‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’: মহাখালীতে জামায়াতের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’: মহাখালীতে জামায়াতের মিছিল
মহাখালীতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং তেল-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রাজধানীর মহাখালীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান দেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে মহাখালী রেলগেট এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাবিস্কো এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গত ছয় মাসে সরকার তিনবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কৃষিখাতে দুর্যোগ এবং গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা বন্ধের দিকে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় সংসদে কথা বলতে চাওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই পাম্পগুলোতে সংকটের অবসান ঘটে। তার দাবি, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল।

জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, গভীর রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের কোনো সহযোগিতা নেওয়ার ইচ্ছা নেই দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় না থাকায় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও অরাজকতার কারণে দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমালোচনা করে তিনি শিশু আছিয়া, রামিসা ও অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি পরিষ্কার। খুনি হাসিনাসহ তার সঙ্গীদের দেশে ফেরত এনে ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে।

জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে ড. রেজাউল করিম বলেন, তা না হলে সরকারকে গদি ছাড়তে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের উপস্থাপনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং ইয়াসিন আরাফাত।

এ সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ ও নাসির উদ্দীনসহ জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান।

/এফআর/