স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত আজ প্রধান বিরোধী দল, এটা লজ্জার: রাশেদ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত আজ প্রধান বিরোধী দল, এটা লজ্জার: রাশেদ খান
সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন রাশেদ খান। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি’ জামায়াত-শিবিরের সংসদের প্রধান বিরোধী দল হওয়াকে লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের জন্ম চায়নি, তারাই আজ সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে রয়েছেন।’

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে রাশেদ খান এসব কথা বলেন। পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং তাকে অসম্মান করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রাশেদ খান বলেন, ‘দুঃখ লাগে, কষ্ট লাগে। আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির প্রধান বিরোধী দল হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশের জন্ম চায়নি, তারা আজ সংসদের প্রধান বিরোধী দল। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’

শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের সংগঠিত করে মাঠে নেমেছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ঢুকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালিয়েছে। আর জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।’

রাশেদ খান আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। ডিসেম্বর থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করছে এবং এর সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের সংগঠিত করে মাঠে নামিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শ্রমিকের ছদ্মবেশে পুলিশের গাড়ি, পিকআপ ও গার্মেন্টস কারখানায় আগুন দিয়েছে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে রাশেদ খান বলেন, ‘বিএনপি সরকার শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কেউ যেন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সুযোগ নিতে না পারে।’

প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামসহ সারাদেশ থেকে আগত মুক্তিযুদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/