ব্যক্তিগত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি, বরাদ্দকৃত বাসায় থাকেন না জাবির উপ-উপাচার্য

ব্যক্তিগত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি, বরাদ্দকৃত বাসায় থাকেন না জাবির উপ-উপাচার্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ করা বাসায় না থেকে বাড়িভাড়া সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক। গত ৬ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৮ জুন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশনের কাজে যুক্ত রয়েছেন। এসব কাজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পিএসসি’র নিয়োগপত্র অনুযায়ী তিনি জুনের ২৮ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ২ তারিখ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিয়োগ পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি এই ৫ দিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নেননি এবং অনুমতিও নেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, প্রশ্ন মডারেশনের মতো ব্যক্তিগত বা অন্য প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের ফলে জাবির অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, মডারেশনের কাজে গিয়ে হয়তো ওনার আয় হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, উপ-উপাচার্যের জন্য বরাদ্দ করা জ্বালানি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যবহারের কথা। সেই জ্বালানি দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন মডারেশন বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়া হলে তা নির্ধারিত খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে গাড়ির লগবুক, জ্বালানি বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক শামছুল আলম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন। জাবির উপ-উপাচার্যের মতো পূর্ণকালীন প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে উপ-উপাচার্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবাসিক বাসা বরাদ্দ থাকলেও অধ্যাপক শামছুল আলম সেখানে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, উপ-উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া অধ্যাপক শামছুল আলম জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি ওই পদে বহাল আছেন কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে এ ধরনের কোনো সাংগঠনিক পদে থাকা বিধিসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্যের পদটি পূর্ণকালীন প্রশাসনিক দায়িত্ব। এ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানের শর্ত রয়েছে। ফলে একই সময়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বা খণ্ডকালীন একাডেমিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, বাসায় অবকাঠামো ও মালামাল সংক্রান্ত কাজ চলমান রয়েছে, কাজ শেষ হলে উঠবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে যে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, আমি সেভাবেই যাতায়াত করি। আমার জন্য যতটুকু তেল বরাদ্দ আছে, সেটুকু দিয়েই যাতায়াত করি অতীতে অন্যরা যেভাবে গিয়েছে, আমি সেভাবেই যাই। আমাকে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আমি সেভাবেই খরচ করি, তার বেশি না।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই যাই। আমার বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলতে পারবে, আমি বিভাগে কেমন সময় দিই। নিয়মের বাইরে আমি কোনো কাজ করি না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ করা বাসায় না থেকে বাড়িভাড়া সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক। গত ৬ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৮ জুন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশনের কাজে যুক্ত রয়েছেন। এসব কাজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পিএসসি’র নিয়োগপত্র অনুযায়ী তিনি জুনের ২৮ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ২ তারিখ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিয়োগ পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি এই ৫ দিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নেননি এবং অনুমতিও নেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, প্রশ্ন মডারেশনের মতো ব্যক্তিগত বা অন্য প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের ফলে জাবির অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, মডারেশনের কাজে গিয়ে হয়তো ওনার আয় হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, উপ-উপাচার্যের জন্য বরাদ্দ করা জ্বালানি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যবহারের কথা। সেই জ্বালানি দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন মডারেশন বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়া হলে তা নির্ধারিত খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে গাড়ির লগবুক, জ্বালানি বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক শামছুল আলম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন। জাবির উপ-উপাচার্যের মতো পূর্ণকালীন প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে উপ-উপাচার্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবাসিক বাসা বরাদ্দ থাকলেও অধ্যাপক শামছুল আলম সেখানে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, উপ-উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া অধ্যাপক শামছুল আলম জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি ওই পদে বহাল আছেন কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে এ ধরনের কোনো সাংগঠনিক পদে থাকা বিধিসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্যের পদটি পূর্ণকালীন প্রশাসনিক দায়িত্ব। এ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানের শর্ত রয়েছে। ফলে একই সময়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বা খণ্ডকালীন একাডেমিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, বাসায় অবকাঠামো ও মালামাল সংক্রান্ত কাজ চলমান রয়েছে, কাজ শেষ হলে উঠবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে যে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, আমি সেভাবেই যাতায়াত করি। আমার জন্য যতটুকু তেল বরাদ্দ আছে, সেটুকু দিয়েই যাতায়াত করি অতীতে অন্যরা যেভাবে গিয়েছে, আমি সেভাবেই যাই। আমাকে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আমি সেভাবেই খরচ করি, তার বেশি না।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই যাই। আমার বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলতে পারবে, আমি বিভাগে কেমন সময় দিই। নিয়মের বাইরে আমি কোনো কাজ করি না।’

ব্যক্তিগত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি, বরাদ্দকৃত বাসায় থাকেন না জাবির উপ-উপাচার্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন মডারেশন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ করা বাসায় না থেকে বাড়িভাড়া সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক। গত ৬ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৮ জুন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশনের কাজে যুক্ত রয়েছেন। এসব কাজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পিএসসি’র নিয়োগপত্র অনুযায়ী তিনি জুনের ২৮ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ২ তারিখ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিয়োগ পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি এই ৫ দিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নেননি এবং অনুমতিও নেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, প্রশ্ন মডারেশনের মতো ব্যক্তিগত বা অন্য প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের ফলে জাবির অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, মডারেশনের কাজে গিয়ে হয়তো ওনার আয় হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, উপ-উপাচার্যের জন্য বরাদ্দ করা জ্বালানি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যবহারের কথা। সেই জ্বালানি দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন মডারেশন বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়া হলে তা নির্ধারিত খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে গাড়ির লগবুক, জ্বালানি বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক শামছুল আলম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন। জাবির উপ-উপাচার্যের মতো পূর্ণকালীন প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে উপ-উপাচার্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবাসিক বাসা বরাদ্দ থাকলেও অধ্যাপক শামছুল আলম সেখানে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, উপ-উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া অধ্যাপক শামছুল আলম জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি ওই পদে বহাল আছেন কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে এ ধরনের কোনো সাংগঠনিক পদে থাকা বিধিসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্যের পদটি পূর্ণকালীন প্রশাসনিক দায়িত্ব। এ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানের শর্ত রয়েছে। ফলে একই সময়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বা খণ্ডকালীন একাডেমিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, বাসায় অবকাঠামো ও মালামাল সংক্রান্ত কাজ চলমান রয়েছে, কাজ শেষ হলে উঠবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে যে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, আমি সেভাবেই যাতায়াত করি। আমার জন্য যতটুকু তেল বরাদ্দ আছে, সেটুকু দিয়েই যাতায়াত করি অতীতে অন্যরা যেভাবে গিয়েছে, আমি সেভাবেই যাই। আমাকে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আমি সেভাবেই খরচ করি, তার বেশি না।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই যাই। আমার বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলতে পারবে, আমি বিভাগে কেমন সময় দিই। নিয়মের বাইরে আমি কোনো কাজ করি না।’









