মৃত্যুর আগে আঘাত নিয়েও দীর্ঘক্ষণ জীবিত ছিলেন সাগর-রুনি, তদন্তে যা জানা গেল

মৃত্যুর আগে আঘাত নিয়েও দীর্ঘক্ষণ জীবিত ছিলেন সাগর-রুনি, তদন্তে যা জানা গেল
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা-ও এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাস্কফোর্সের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাগর ও রুনির শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাত ছিল না। তবে তাঁদের শরীরে একাধিক ক্ষত ছিল, যার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ক্ষত নিয়ে তারা মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় জীবিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে। ঘাড়, পিঠ ও চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল ও ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হত্যাকারীরা তাড়াহুড়া করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেনি। হত্যাকাণ্ডের ধরন পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ, শনাক্ত করা যায়নি
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগরকে বাঁধতে ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। তাদের শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরীক্ষাগারে চেষ্টা করা হলেও সফলতা আসেনি। ডিএনএর নমুনায় একাধিক ব্যক্তির উপাদান মিশে থাকায় অপরাধীদের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও আসামিদের ডিএনএর সঙ্গেও ওই নমুনাগুলোর মিল পাওয়া যায়নি।
মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ছুরি, বঁটি, ছুরির বাট, সাগর ও রুনির পরিধেয় পোশাকসহ অন্যান্য নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিদেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২৫ জনের মুখের ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তবে আলামতে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে তাদের কারও নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে মোট চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। পুরুষদের একজন সাগর সরওয়ার এবং নারী মেহেরুন নাহার রুনি। বাকি দুই পুরুষের পরিচয় এখনো অজানা।
পারিবারিক ও পেশাগত বিরোধের প্রমাণ নেই
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক, দাম্পত্য কিংবা পেশাগত বিরোধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাতে তার পেশাগত কোনো শত্রুতা বা বিরোধের তথ্য মেলেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর ও রুনি দীর্ঘদিন জার্মানিতে ছিলেন। মৃত্যুর প্রায় সাত মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। তাদের মৃত্যুর পর সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। অর্থ বা জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণেও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও জমিজমা নিয়ে বিরোধের প্রমাণ মেলেনি।
এ ছাড়া একজনকে হত্যার পর অন্যজন আত্মহত্যা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ তদন্তেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধার হয়নি মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর লুট হওয়া মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই, সিআইডি, পুলিশ সদর দপ্তর ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম এল যেভাবে
প্রতিবেদনে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর নাম আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করেছে। এসব আলামতের মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা (এসএমএস) ও কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি ছিল। এ ঘটনায় তার এক সেনাসদস্য অর্ডারলিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জোহা দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা জানান, তাদের তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পিবিআইয়ের তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনাতেও জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানান। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য গত ১৩ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব তথ্য যাচাই, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।
২০১২ সালে হত্যাকাণ্ড, তদন্তের দায়িত্বে একাধিক সংস্থা
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সে সময় সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলার তদন্তভার র্যাবকে দেন।
দীর্ঘ সময়েও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলার তদন্তভার পরিবর্তনের আবেদন করে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
এরপর কয়েক দফায় তদন্তের সময় বাড়ানো হয়। গত বছরের ২২ এপ্রিল ও ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আদালত তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনায় আরও ছয় মাস করে সময় দেন। এবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে টাস্কফোর্স চতুর্থবারের মতো সময় পেল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং বাদীপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা-ও এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাস্কফোর্সের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাগর ও রুনির শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাত ছিল না। তবে তাঁদের শরীরে একাধিক ক্ষত ছিল, যার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ক্ষত নিয়ে তারা মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় জীবিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে। ঘাড়, পিঠ ও চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল ও ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হত্যাকারীরা তাড়াহুড়া করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেনি। হত্যাকাণ্ডের ধরন পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ, শনাক্ত করা যায়নি
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগরকে বাঁধতে ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। তাদের শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরীক্ষাগারে চেষ্টা করা হলেও সফলতা আসেনি। ডিএনএর নমুনায় একাধিক ব্যক্তির উপাদান মিশে থাকায় অপরাধীদের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও আসামিদের ডিএনএর সঙ্গেও ওই নমুনাগুলোর মিল পাওয়া যায়নি।
মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ছুরি, বঁটি, ছুরির বাট, সাগর ও রুনির পরিধেয় পোশাকসহ অন্যান্য নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিদেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২৫ জনের মুখের ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তবে আলামতে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে তাদের কারও নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে মোট চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। পুরুষদের একজন সাগর সরওয়ার এবং নারী মেহেরুন নাহার রুনি। বাকি দুই পুরুষের পরিচয় এখনো অজানা।
পারিবারিক ও পেশাগত বিরোধের প্রমাণ নেই
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক, দাম্পত্য কিংবা পেশাগত বিরোধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাতে তার পেশাগত কোনো শত্রুতা বা বিরোধের তথ্য মেলেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর ও রুনি দীর্ঘদিন জার্মানিতে ছিলেন। মৃত্যুর প্রায় সাত মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। তাদের মৃত্যুর পর সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। অর্থ বা জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণেও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও জমিজমা নিয়ে বিরোধের প্রমাণ মেলেনি।
এ ছাড়া একজনকে হত্যার পর অন্যজন আত্মহত্যা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ তদন্তেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধার হয়নি মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর লুট হওয়া মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই, সিআইডি, পুলিশ সদর দপ্তর ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম এল যেভাবে
প্রতিবেদনে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর নাম আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করেছে। এসব আলামতের মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা (এসএমএস) ও কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি ছিল। এ ঘটনায় তার এক সেনাসদস্য অর্ডারলিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জোহা দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা জানান, তাদের তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পিবিআইয়ের তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনাতেও জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানান। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য গত ১৩ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব তথ্য যাচাই, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।
২০১২ সালে হত্যাকাণ্ড, তদন্তের দায়িত্বে একাধিক সংস্থা
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সে সময় সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলার তদন্তভার র্যাবকে দেন।
দীর্ঘ সময়েও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলার তদন্তভার পরিবর্তনের আবেদন করে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
এরপর কয়েক দফায় তদন্তের সময় বাড়ানো হয়। গত বছরের ২২ এপ্রিল ও ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আদালত তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনায় আরও ছয় মাস করে সময় দেন। এবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে টাস্কফোর্স চতুর্থবারের মতো সময় পেল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং বাদীপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

মৃত্যুর আগে আঘাত নিয়েও দীর্ঘক্ষণ জীবিত ছিলেন সাগর-রুনি, তদন্তে যা জানা গেল
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা-ও এখনো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তদন্ত শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাস্কফোর্সের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাগর ও রুনির শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাত ছিল না। তবে তাঁদের শরীরে একাধিক ক্ষত ছিল, যার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ক্ষত নিয়ে তারা মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় জীবিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে। ঘাড়, পিঠ ও চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল ও ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হত্যাকারীরা তাড়াহুড়া করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেনি। হত্যাকাণ্ডের ধরন পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ, শনাক্ত করা যায়নি
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগরকে বাঁধতে ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। তাদের শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরীক্ষাগারে চেষ্টা করা হলেও সফলতা আসেনি। ডিএনএর নমুনায় একাধিক ব্যক্তির উপাদান মিশে থাকায় অপরাধীদের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও আসামিদের ডিএনএর সঙ্গেও ওই নমুনাগুলোর মিল পাওয়া যায়নি।
মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ছুরি, বঁটি, ছুরির বাট, সাগর ও রুনির পরিধেয় পোশাকসহ অন্যান্য নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিদেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২৫ জনের মুখের ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তবে আলামতে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে তাদের কারও নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে মোট চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। পুরুষদের একজন সাগর সরওয়ার এবং নারী মেহেরুন নাহার রুনি। বাকি দুই পুরুষের পরিচয় এখনো অজানা।
পারিবারিক ও পেশাগত বিরোধের প্রমাণ নেই
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক, দাম্পত্য কিংবা পেশাগত বিরোধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাতে তার পেশাগত কোনো শত্রুতা বা বিরোধের তথ্য মেলেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর ও রুনি দীর্ঘদিন জার্মানিতে ছিলেন। মৃত্যুর প্রায় সাত মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। তাদের মৃত্যুর পর সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। অর্থ বা জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণেও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও জমিজমা নিয়ে বিরোধের প্রমাণ মেলেনি।
এ ছাড়া একজনকে হত্যার পর অন্যজন আত্মহত্যা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ তদন্তেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধার হয়নি মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ
তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর লুট হওয়া মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই, সিআইডি, পুলিশ সদর দপ্তর ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম এল যেভাবে
প্রতিবেদনে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর নাম আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করেছে। এসব আলামতের মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা (এসএমএস) ও কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি ছিল। এ ঘটনায় তার এক সেনাসদস্য অর্ডারলিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জোহা দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তারা জানান, তাদের তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পিবিআইয়ের তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনাতেও জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানান। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য গত ১৩ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব তথ্য যাচাই, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।
২০১২ সালে হত্যাকাণ্ড, তদন্তের দায়িত্বে একাধিক সংস্থা
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সে সময় সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলার তদন্তভার র্যাবকে দেন।
দীর্ঘ সময়েও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলার তদন্তভার পরিবর্তনের আবেদন করে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
এরপর কয়েক দফায় তদন্তের সময় বাড়ানো হয়। গত বছরের ২২ এপ্রিল ও ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আদালত তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনায় আরও ছয় মাস করে সময় দেন। এবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে টাস্কফোর্স চতুর্থবারের মতো সময় পেল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং বাদীপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।









