অর্থকষ্ট ও ঋণ থেকে মুক্তি পেতে ইসলামে ৫ আমল

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
অর্থকষ্ট ও ঋণ থেকে মুক্তি পেতে ইসলামে ৫ আমল
প্রতীকী ছবি

মানুষের জীবন সবসময় সুখের হয় না। কখনো অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়। আয় কমে যাওয়া, ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় অর্থ জোগাড় করতে না পারার কারণে অনেকে দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভোগেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরতে হয়। হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো।’

ইসলামে অর্থকষ্ট ও ঋণমুক্তির জন্য দোয়া, ইস্তেগফার, তাকওয়া এবং হালাল উপার্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ঋণের বোঝা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন।

অর্থনৈতিক সংকটে যেসব আমল ও করণীয় অনুসরণ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো-

ঋণ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া পড়া

হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি ঋণমুক্তির উপায় জানতে চান। তখন তিনি মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দেন।

দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল দিয়ে আমাকে এমনভাবে যথেষ্ট করে দিন, যাতে হারামের প্রয়োজন না হয়। আপনার অনুগ্রহে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত রাখুন। (তিরমিজি: ৩৫৬৩)

দুশ্চিন্তা ও ঋণের ভার থেকে মুক্তির দোয়া

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে প্রশান্তিও নষ্ট করে। এমন অবস্থায় ঋণ পরিশোধের চিন্তা, সংসারের খরচ এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া শিখিয়েছেন।

দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল ঝুবনি, ওয়া দালাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা, অক্ষমতা ও অলসতা, কৃপণতা ও ভীরুতা, ঋণের ভার এবং মানুষের কাছে পরাভূত হওয়া থেকে। (বুখারি: ৬৩৬৯)

বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

অভাব-অনটন থেকে মুক্তি ও রিজিকে বরকত লাভের জন্য বেশি বেশি ইস্তেগফার আমল করতে হবে। ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীনালা সৃষ্টি করবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)

তাকওয়া অবলম্বন করা

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে। তাকওয়া হলো আল্লাহভীরুতা। অর্থাৎ, আল্লাহকে ভয় করে তার আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনা করা। এর পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: ২-৩)

হালাল উপার্জন ও ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা

ইসলাম দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এজন্য পরিশ্রম করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই অর্থকষ্টে পড়লে শুধু দোয়া করে বসে না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী খরচ কমানো ও ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করতে হবে। সেইসঙ্গে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিক নিয়ত থাকতে হবে।

ঋণ পরিশোধের সদিচ্ছার গুরুত্ব তুলে ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে তা পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন।’ (বুখারি: ২৩৮৭)

/জেএইচ/