন্য এভাবে সরাসরি সড়ক দিয়ে পারাপার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দরকার নেই। ট্রাফিক পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত।’
অচিম পরিবহনের চালক মো. হাসান বলেন, ‘প্রায় সময় এই পথচারীরা বাসের সামনে চলে আসে। এতে যেকোনো সময় দূর্ঘটনা হতে পারে। পরে মানুষ আবার আমাদের দোষ দেয়। পথচারীদের কোনো দোষ তখন আর কেউ দেখে না। এত বড় ফুটওভার ব্রিজ আছে, তারপরও এভাবে রাস্তা পারাপার হওয়া কি বেশি জরুরি?’









