তারেক রহমান ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: মামুনুল হক

তারেক রহমান ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: মামুনুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে পা বাড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বন্দোবস্তে যেকোনো সরকারপ্রধান কয়েক বছর ক্ষমতা চর্চা করলে নিজের অজান্তেই ফ্যাসিবাদী হাসিনায় পরিণত হবেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমি বাংলাদেশের আলেম সমাজকে বলতে চাই, বিএনপির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা যদি আমাদের সন্তানদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করি, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। এ জন্য জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং সংবিধান সংস্কার না হলে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে বিভক্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে এই বিপ্লব তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে। বাংলাদেশকে আল্লাহপাক নব্য ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করবেন– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন জাতিসত্তা গঠনের যে অভিপ্রায় ছিল, সেই অভিপ্রায়ের অসমাপ্ত সংগ্রামে জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। জুলাই বিপ্লবের সেই অভিপ্রায়, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই সনদে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব ধারা যুক্ত হয়েছে, তার প্রতিটিতেই বিএনপির পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেওয়া হয়েছে। আমরা মাদ্রাসার পটভূমি থেকে আসা মানুষ, যারা জুলাই বিপ্লবকে নিজেদের বলে মনে করি। চূড়ান্তভাবে আমরা এই বিপ্লবকে ধারণ করি। এমনকি এই বিপ্লবকে নিজেদের বিপ্লব বলতেও আমরা দ্বিধা করি না।
মামুনুল হক বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সনদ প্রণয়নের সময়ই বিএনপি এসব ভিন্নমত জানিয়েছিল। এরপর সর্বশেষ জুলাই সনদে স্বাক্ষরের ঠিক মুহূর্তে সব রাজনৈতিক দলকে অন্ধকারে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে থাকা একটি গোষ্ঠী এবং বিএনপি মিলে রাতের আঁধারে জনগণের জুলাই সনদের মূল স্পিরিট ও চেতনাকে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, সনদের সঙ্গে একটি নোট বা ফুটনোট যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর যেকোনো দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে মূলত পুরো জুলাই সনদকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এই বিরোধের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ওই নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল, যা আমরা সবাই জানি। একটি ছিল সংসদ নির্বাচন, যার মাধ্যমে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যটি ছিল গণভোট বা রেফারেন্ডাম, যা ছিল রাষ্ট্র মেরামতের নির্বাচন। দুটি নির্বাচন একই সময়ে, একই নির্বাচন কমিশনের তফসিলের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে উভয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। দুটি ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই একই সময়ে শপথের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যেক সদস্যকে দুটি শপথনামা দেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ, অর্থাৎ সরকার গঠনের শপথ। অন্যটি ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ, যা রাষ্ট্র মেরামতের শপথ।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এর মাধ্যমে এটা পরিষ্কার, তারা সরকার গঠনে আগ্রহী, কিন্তু রাষ্ট্র মেরামতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এর কারণ কী? সরকার গঠন করলে সুবিধা আছে, মন্ত্রী হওয়া যায়।
মামুনুল হক বলেন, বিএনপির আরেকটি বড় প্রতারণা হলো, জুলাই বিপ্লবের মূল ভিত্তি যে ঐক্য, সেই ঐক্যকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের ভিত্তি ছিল সব বিভেদ ভুলে রাষ্ট্র মেরামতের অভিপ্রায় নিয়ে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করা। এর মধ্য দিয়ে রাজপথে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল। অথচ এখন বিএনপি সেই ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ঐক্যে ফাটল ধরানোর জন্য তারা প্রথম লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামপন্থিদের।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ইসলামপন্থিদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, তোমাদের এই অপতৎপরতা বন্ধ না হলে মনে রেখো, ইসলামপন্থীরা বিগত ৫০ বছর তোমাদের বিনামূল্যে সেবা দিয়েছে। আমাদের আশা ছিল, তোমরা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এবং আমাদের কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার, বিএনপি রাষ্ট্র মেরামত করতে চায় না। বরং বাংলাদেশে জেঁকে বসা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করে দেশ পরিচালনা করতে চায়।
মামুনুল হক বলেন, কাজেই আমাদের ঘোষণা, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বিএনপি যদি অব্যাহতভাবে অগ্রাহ্য করতে থাকে, তাহলে আমরা শুধু সংবিধান সংস্কার নয়, বরং সংবিধান পুনর্লিখনের দিকে অগ্রসর হব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের সেই আন্দোলন যখন শুরু হবে, তখন ২০২৪ সালের বিপ্লবের যে অসমাপ্ত অধ্যায় রয়েছে, তা জুলাই বিপ্লবের চেয়েও ব্যাপক হবে এবং ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাসীনদের জন্য আরও ভয়ংকর হবে।
আলোচনা সভায় এসময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে পা বাড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বন্দোবস্তে যেকোনো সরকারপ্রধান কয়েক বছর ক্ষমতা চর্চা করলে নিজের অজান্তেই ফ্যাসিবাদী হাসিনায় পরিণত হবেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমি বাংলাদেশের আলেম সমাজকে বলতে চাই, বিএনপির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা যদি আমাদের সন্তানদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করি, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। এ জন্য জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং সংবিধান সংস্কার না হলে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে বিভক্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে এই বিপ্লব তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে। বাংলাদেশকে আল্লাহপাক নব্য ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করবেন– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন জাতিসত্তা গঠনের যে অভিপ্রায় ছিল, সেই অভিপ্রায়ের অসমাপ্ত সংগ্রামে জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। জুলাই বিপ্লবের সেই অভিপ্রায়, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই সনদে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব ধারা যুক্ত হয়েছে, তার প্রতিটিতেই বিএনপির পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেওয়া হয়েছে। আমরা মাদ্রাসার পটভূমি থেকে আসা মানুষ, যারা জুলাই বিপ্লবকে নিজেদের বলে মনে করি। চূড়ান্তভাবে আমরা এই বিপ্লবকে ধারণ করি। এমনকি এই বিপ্লবকে নিজেদের বিপ্লব বলতেও আমরা দ্বিধা করি না।
মামুনুল হক বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সনদ প্রণয়নের সময়ই বিএনপি এসব ভিন্নমত জানিয়েছিল। এরপর সর্বশেষ জুলাই সনদে স্বাক্ষরের ঠিক মুহূর্তে সব রাজনৈতিক দলকে অন্ধকারে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে থাকা একটি গোষ্ঠী এবং বিএনপি মিলে রাতের আঁধারে জনগণের জুলাই সনদের মূল স্পিরিট ও চেতনাকে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, সনদের সঙ্গে একটি নোট বা ফুটনোট যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর যেকোনো দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে মূলত পুরো জুলাই সনদকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এই বিরোধের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ওই নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল, যা আমরা সবাই জানি। একটি ছিল সংসদ নির্বাচন, যার মাধ্যমে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যটি ছিল গণভোট বা রেফারেন্ডাম, যা ছিল রাষ্ট্র মেরামতের নির্বাচন। দুটি নির্বাচন একই সময়ে, একই নির্বাচন কমিশনের তফসিলের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে উভয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। দুটি ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই একই সময়ে শপথের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যেক সদস্যকে দুটি শপথনামা দেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ, অর্থাৎ সরকার গঠনের শপথ। অন্যটি ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ, যা রাষ্ট্র মেরামতের শপথ।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এর মাধ্যমে এটা পরিষ্কার, তারা সরকার গঠনে আগ্রহী, কিন্তু রাষ্ট্র মেরামতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এর কারণ কী? সরকার গঠন করলে সুবিধা আছে, মন্ত্রী হওয়া যায়।
মামুনুল হক বলেন, বিএনপির আরেকটি বড় প্রতারণা হলো, জুলাই বিপ্লবের মূল ভিত্তি যে ঐক্য, সেই ঐক্যকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের ভিত্তি ছিল সব বিভেদ ভুলে রাষ্ট্র মেরামতের অভিপ্রায় নিয়ে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করা। এর মধ্য দিয়ে রাজপথে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল। অথচ এখন বিএনপি সেই ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ঐক্যে ফাটল ধরানোর জন্য তারা প্রথম লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামপন্থিদের।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ইসলামপন্থিদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, তোমাদের এই অপতৎপরতা বন্ধ না হলে মনে রেখো, ইসলামপন্থীরা বিগত ৫০ বছর তোমাদের বিনামূল্যে সেবা দিয়েছে। আমাদের আশা ছিল, তোমরা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এবং আমাদের কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার, বিএনপি রাষ্ট্র মেরামত করতে চায় না। বরং বাংলাদেশে জেঁকে বসা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করে দেশ পরিচালনা করতে চায়।
মামুনুল হক বলেন, কাজেই আমাদের ঘোষণা, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বিএনপি যদি অব্যাহতভাবে অগ্রাহ্য করতে থাকে, তাহলে আমরা শুধু সংবিধান সংস্কার নয়, বরং সংবিধান পুনর্লিখনের দিকে অগ্রসর হব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের সেই আন্দোলন যখন শুরু হবে, তখন ২০২৪ সালের বিপ্লবের যে অসমাপ্ত অধ্যায় রয়েছে, তা জুলাই বিপ্লবের চেয়েও ব্যাপক হবে এবং ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাসীনদের জন্য আরও ভয়ংকর হবে।
আলোচনা সভায় এসময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: মামুনুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে পা বাড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বন্দোবস্তে যেকোনো সরকারপ্রধান কয়েক বছর ক্ষমতা চর্চা করলে নিজের অজান্তেই ফ্যাসিবাদী হাসিনায় পরিণত হবেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, আমি বাংলাদেশের আলেম সমাজকে বলতে চাই, বিএনপির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা যদি আমাদের সন্তানদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করি, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। এ জন্য জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং সংবিধান সংস্কার না হলে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে বিভক্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে এই বিপ্লব তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে। বাংলাদেশকে আল্লাহপাক নব্য ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করবেন– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীন জাতিসত্তা গঠনের যে অভিপ্রায় ছিল, সেই অভিপ্রায়ের অসমাপ্ত সংগ্রামে জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। জুলাই বিপ্লবের সেই অভিপ্রায়, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই সনদে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব ধারা যুক্ত হয়েছে, তার প্রতিটিতেই বিএনপির পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেওয়া হয়েছে। আমরা মাদ্রাসার পটভূমি থেকে আসা মানুষ, যারা জুলাই বিপ্লবকে নিজেদের বলে মনে করি। চূড়ান্তভাবে আমরা এই বিপ্লবকে ধারণ করি। এমনকি এই বিপ্লবকে নিজেদের বিপ্লব বলতেও আমরা দ্বিধা করি না।
মামুনুল হক বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সনদ প্রণয়নের সময়ই বিএনপি এসব ভিন্নমত জানিয়েছিল। এরপর সর্বশেষ জুলাই সনদে স্বাক্ষরের ঠিক মুহূর্তে সব রাজনৈতিক দলকে অন্ধকারে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে থাকা একটি গোষ্ঠী এবং বিএনপি মিলে রাতের আঁধারে জনগণের জুলাই সনদের মূল স্পিরিট ও চেতনাকে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, সনদের সঙ্গে একটি নোট বা ফুটনোট যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর যেকোনো দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে মূলত পুরো জুলাই সনদকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এই বিরোধের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ওই নির্বাচনে দুটি ভোট হয়েছিল, যা আমরা সবাই জানি। একটি ছিল সংসদ নির্বাচন, যার মাধ্যমে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যটি ছিল গণভোট বা রেফারেন্ডাম, যা ছিল রাষ্ট্র মেরামতের নির্বাচন। দুটি নির্বাচন একই সময়ে, একই নির্বাচন কমিশনের তফসিলের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে উভয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। দুটি ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই একই সময়ে শপথের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যেক সদস্যকে দুটি শপথনামা দেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ, অর্থাৎ সরকার গঠনের শপথ। অন্যটি ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ, যা রাষ্ট্র মেরামতের শপথ।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এর মাধ্যমে এটা পরিষ্কার, তারা সরকার গঠনে আগ্রহী, কিন্তু রাষ্ট্র মেরামতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এর কারণ কী? সরকার গঠন করলে সুবিধা আছে, মন্ত্রী হওয়া যায়।
মামুনুল হক বলেন, বিএনপির আরেকটি বড় প্রতারণা হলো, জুলাই বিপ্লবের মূল ভিত্তি যে ঐক্য, সেই ঐক্যকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের ভিত্তি ছিল সব বিভেদ ভুলে রাষ্ট্র মেরামতের অভিপ্রায় নিয়ে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করা। এর মধ্য দিয়ে রাজপথে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল। অথচ এখন বিএনপি সেই ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ঐক্যে ফাটল ধরানোর জন্য তারা প্রথম লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামপন্থিদের।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ইসলামপন্থিদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, তোমাদের এই অপতৎপরতা বন্ধ না হলে মনে রেখো, ইসলামপন্থীরা বিগত ৫০ বছর তোমাদের বিনামূল্যে সেবা দিয়েছে। আমাদের আশা ছিল, তোমরা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এবং আমাদের কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার, বিএনপি রাষ্ট্র মেরামত করতে চায় না। বরং বাংলাদেশে জেঁকে বসা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করে দেশ পরিচালনা করতে চায়।
মামুনুল হক বলেন, কাজেই আমাদের ঘোষণা, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বিএনপি যদি অব্যাহতভাবে অগ্রাহ্য করতে থাকে, তাহলে আমরা শুধু সংবিধান সংস্কার নয়, বরং সংবিধান পুনর্লিখনের দিকে অগ্রসর হব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের সেই আন্দোলন যখন শুরু হবে, তখন ২০২৪ সালের বিপ্লবের যে অসমাপ্ত অধ্যায় রয়েছে, তা জুলাই বিপ্লবের চেয়েও ব্যাপক হবে এবং ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাসীনদের জন্য আরও ভয়ংকর হবে।
আলোচনা সভায় এসময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি টিয়া পাখির মত মিথ্যা কথা বলে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা সরকারের নেই: জামায়াত আমির







