পৃথিবীর যে শহরে বিড়াল নিষিদ্ধ

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
পৃথিবীর যে শহরে বিড়াল নিষিদ্ধ
বিড়াল

রাস্তায় বিড়াল দেখলে অনেকেরই হাত নিশপিশ করে আদর করার জন্য। কেউ আবার সুযোগ পেলেই কোলে তুলে নেন, কেউ খাবার কিনে খাওয়ান। কিন্তু নরওয়ের স্ভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে এমন শখ পূরণ করতে গেলে পড়তে হবে নিয়মের বেড়াজালে। কারণ, পৃথিবীর এই শীতল জনপদে বিড়াল রাখা নিষিদ্ধ!

শুনে মনে হতে পারে, বিড়ালের সঙ্গে বুঝি এখানকার মানুষের পুরোনো কোনো শত্রুতা রয়েছে। মোটেও তা নয়। বরং বিড়ালকে যতই আদুরে মনে হোক, স্ভালবার্ডের প্রকৃতি তাকে মোটেও নিরীহ অতিথি হিসেবে দেখতে রাজি নয়। এখানে পোষ্য হিসেবে বিড়াল পালনের চেয়ে স্থানীয় বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্ভালবার্ডের পরিবেশ যতটা সুন্দর, ততটাই সংবেদনশীল। বরফে ঢাকা এই অঞ্চলে প্রাণী ও উদ্ভিদকে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তার ওপর বাইরে থেকে কোনো নতুন শিকারি প্রাণী এসে হাজির হলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে দেখা দিতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়।

বিশেষ করে পাখিদের জন্য বিড়াল হতে পারে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। গ্রীষ্মের অল্প কয়েকটি মাসে অসংখ্য সামুদ্রিক পাখি এখানে আসে বংশবিস্তারের জন্য। সেই সময় কোনো বিড়াল যদি পাখির বাসা কিংবা ছানার আশপাশে ঘোরাঘুরি শুরু করে, তাহলে পাখিদের প্রজনন মৌসুম আনন্দের বদলে আতঙ্কের হয়ে উঠতে পারে।

অঞ্চলটির গভর্নরের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে নরওয়ে ও সুইডেন থেকে খাঁচায় রাখা কিছু পাখি, খরগোশ এবং ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণী নেওয়া যায়। ফিনল্যান্ড থেকেও খাঁচায় রাখা পাখি আনার সুযোগ রয়েছে। কুকুর নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা আছে।

এর পেছনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলাতঙ্কের মতো সংক্রামক রোগ যাতে স্থানীয় বন্যপ্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সেটিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

স্ভালবার্ডের স্থলভাগে স্বাভাবিকভাবে বসবাসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা মাত্র তিন প্রজাতি-মেরু ভালুক, আর্কটিক শিয়াল ও স্ভালবার্ড রেইনডিয়ার। এই সীমিত প্রাণিজগতের মধ্যে নতুন কোনো শিকারি প্রাণী প্রবেশ করলে খাদ্যশৃঙ্খল ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা আগেভাগে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

তার ওপর এখানকার গাছপালাও খুব ধীরে বেড়ে ওঠে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় ক্ষতিগ্রস্ত উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় নিতে পারে। ফলে বাইরে থেকে আসা একটি প্রাণীর কারণে সামান্য ক্ষতিও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণ হতে পারে।

/এসবি/