শিরোনাম

দুই বছরে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব: প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই বছরে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব: প্রশাসক
মতবিনিময় সভা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘ঢাকা শহরের সমস্যা শুধু প্রশাসক বা সরকারের একার নয়। নগরের বাসিন্দা হিসেবে সবাইকে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেলে আগামী দুই বছরে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব।’

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘নগরের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কেও গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের সমালোচনাকে আমি কখনোই নেতিবাচকভাবে দেখি না।’

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় পথ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেক জায়গায় নেই। ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে এ কাজ এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পানি কয়েক দিন জমে থাকত, এখন পাম্পের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ড্রেনে পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, ‘নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দোকানিদের দোকানের সামনে বিন বা বালতি রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবে। কিন্তু অনেক মার্কেট এলাকায় রাতে বিপুল পরিমাণ ময়লা ফেলে যাওয়ায় এলাকা নোংরা হয়ে যাচ্ছে।’

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কোথাও পানি জমে না থাকলে মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ কমে যায়। যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেই সব স্থানে সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ফুটপাতের হকারদের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ‘রাস্তার ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের কিছু অংশে তাদের বসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া শুক্রবার ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। তাদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করা যাবে না।’

ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ‘ঢাকার সব এলাকায় যেন নির্বিচারে রিকশা চলাচল করতে না পারে, সেইজন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই চলবে এবং কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎসহ নগরসেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে রাস্তা কাটার পর সময় মতো তা মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে।’

সভায় ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভাপতি শাহজাহান মোল্লাসহ সংগঠনটি অন্যান্য সম্পাদক ও কার্যকরী সদস্যরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

/এসআর/