সড়ক দখল করে বিএনপি কার্যালয়, ফুটপাতে ভাঙারির দোকান

সড়ক দখল করে বিএনপি কার্যালয়, ফুটপাতে ভাঙারির দোকান
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়কের মাঝে বিএনপির কার্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কার্যালয়। তবে দলীয় কার্যালয় বলা হলেও সেখানে চলছে ভাঙারি পণ্যের কেনাবেচা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাধারণ পথচারীদের চলাচলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ নম্বর ইউনিট বিএনপি কার্যালয়ের নামে এই দখলদারি চালানো হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির পেছনের গলিতে এসএস অটোমোবাইলসের সামনে রুলিং মিল বটতলা এলাকায় সড়কের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে টিনশেডের অস্থায়ী কার্যালয়। কার্যালয়ে চেয়ার-টেবিল সাজানো রয়েছে। পেছনে টাঙানো হয়েছে বিএনপির তিন শীর্ষ নেতার ছবি। রাস্তার অপর পাশেই আরেকটি টিনশেডের ঘর। সেখানেও রয়েছে বিএনপি নেতাদের ছবি। ভেতরে মজুত করে রাখা হয়েছে নানা ধরনের ভাঙারি পণ্য।

সড়ক দখল করে গড়ে তোলা বিএনপি কার্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
সড়ক দখল করে গড়ে তোলা বিএনপি কার্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটের প্রচারণার উদ্দেশ্যে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে এই অস্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। তবে নির্বাচন পার হয়ে গেলেও এসব আর সরানো হয়নি। ধীরে ধীরে তা ভাঙারির দোকানে পরিণত হয়েছে।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক খিচুড়ি বিক্রেতা বলেন, ‘এই ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন মনা ভাই। তিনি নিয়মিত এখানে আসেন এবং তার নির্দেশেই ক্লাবটি পরিচালিত হয়।’

এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক বিএনপি নেতা মনা ভাই এই ক্লাবটি নিয়ন্ত্রণ করেন। তার প্রধান কার্যালয় মূলত এটিই। পাশাপাশি সামনের গলিতে মনা ভাইয়ের নিজস্ব একটি ভাঙারি দোকানও রয়েছে। এই অফিসের যাবতীয় দেখাশোনা করেন তার শ্যালক মাসুদ।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফুটপাত দখল করে চলছে ভাঙারির দোকান । ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফুটপাত দখল করে চলছে ভাঙারির দোকান । ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বিষয়টি নিশ্চিত হতে ‘মনা ভাই’য়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার দোকানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে এক কর্মচারী বলেন, মনা ভাই অফিসের কাজেই বাইরে আছেন। কখন ফিরবেন তা নিশ্চিত নয়। সেখানে উপস্থিত মনার এক অনুসারী বলেন, ‘এই অফিস মনা ভাইয়েরই বানানো। মনা ভাই ছাড়া আর কোনো প্রভাব বিস্তারকারী নেতা নেই।’

৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ‘মনা ভাই’য়ের দেখা না পাওয়ায় পরে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার পুরো নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘মনা’ নামেই পরিচয় দেন।

সড়কের ওপর দলীয় কার্যালয় ও ভাঙারি ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ইউনিটের দায়িত্বে থাকা বিএনপি নেতা মনা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সময় কার্যালয়টি করা হয়েছিল। তখন এটি ভাঙা পড়েনি। তবে এখন যদি সরাতে হয়, আমি সরাতে রাজি আছি। আমার এমন কোনো জেদ নেই যে এটা রাখতেই হবে। দলের স্বার্থে আমি এখনই এটা ভেঙে সরিয়ে দিতে পারি।’

তেজগাঁও শিল্পঞ্চলে রুলিং মিল বটতলা এলাকায় ৮ নম্বর ইউনিট বিএনপি কার্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
তেজগাঁও শিল্পঞ্চলে রুলিং মিল বটতলা এলাকায় ৮ নম্বর ইউনিট বিএনপি কার্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

​ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সড়ক দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতার অপব্যবহার একদম পছন্দ করি না। এলাকায় খোঁজ নিলে সবাই আমার বিষয়ে একই কথা বলবে। রাস্তার মাঝখানে আগে কিছু দোকানপাট ছিল, সেগুলো সরিয়ে নির্বাচনের সময় আমরা অস্থায়ী অফিস করি। পরে আর সরায়নি, ওইভাবেই থেকে গেছে।’

​রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এবং নির্বাচনের অজুহাত তুলে এভাবে ব্যস্ততম সড়ক দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সড়কটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে জানান, কেউ রাস্তার মাঝে কিংবা ফুটপাতে কোনোভাবেই দলীয় কার্যালয় তৈরি করতে পারে না। সরকারদলীয় কার্যালয় গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাই সিটি করপোরেশনের এ ব্যাপারে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, পার্টি অফিস থাকবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু কোথায় আছে সেই তথ্য দিন, আমি দেখবো। দেখে ব্যবস্থা নেবো।

/এফসি/