শিরোনাম

ইনফান্তিনো না সরলে ‘বিকল্প বিশ্বকাপ’ আয়োজনের পরিকল্পনা উয়েফার

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
ইনফান্তিনো না সরলে ‘বিকল্প বিশ্বকাপ’ আয়োজনের পরিকল্পনা উয়েফার
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সিজেডএন গ্রাফিক্স

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির পাশাপাশি নানা বিতর্কে একপ্রকার নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একদিকে উয়েফাসহ একাধিক কনফেডারেশন চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও হারাতে বসেছেন তিনি। পদ বাঁচাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (৩ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো বারবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন এবং চারপাশের নেতিবাচক প্রচারণার ফলে ইনফান্তিনো একা হয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ইনফান্তিনো নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে ফিফাকে অচল করে দিতে উয়েফা গ্লোবাল নেশন্স লিগ নামে একটি বৈশ্বিক আসর আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এটা হবে বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বী। ‘ফুটবলের স্বার্থে ইনফান্তিনোর সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল, ফুটসাল এবং বিচ ফুটবল খেলা পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

২০২৬ বিশ্বকাপে কিছু বিতর্ক সত্ত্বেও আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর ধারণা করা হচ্ছিলো আগামী বছরের মার্চে টানা চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হবেন ইনফান্তিনো। কিন্তু বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তেই তার সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে।

ফিফার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করা। প্রস্তাবটি ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন অংশীদারের তীব্র বিরোধিতার মুখে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) পিছু হঠতে বাধ্য হয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থাটি। তবে এতেও বিতর্ক পিঁছু ছাড়েনি তার। যদিও বর্তমানে মার্কিন প্রভাব কাজে লাগিয়ে কাতার, লেবানন ও মরক্কোর সমর্থনে ফিফার মসনদে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছেন ৫৬ বছর বয়সি এই সুইস আইনজীবী।

কিন্তু প্রলোভন ও প্রভাব খাটিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু দেশকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারলেও ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ দেশের সমর্থন হারিয়েছেন তিনি। যদি অনাস্থা প্রস্তাবে তাকে হটানো না যায়, তাহলে আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ। পাশাপাশি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা।

উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ইনফান্তিনো। তবে পদত্যাগের দাবিতে সাড়া দেননি। গতকাল প্রথম দেশ হিসাবে আগামী মেয়াদে সভাপতি নির্বাচনে তাকে দেওয়া আগের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়েলস। তারা জানিয়েছে, ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এদিকে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) ইনফান্তিনোকে দেওয়া সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপের সব দেশ একই পথে হাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।