শিরোনাম

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া: পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে হাঁটছেন ফাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া: পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে হাঁটছেন ফাহিম
বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ফাহিম মুনতাসির। ছবিটি আজ শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদরের হাজিরাহাটি এলাকা থেকে তোলা

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিচ্ছেন ফাহিম মুনতাসির। ১০ জুলাই তিনজন মিলে টেকনাফ থেকে হাঁটা শুরু করেন ফাহিম। পরে ফেনীতে এসে তার দুই সহযাত্রী হাঁটা থামিয়ে দেন। এরপর থেকে একাই হাঁটছেন তিনি। এই পদযাত্রায় তিনি মানুষকে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করছেন। একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বার্তাও দিচ্ছেন।

ফাহিম মুনতাসিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। স্কুলে পড়াকালীন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি। বিভিন্ন সময় প্রকৃতি সুরক্ষা ও জলাধার ভরাটবিরোধী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন।

ফাহিম জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরুর পর উখিয়া ও চকরিয়া, চট্টগ্রামের কেরানীহাট, পতেঙ্গা ও সীতাকুণ্ড, ফেনীর মহিপাল, কুমিল্লা শহর ও দাউদকান্দি, ঢাকা, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর ও মির্জাপুর হয়ে ১৩ দিনে টাঙ্গাইলে পৌঁছান। আজ শুক্রবার সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার পথে হাঁটছেন।

পদযাত্রার বিষয়ে তিনি বলেন, ১০ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে রওনা দিয়েছি। সিরাজগঞ্জে ১৪তম রাত যাপন করেছি। বগুড়ায় আজ শুক্রবার রাতে পৌঁছাব বলে আশা করি। তার ধারণা, তেঁতুলিয়ায় পৌঁছাতে আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

পদযাত্রার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন ফাহিম মুনতাসির। সেখানে সতীর্থদের সঙ্গে ছবি তোলেন
পদযাত্রার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন ফাহিম মুনতাসির। সেখানে সতীর্থদের সঙ্গে ছবি তোলেন

হাঁটার গুরুত্বের বিষয়ে ফাহিম বলেন, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটা প্রয়োজন। এই পরিমাণ হাঁটলে মানুষ সুস্থ থাকতে পারবে। কিন্তু মানুষ অনেক বেশি যানবাহননির্ভর হয়ে যাচ্ছে। হাঁটার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। তাই বাড়ছে রোগবালাই। হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করতেই তিনি এ পদযাত্রা শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, হাঁটার অভ্যাস করলে জ্বালানির ব্যবহার কমবে। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে। জিরো কার্বনের স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। যানবাহনের ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার। ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা যায়। আমার এই পদযাত্রা সেই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি চেষ্টা। মানুষের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করা এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই তার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য।

 সিরাজগঞ্জে স্বজনদের সঙ্গে ফাহিম মুনতাসির
সিরাজগঞ্জে স্বজনদের সঙ্গে ফাহিম মুনতাসির

তিনি আরও বলেন, নিজের উদ্যোগে এই পদযাত্রা করছেন তিনি। পথে বিভিন্ন শহর ও উপজেলায় বন্ধু-স্বজনদের বাড়িতে রাতে থাকেন।

সিরাজগঞ্জে হাঁটার পথে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে ফাহিম বলেন, সড়কের পাশের গাছ কেটে রাস্তা বড় করা হচ্ছে। পাথির অভয়াশ্রম নষ্ট করা হচ্ছে। জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। এগুলো আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকি। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্তি ব্যবহারের কারণে প্রতিনিয়িত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে। আমার এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে একজন মানুষও যদি পরিবর্তন হয়, সেটাই আমার সফলতা।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরীহ প্রাণী সাপ। দিনদিন আমাদের দেশে সাপের অভয়ারণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।হ বন্যপ্রাণী হত্যা করে পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হাতি। এদিকে বলা হচ্ছে, মা হাতি মারা যাচ্ছে। পরিবেশের জন্য হুমকি– এমন কাজ পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে পরিবেশ আইনের বাস্তবায়ন চাচ্ছি।

টাঙ্গাইলে ফাহিমের সঙ্গে হাঁটেন শিল্পী দম্পতি
টাঙ্গাইলে ফাহিমের সঙ্গে হাঁটেন শিল্পী দম্পতি

ফাহিমের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ থেকে যোগ দিয়েছেন নুপুর নামের একজন চিত্রশিল্পী। তিনি তার সঙ্গে বগুড়া পর্যন্ত যাবেন। তারপর সেখান থেকে নিজ কর্মস্থল ঢাকায় ফিরে আসবেন। নুপুর বলেন, আমি মূলত একজন চিত্রশিল্পী। পড়াই রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রকৃতি রক্ষায় আমিও ফাহিমের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। প্রাকৃতিক দুযোর্গ মানুষেরই তৈরি। প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে। হেঁটে হেঁটে মানুষকে পরিবেশ রক্ষারই বার্তা দিচ্ছি। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ফাহিম মুনতাসিরের পদযাত্রা প্রসঙ্গে ডিপ ইকোলজি এন্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তখনই, যখন মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ককে নতুন করে উপলব্ধি করে। ফাহিম মুনতাসির ভাইয়ের এই পদযাত্রাকে আমি কেবল একটি ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না; এটি প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা এবং দৈনন্দিন জীবনে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর উদাহরণ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যাওয়ার এক চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার এই যাত্রা আরও অনেক মানুষকে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী এবং টেকসই জীবনযাপনের পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করুক এই প্রত্যাশা করছি।

/এসআর/