শিরোনাম
মিরপুরে যুবদল কর্মী খুন

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ার ইচ্ছাপোষণে হত্যার নীল নকশার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ার ইচ্ছাপোষণে হত্যার নীল নকশার অভিযোগ
হাফিজুল ইসলাম বাবু। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় গুলি করে যুবদলের কর্মী ইউসুফকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তী এক সংবাদ সন্মেলনে বাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকার আধিপত্য ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা জানানো হয়। তবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপোষণে এই হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। পল্লবীতে যুবদল নেতা ইউসূফ হত্যা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক নারকীয় গুলির ঘটনা ঘটে। এই হামলায় নিহত হন কাফরুল থানা যুবদলের কর্মী ইউসুফ। গুলিতে আরও দুজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলাম আমি নিজেই। আমাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে শুটার নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই।’

গত সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলা সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে বলা হয়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসা কিংবা জমি দখলকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বক্তব্যের সাথে প্রকৃত সত্যের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন হাফিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আমি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম। আমার এই প্রার্থিতার আগ্রহই আমার ও আমার সহকর্মীদের জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, সেই উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করা হয়। মূল চক্রান্তকারী নিজে আড়ালে থেকে হাফিজুর রহমান হাফিজকে (সিএনজি হাফিজ) সামনে রেখে এই কিলিং মিশন পরিচালনা করেছে। মূল ঘটনা ও অপরাধীদের আড়াল করতে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের গল্প সাজিয়ে পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

পরে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের সঙ্গে কাফরুল থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির বেশ কয়েকটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘হাফিজকে সামনে রেখে মূল ঘাতককে আড়াল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পায়তারা চলছে। এতক্ষণ যে ছবিগুলো দেখেছি তিনজন ঘাতকের সঙ্গে একই নেতার ছবি। তাহলে কি সেই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাটা আইনের দায়িত্ব নয়? এখনো কি আইন সেই নেতাকে জিজ্ঞেস করেছে? তাকে জিজ্ঞেস না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি করলো? হাফিজকে মূল আসামি করে প্রেস ব্রিফিং করে দিল। হাফিজ তো এখনও গ্রেপ্তার হলো না। তাহলে এত তড়িঘড়ি করে প্রেস ব্রিফিংয়ের মানে কি?’

নিজের জীবনের শঙ্কা প্রকাশ করে বাবু বলেন, ‘আমি এখনো শঙ্কিত আছি।’

হত্যাকারীর নাম মুখে আনা অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে মা খালাদের মুখে শুনেছি ভাসুরের নাম মুখে আনতে হয় না। ভাসুরের নাম মুখে আনলে অপরাধ। এখন এমন এক সিচুয়েশনে পড়েছি, হত্যাকারীর নাম মুখে আনাটাও আমার জন্য নাকি অপরাধ। আমি অবশ্যই আমার জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি। রাষ্ট্রের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে আমার নিরাপত্তার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনারীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাফরুল থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা বলে আমি ধারণা করছি। আবির, হাফিজ, জিয়ারুল এই তিন ঘাতকের সঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির ছবি পাওয়া গিয়েছে। আপনাদের তদন্তে অবশ্যই বের হয়ে আসবে অন্যান্য ঘাতকদের সঙ্গে ছবি আছে কিনা। প্রমাণ করার দায়িত্বটা প্রশাসনের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি কিলিং মিশনের নেপথ্যে থাকা মূল নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

এ ঘটনায় কাফরুল থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে বিচার চেয়ে আসছি। এই ঘটনায় যে বা যারাই অপরাধী হোক তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তদন্তে যদি আমার নামও আসে তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে যে সাজা হয় তা মেনে নিতে আমি প্রস্তুত।’

প্রধান আসামি বা পরিকল্পনাকারী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হাফিজের সঙ্গে আপনার একাধিক ছবি রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জনি বলেন, ‘হাফিজকে এখন কিলার বা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি বলা হলেও ২০১৫ সাল থেকে সে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেই সুবাদে আমার সঙ্গে ছবি থাকতেই পারে। এটা দোষের কিছু দেখছি না।’

/এমএইচএম/জেএইচ/