অধিনায়ক বদলের পর বিভক্ত ভারতের ড্রেসিংরুম!

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
অধিনায়ক বদলের পর বিভক্ত ভারতের ড্রেসিংরুম!
হারমানপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মান্ধানা

হারমানপ্রীত কৌর সরে দাঁড়ানোর পর ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে স্মৃতি মান্ধানার নাম আসাটা ছিল সময়ের অপেক্ষা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে ইস্তফা দেন ৩৭ বছর বয়সী হারমানপ্রীত। তার হাত ধরেই এসেছে ঐতিহাসিক ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় ও টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার সাফল্য। তবে এই সফল অধ্যায়ের সমাপ্তির পর ক্রিকেট আঙিনায় প্রশ্ন উঠছে, ৩০ বছর বয়সী তারকা ব্যাটার মান্ধানাকে অধিনায়কের চেয়ারে বসাতে বোর্ড কি বড্ড দেরি করে ফেলল?

২০১৩ সালে অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় দলের হয়ে রানের পাহাড় গড়েছেন মান্ধানা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি রান জমা হয়েছে এ বাঁহাতি ব্যাটারের ঝুলিতে। ব্যাটিং সামর্থ্য ও ধারাবাহিকতায় দলের অন্যদের চেয়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে। সম্প্রতি এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর মান্ধানা নিজেও বড় টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্যে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। ফলে হারমানপ্রীতের পর ড্রেসিংরুমে তার চেয়ে যোগ্য কোনো বিকল্পও ছিল না।

তবে অধিনায়ক বদলের পরপরই দলের ভেতরের অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই দুই শীর্ষ তারকার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ড্রেসিংরুমে দুটি আলাদা বলয় তৈরি হওয়ার গুঞ্জন জোরালো। দলের ভেতরের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরেই চোখাচোখি হচ্ছে না। মতের অমিল রয়েছে তাদের মধ্যে। তাতে করে ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’ এর আগে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ভারত বিদায় নেওয়ার পর কিংবদন্তি মিতালি রাজও বোর্ডের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তার মতে, দুই-তিন বছর আগেই মান্ধানার হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া উচিত ছিল।

অধিনায়কত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্বাচকদের এমন সিদ্ধান্তহীনতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে মিতালি রাজের জায়গায় যখন হারমানপ্রীতকে আনা হয়, তখনও দুই সিনিয়রের সম্পর্ক পৌঁছেছিল তলানিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হারমানপ্রীতের ইচ্ছা আরও দুই-তিন বছর কেবল খেলোয়াড় হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু দলের পরিবেশ ঠিক রাখতে মান্ধানার সঙ্গে তার এ শীতল সম্পর্কের বরফ গলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তা ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসে দল জিতলেও হারমানপ্রীতের ব্যাট থেকে সেরাটা পাওয়া যায়নি। তাই কেবল ব্যাটার হিসেবে একাদশে টিকে থাকতে হলে নিজের পারফরম্যান্সেও দ্রুত ধার ফেরাতে হবে সাবেক অধিনায়ককে।

/এমএকে/