কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের ৭ আমল

কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের ৭ আমল
ধর্ম ডেস্ক

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মুমিনের একমাত্র ভরসা মহান আল্লাহর অসীম রহমত। সুস্থতা লাভ, সংকট থেকে মুক্তি কিংবা মনের যেকোনো নেক আশা পূরণে বান্দা আকুল হয়ে তাঁরই দরবারে হাত পাতে। বান্দার এই প্রার্থনা ও আকুতিকে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত পছন্দ করেন।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে,
‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই। সুতরাং তারা যেন আমারে ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের কার্যকর সাতটি আমল
১. ঘুম থেকে জেগে নির্দিষ্ট জিকির ও দোয়া পাঠ করা
রাতের ঘুম শেষে নতুন একটি সকাল পাওয়া মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে নিম্নে বর্ণিত জিকিরগুলো পাঠ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং এরপর দোয়া করলে তার দোয়া কবুল করা হয়। অতঃপর সে অজু করে নামাজ আদায় করলে তার নামাজও কবুল হয়।
জিকিরটি হলো
> لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহানাল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফির লি।
অর্থ:একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র-মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বাঁচার কোনো উপায় এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি নেই। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৫৪)
২. ইউনুস (আ.)-এর দোয়া পাঠ করা
বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে মুমিনের অন্যতম আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এ ক্ষেত্রে হজরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন মাছের পেটে গভীর অন্ধকারে অবস্থান করছিলেন, তখন মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাঁকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দেন।
দোয়া
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায-যালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র-মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইউনুস (আ.)-এর এই দোয়ার মাধ্যমে কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
৩. ইসমে আজমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করা
আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামগুলো তাঁর অসীম ক্ষমতা, মহত্ত্ব, দয়া ও গুণাবলির পরিচয় বহন করে। এসব নামের মাধ্যমে তাঁকে ডাকা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে নিম্নে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে শুনে বলেন, সে আল্লাহর এমন মহান নামের মাধ্যমে তাঁকে ডেকেছে, যার মাধ্যমে ডাকা হলে তিনি সাড়া দেন এবং প্রার্থনা করা হলে দান করেন।
দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيعَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহদাকা লা শারিকা লাক, আল-মান্নানু, ইয়া বাদিআস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউযু বিকা মিনান-নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আপনারই। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি মহান দানশীল। হে আসমান ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা! হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! হে চিরঞ্জীব, হে সমস্ত সৃষ্টির ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৯৫; জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪৪)
৪. বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে সওয়াব ও উত্তম প্রতিদান চাওয়া
জীবনে বিপদ-আপদ, প্রিয়জন হারানো, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মানুষের জন্য কঠিন পরীক্ষা। এমন সময় মুমিন হতাশ হয়ে পড়ে না; বরং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং তাঁর কাছে উত্তম প্রতিদান কামনা করে। হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বিপদে আক্রান্ত হলে আল্লাহর নির্দেশিত দোয়া পাঠ করে উত্তম প্রতিদান চাইলে আল্লাহ তাকে সেই বিপদের বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করেন।
দোয়া
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا
উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়াখলুফ লি খাইরাম মিনহা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১৮)
৫. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা
আল্লাহর জিকির হলো মুমিনের হৃদয়কে জীবিত রাখার অন্যতম মাধ্যম। জিকিরের মাধ্যমে বান্দা তার প্রতিপালককে স্মরণ করে এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহ তাআला পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন,
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪১)
অন্য আয়াতে তিনি বলেন,
‘জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
অতএব, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তিগফারের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির নিয়মিত পাঠ করা উচিত।
৬. কোরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা
পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর বাণী এবং মানুষের জন্য হেদায়েত ও রহমতের উৎস। মহান আল্লাহ বলেন,
‘আর আমি কোরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৮২)
৭. জমজমের পানি পান করে দোয়া করা
পবিত্র জমজমের পানি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। জমজমের পানির ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা পূরণের জন্যই।’ (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২)
এই হাদিসের আলোকে জমজমের পানি পান করার সময় আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা, কল্যাণকর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা এবং নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা উত্তম। এর মাধ্যমে সুস্থতা, ইলম, নেক আমল কিংবা যেকোনো বৈধ কল্যাণ চাওয়া যায়।
/এবি/

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মুমিনের একমাত্র ভরসা মহান আল্লাহর অসীম রহমত। সুস্থতা লাভ, সংকট থেকে মুক্তি কিংবা মনের যেকোনো নেক আশা পূরণে বান্দা আকুল হয়ে তাঁরই দরবারে হাত পাতে। বান্দার এই প্রার্থনা ও আকুতিকে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত পছন্দ করেন।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে,
‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই। সুতরাং তারা যেন আমারে ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের কার্যকর সাতটি আমল
১. ঘুম থেকে জেগে নির্দিষ্ট জিকির ও দোয়া পাঠ করা
রাতের ঘুম শেষে নতুন একটি সকাল পাওয়া মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে নিম্নে বর্ণিত জিকিরগুলো পাঠ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং এরপর দোয়া করলে তার দোয়া কবুল করা হয়। অতঃপর সে অজু করে নামাজ আদায় করলে তার নামাজও কবুল হয়।
জিকিরটি হলো
> لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহানাল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফির লি।
অর্থ:একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র-মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বাঁচার কোনো উপায় এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি নেই। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৫৪)
২. ইউনুস (আ.)-এর দোয়া পাঠ করা
বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে মুমিনের অন্যতম আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এ ক্ষেত্রে হজরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন মাছের পেটে গভীর অন্ধকারে অবস্থান করছিলেন, তখন মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাঁকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দেন।
দোয়া
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায-যালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র-মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইউনুস (আ.)-এর এই দোয়ার মাধ্যমে কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
৩. ইসমে আজমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করা
আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামগুলো তাঁর অসীম ক্ষমতা, মহত্ত্ব, দয়া ও গুণাবলির পরিচয় বহন করে। এসব নামের মাধ্যমে তাঁকে ডাকা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে নিম্নে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে শুনে বলেন, সে আল্লাহর এমন মহান নামের মাধ্যমে তাঁকে ডেকেছে, যার মাধ্যমে ডাকা হলে তিনি সাড়া দেন এবং প্রার্থনা করা হলে দান করেন।
দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيعَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহদাকা লা শারিকা লাক, আল-মান্নানু, ইয়া বাদিআস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউযু বিকা মিনান-নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আপনারই। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি মহান দানশীল। হে আসমান ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা! হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! হে চিরঞ্জীব, হে সমস্ত সৃষ্টির ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৯৫; জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪৪)
৪. বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে সওয়াব ও উত্তম প্রতিদান চাওয়া
জীবনে বিপদ-আপদ, প্রিয়জন হারানো, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মানুষের জন্য কঠিন পরীক্ষা। এমন সময় মুমিন হতাশ হয়ে পড়ে না; বরং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং তাঁর কাছে উত্তম প্রতিদান কামনা করে। হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বিপদে আক্রান্ত হলে আল্লাহর নির্দেশিত দোয়া পাঠ করে উত্তম প্রতিদান চাইলে আল্লাহ তাকে সেই বিপদের বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করেন।
দোয়া
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا
উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়াখলুফ লি খাইরাম মিনহা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১৮)
৫. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা
আল্লাহর জিকির হলো মুমিনের হৃদয়কে জীবিত রাখার অন্যতম মাধ্যম। জিকিরের মাধ্যমে বান্দা তার প্রতিপালককে স্মরণ করে এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহ তাআला পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন,
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪১)
অন্য আয়াতে তিনি বলেন,
‘জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
অতএব, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তিগফারের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির নিয়মিত পাঠ করা উচিত।
৬. কোরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা
পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর বাণী এবং মানুষের জন্য হেদায়েত ও রহমতের উৎস। মহান আল্লাহ বলেন,
‘আর আমি কোরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৮২)
৭. জমজমের পানি পান করে দোয়া করা
পবিত্র জমজমের পানি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। জমজমের পানির ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা পূরণের জন্যই।’ (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২)
এই হাদিসের আলোকে জমজমের পানি পান করার সময় আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা, কল্যাণকর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা এবং নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা উত্তম। এর মাধ্যমে সুস্থতা, ইলম, নেক আমল কিংবা যেকোনো বৈধ কল্যাণ চাওয়া যায়।
/এবি/

কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের ৭ আমল
ধর্ম ডেস্ক

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মুমিনের একমাত্র ভরসা মহান আল্লাহর অসীম রহমত। সুস্থতা লাভ, সংকট থেকে মুক্তি কিংবা মনের যেকোনো নেক আশা পূরণে বান্দা আকুল হয়ে তাঁরই দরবারে হাত পাতে। বান্দার এই প্রার্থনা ও আকুতিকে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত পছন্দ করেন।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে,
‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই। সুতরাং তারা যেন আমারে ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের কার্যকর সাতটি আমল
১. ঘুম থেকে জেগে নির্দিষ্ট জিকির ও দোয়া পাঠ করা
রাতের ঘুম শেষে নতুন একটি সকাল পাওয়া মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে এসেছে, কোনো ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে নিম্নে বর্ণিত জিকিরগুলো পাঠ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং এরপর দোয়া করলে তার দোয়া কবুল করা হয়। অতঃপর সে অজু করে নামাজ আদায় করলে তার নামাজও কবুল হয়।
জিকিরটি হলো
> لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহানাল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফির লি।
অর্থ:একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র-মহান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বাঁচার কোনো উপায় এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি নেই। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৫৪)
২. ইউনুস (আ.)-এর দোয়া পাঠ করা
বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে মুমিনের অন্যতম আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। এ ক্ষেত্রে হজরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যখন মাছের পেটে গভীর অন্ধকারে অবস্থান করছিলেন, তখন মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাঁকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দেন।
দোয়া
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায-যালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র-মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইউনুস (আ.)-এর এই দোয়ার মাধ্যমে কোনো মুসলিম কোনো বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
৩. ইসমে আজমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করা
আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামগুলো তাঁর অসীম ক্ষমতা, মহত্ত্ব, দয়া ও গুণাবলির পরিচয় বহন করে। এসব নামের মাধ্যমে তাঁকে ডাকা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে নিম্নে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে শুনে বলেন, সে আল্লাহর এমন মহান নামের মাধ্যমে তাঁকে ডেকেছে, যার মাধ্যমে ডাকা হলে তিনি সাড়া দেন এবং প্রার্থনা করা হলে দান করেন।
দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيعَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহদাকা লা শারিকা লাক, আল-মান্নানু, ইয়া বাদিআস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউযু বিকা মিনান-নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আপনারই। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি মহান দানশীল। হে আসমান ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা! হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! হে চিরঞ্জীব, হে সমস্ত সৃষ্টির ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৯৫; জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪৪)
৪. বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে সওয়াব ও উত্তম প্রতিদান চাওয়া
জীবনে বিপদ-আপদ, প্রিয়জন হারানো, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মানুষের জন্য কঠিন পরীক্ষা। এমন সময় মুমিন হতাশ হয়ে পড়ে না; বরং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং তাঁর কাছে উত্তম প্রতিদান কামনা করে। হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বিপদে আক্রান্ত হলে আল্লাহর নির্দেশিত দোয়া পাঠ করে উত্তম প্রতিদান চাইলে আল্লাহ তাকে সেই বিপদের বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করেন।
দোয়া
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا
উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়াখলুফ লি খাইরাম মিনহা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১৮)
৫. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা
আল্লাহর জিকির হলো মুমিনের হৃদয়কে জীবিত রাখার অন্যতম মাধ্যম। জিকিরের মাধ্যমে বান্দা তার প্রতিপালককে স্মরণ করে এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহ তাআला পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন,
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৪১)
অন্য আয়াতে তিনি বলেন,
‘জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
অতএব, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তিগফারের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির নিয়মিত পাঠ করা উচিত।
৬. কোরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা
পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর বাণী এবং মানুষের জন্য হেদায়েত ও রহমতের উৎস। মহান আল্লাহ বলেন,
‘আর আমি কোরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৮২)
৭. জমজমের পানি পান করে দোয়া করা
পবিত্র জমজমের পানি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। জমজমের পানির ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা পূরণের জন্যই।’ (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২)
এই হাদিসের আলোকে জমজমের পানি পান করার সময় আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা, কল্যাণকর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা এবং নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা উত্তম। এর মাধ্যমে সুস্থতা, ইলম, নেক আমল কিংবা যেকোনো বৈধ কল্যাণ চাওয়া যায়।
/এবি/









