হাসতে ইচ্ছে করছে না, আজকের দিনটি আপনারই

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
হাসতে ইচ্ছে করছে না, আজকের দিনটি আপনারই

সব সময় হাসিমুখে থাকা কি আর মুখের কথা! কাজের চাপ, যানজট, একের পর এক ফোনকল কিংবা চায়ের কাপে চিনি কম-মন খারাপ বা মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার কারণের তো অভাব নেই। কেউ বিরক্তি চেপে রাখেন, কেউ আবার মুখ ভার করে বুঝিয়ে দেন, আজ তার ধারে-কাছে না যাওয়াই ভালো। আর এমন গোমড়ামুখো স্বভাব নিয়েই যদি থাকে একটি বিশেষ দিন, তাহলে রাগ করারই বা কী আছে! আজ ১৫ অক্টোবর, গ্রাউচ ডে বা খিটখিটে মেজাজ দিবস। দিনটি বদমেজাজকে ঘিরে মজার ছলে হাসাহাসি করার পাশাপাশি নিজের আবেগকে চিনে নেওয়ারও উপলক্ষ।

খিটখিটে মেজাজের কথা উঠলেই মনে পড়তে পারে জনপ্রিয় শিশুতোষ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের কথা। সবুজ লোমশ শরীর, সারাক্ষণ বিরক্ত মুখ আর আবর্জনার পাত্রে বসবাস-সব মিলিয়ে অস্কার যেন বদমেজাজের একেবারে পোস্টার বয়! ১৯৬৯ সালে ‘সেসামি স্ট্রিট’-এ আত্মপ্রকাশের পর থেকেই চরিত্রটি দর্শকদের পরিচিত হয়ে ওঠে। তার কাছে আনন্দের চেয়ে অভিযোগের তালিকা যেন অনেক বেশি প্রিয়।

অস্কারের বিশেষত্ব হলো, তার বিরক্তিরও যেন শেষ নেই। চারপাশের মানুষ আনন্দে থাকলে সে কেন গোমড়ামুখো, আর কেউ বিরক্ত হলে তার সঙ্গে কীভাবে তাল মেলাবে-এসব নিয়ে ভাবার দরকার পড়ে না। আবর্জনার পাত্রই তার প্রিয় ঠিকানা। আবর্জনার প্রতি ভালোবাসা নিয়েও রয়েছে তার মজার গান। তবে এই চিরবিরক্ত চরিত্রের মধ্যেও কখনও কখনও কোমলতার আভাস মেলে। আর সেই বৈপরীত্যই অস্কারকে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

তবে অস্কারকে দেখেই যে খিটখিটে মেজাজ দিবসের জন্ম, তা কিন্তু নয়। এই দিবসের পেছনে রয়েছে এক শিক্ষার্থী, তার বিরক্তিকর শিক্ষক এবং একটি জন্মদিনের মজার গল্প।

১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজের কাছে তাদের নাতনি মনিকা ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে পালনের ধারণা তুলে ধরেন। সে সময় মিশিগানের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকার এক শিক্ষক ছিলেন বেশ খিটখিটে স্বভাবের। শিক্ষকের জন্মদিন আবার ১৫ অক্টোবর। তাই বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ওই দিনটিকে মজার ছলে ‘গ্রাউচ ডে’ হিসেবে চিহ্নিত করে মনিকা। সেই ছোট্ট রসিকতার ভাবনাই পরে দিবস পালনের ধারণা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিবসটির পরিচিতি বাড়ে। ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর অস্কার দ্য গ্রাউচের মতো জনপ্রিয় চরিত্রের সঙ্গে এর যোগসূত্রও মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এখন দিনটি পালন করার জন্য বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি মনে হয়, আজ কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না, তবে সেটিকে ঘিরে একটু হাসিঠাট্টা করা যেতে পারে। অবশ্য অফিসে বসের প্রশ্নের উত্তরে ‘আজ গ্রাউচ ডে’ বললেই যে ছুটি মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই!

দিবসটি পালনের মজার উপায় হতে পারে অস্কারের পুরনো পর্ব দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি করা কিংবা নিজের গোমড়ামুখো মুহূর্তগুলোকে হাসির চোখে দেখা। তবে মজা করতে গিয়ে কাউকে অপমান করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দেওয়া মোটেই কাম্য নয়। খিটখিটে মেজাজ দিবস মানে অন্যের মেজাজ খারাপ করার লাইসেন্স নয়!

এই দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সব সময় হাসিখুশি থাকার বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসা। মানুষের জীবনে রাগ, বিরক্তি, হতাশা কিংবা মন খারাপের মতো অনুভূতি থাকতেই পারে। প্রতিটি মুহূর্তে হাসিমুখ ধরে রাখার চেষ্টা না করে নিজের অনুভূতিকে বোঝা জরুরি। কেন বিরক্ত লাগছে, কী কারণে মন খারাপ হচ্ছে, কিংবা কোন পরিস্থিতিতে রাগ বাড়ছে-এসব নিয়ে ভাবলে নিজের আবেগ সামলানো সহজ হতে পারে। তবে অনুভূতি প্রকাশের সময় নিজের ও অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

/এসবি/