শিরোনাম

রমজান মাসে রোজা রাখার ১০ ফজিলত

রমজান মাসে রোজা রাখার ১০ ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

রোজা মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলার অপার দান ও বিশেষ অনুগ্রহ। রমজান মাস ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও রহমতের মাস। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান হাজির হয়েছে। এটি বরকতময় মাস। এ মাসে আল্লাহ তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অবাধ্য শয়তানদের শিকলবদ্ধ করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।’ (নাসায়ি: ২১০৬)

রোজার গুরুত্ব ও মর্যাদার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কারণ। এর মধ্যে ১০টি ফজিলত কারণ হচ্ছে

১. তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩) রোজা মানুষকে আত্মসংযম ও আল্লাহভীতি শেখায়।

২. আল্লাহ নিজেই প্রতিদান দেবেন

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য; রোজা ছাড়া। এটি আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি: ৫৯২৭; মুসলিম: ১৫৫১) রোজার প্রতিদান অসীম ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

৩. গুনাহ মাফের সুযোগ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়।’ (বুখারি: ৩৮) রমজান তাই আত্মশুদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ।

৪. কেয়ামতে সুপারিশ

হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে এবং তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ: ৬৬২৬) এটি রোজার অনন্য মর্যাদার প্রমাণ।

৫. দোয়া কবুলের সম্ভাবনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না– মজলুম, রোজাদার ও মুসাফিরের দোয়া।’ (বায়হাকি: ৬৩৯২) রোজার সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

৬. শ্রেষ্ঠ আমল

হজরত আবু উমামা (রা.)-কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি রোজা পালন করো; কারণ রোজার সমকক্ষ কোনো আমল নেই।’ (নাসায়ি: ২২২২) এটি ইবাদতের শীর্ষস্থানে অবস্থান করে।

৭. গুনাহ থেকে রক্ষাকবচ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। তাই রোজাদার অশ্লীলতা করবে না। কেউ ঝগড়া করলে বলবে, আমি রোজাদার।’ (বুখারি: ১৮৯৪) রোজা মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে।

৮. জৈবিক তাড়না নিয়ন্ত্রণ

রাসুল (সা.) যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, তারা রোজা পালন করো; কারণ রোজা জৈবিক তাড়না দমন করে।’ (বুখারি: ৫০৬৫) রোজা আত্মনিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

৯. জাহান্নাম থেকে দূরত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন।’ (বুখারি: ২৮৪০)

১০. জান্নাতে বিশেষ দরজা

জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামে একটি দরজা রয়েছে, যা দিয়ে কেবল রোজাদাররা প্রবেশ করবেন। (বুখারি: ১৭৯৭) এটি রোজাদারদের বিশেষ সম্মান।

রমজান তাই কেবল উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, রহমত ও মুক্তির মাস। রোজার মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে, গুনাহ থেকে মুক্তি পায় এবং আখিরাতে বিশেষ পুরস্কারের অধিকারী হয়।

/এসএনআর/এসএ/