সমুদ্রের ওপর ২ কিলোমিটার উঁচু পিরামিড শহর

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সমুদ্রের ওপর ২ কিলোমিটার উঁচু পিরামিড শহর
টোকিও বে-তে ২ কিলোমিটার উঁচু পিরামিড শহরের পরিকল্পনা

সমুদ্রের ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২ কিলোমিটার উঁচু একটি পিরামিড। এর ভেতরে বাড়ি, অফিস, দোকান, পার্ক, গবেষণাকেন্দ্র ও বিনোদনের জায়গা। সেখানে থাকবেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। শুনতে কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও এমন একটি শহরের পরিকল্পনা করেছিল জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শিমিজু করপোরেশন।

প্রকল্পটির নাম শিমিজু মেগা-সিটি পিরামিড। জাপানের টোকিও বে-তে এই বিশাল স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর উচ্চতা ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪ মিটার। উচ্চতার হিসাবে এটি হতো বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার দ্বিগুণেরও বেশি।

তবে এটি কোনো নির্মাণাধীন প্রকল্প নয়। এখন পর্যন্ত এটি একটি পরিকল্পনাই। টোকিও বে-তে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

পিরামিডের ভেতরেই শহর

শিমিজুর পরিকল্পনায় পিরামিডের কাঠামোটি হতো অনেকটা বিশাল জালের মতো। এর বিভিন্ন স্তরের মধ্যে তৈরি করা হতো ছোট ছোট ভবন ও নগরব্যবস্থা।

সেখানে মানুষের থাকার জায়গার পাশাপাশি অফিস, দোকান, গবেষণাকেন্দ্র, বিনোদনকেন্দ্র ও পার্ক থাকার কথা ছিল। অর্থাৎ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাসিন্দাদের সব সময় পিরামিডের বাইরে যেতে হতো না।

এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য থাকত লিফট, চলন্ত পথ ও স্বয়ংক্রিয় যানবাহন। এতে শহরের ভেতরে সড়কের প্রয়োজন কমত। যানজটও কমানোর চেষ্টা করা হতো।

মূল ধারণাটি ছিল, শহরকে চারদিকে ছড়িয়ে না দিয়ে ওপরের দিকে গড়ে তোলা।

কেন সমুদ্রের ওপর

টোকিও বিশ্বের বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। সেখানে নতুন শহর তৈরির মতো খালি জমি খুব বেশি নেই। তাই স্থলভাগের বাইরে সমুদ্রের ওপর নতুন নগর গড়ে তোলার চিন্তা করা হয়েছিল।

টোকিও বে-কে এ জন্য সম্ভাবনাময় জায়গা হিসেবে ধরা হয়। সেখানে কৃত্রিম কাঠামোর ওপর তৈরি হতে পারত বিশাল এই শহর।

তবে সমুদ্রের ওপর এমন স্থাপনা তৈরি করা সহজ নয়। জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এ ছাড়া প্রবল বাতাস ও সুনামির ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে এসব বিষয় মাথায় রেখে নকশা করতে হতো।

পিরামিডের মতো কেন

পিরামিডের আকৃতি শুধু দেখতে সুন্দর বলেই বেছে নেওয়া হয়নি। এর পেছনে প্রকৌশলগত কারণও ছিল।

নিচের অংশ চওড়া এবং ওপরের অংশ সরু হওয়ায় কাঠামোর ওজন ও চাপ নিচের দিকে ছড়িয়ে দেওয়া তুলনামূলক সহজ। কিন্তু দুই কিলোমিটারের বেশি উঁচু একটি স্থাপনা তৈরি করে সেটিকে ভূমিকম্প, বাতাস ও নিজের ওজনের বিরুদ্ধে স্থিতিশীল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

এ কারণে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচলিত নির্মাণপ্রযুক্তির পাশাপাশি নতুন ধরনের উপকরণ ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হতো।

সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রযুক্তি

এত বড় একটি স্থাপনার অন্যতম বড় সমস্যা হলো এর ওজন। শুধু ইস্পাত ও কংক্রিট দিয়ে পুরো কাঠামো তৈরি করলে এর ওজন অনেক বেড়ে যাবে। তখন সেটিকে স্থিতিশীল রাখা কঠিন হবে।

তাই পরিকল্পনায় হালকা ও শক্তিশালী নতুন ধরনের উপকরণ ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল। এর মধ্যে কার্বন ন্যানোটিউব-এর মতো উন্নত উপকরণও ছিল।

কিন্তু এত বড় স্থাপনায় এসব উপকরণ নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহার করার প্রযুক্তি এখনো যথেষ্ট উন্নত হয়নি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ পায়নি।

ভবিষ্যতের শহরের ভাবনা

শিমিজু মেগা-সিটি পিরামিড এখনো বাস্তব কোনো শহর নয়। টোকিও বে-তে এর নির্মাণকাজও শুরু হয়নি। এটি মূলত ভবিষ্যতের শহর নিয়ে একটি পরিকল্পনা।

তবে এই পরিকল্পনার পেছনে একটি বাস্তব সমস্যা রয়েছে। বড় শহরগুলোতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে জমির সংকটও বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে কম জায়গায় বেশি মানুষের বসবাস কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে নতুন নতুন চিন্তা করতে হচ্ছে।

শিমিজুর পিরামিড সেই চিন্তারই একটি উদাহরণ।

হয়তো একদিন ঠিক এমন একটি পিরামিড শহর তৈরি হবে না। কিন্তু এই পরিকল্পনা দেখিয়েছে, ভবিষ্যতের শহর নিয়ে মানুষের ভাবনা কতটা দূর পর্যন্ত যেতে পারে।

একদিন হয়তো শহর শুধু মাটির ওপর ছড়িয়ে থাকবে না। মানুষকে জায়গা দিতে শহর উঠে যেতে পারে আকাশের দিকেও।

/এমআর/