২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ
সিজেডএন ডেস্ক

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা ও গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে একনেকের সভায় মেট্রোরেলে তিন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এগুলোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন মেয়াদে এই প্রকল্প তিনটি চালু হবে।
প্রকল্প তিনটি হলো- জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমালাপুর)। ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এটিরও অর্থায়ন করবে জাপান। অন্যদিকে ১৩.১০ কিলোমিটার আন্ডরগ্রাউন্ডসহ ১৭.২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%
দেশের প্রথম পাতল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সেসময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা; আর বাকি ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ জাইকার ঋণ। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ১৩৩% বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। জাপানের ঋণের বরাদ্দও ১১২.৫৩% বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তকরণে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সময় লেগেছে। এ কারণে প্যাকেজসমূহের আর্থিক দরপত্র উন্মুক্তকরণ বিলম্বিত হয়, যা পরবর্তীতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪১ কিলোমিটার। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের বিমানবন্দর রুটটি দেশের সম্পূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল। এটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশের দৈর্ঘ্য ১৯.৮৭২ কিলোমিটার। যাতে মোট ১২টি পাতাল স্টেশন থাকবে। এই রুটের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল চালু হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ১১.৩৬৯ কিলোমিটারের পূর্বাচল রুটটি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রুটে ৭টি উড়াল এবং ২টি পাতাল স্টেশন থাকবে।
এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%
এদিকে পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%। ২০১৯ সালে অনুমোদন পাওয়া মূল প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা রুটের এ প্রকল্পের সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ৮৪.২২% বাড়িয়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণের অংশ ১৩১.৮৯% বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার অংশ এলিভেটেড মেট্রোরেল হিসেবে নির্মিত হবে। আর আমিনবাজার থেকে ভাটারা অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্য হাতে নেওয়া হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন
এদিকে, একনেকের আজকের সভায় ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে-৫ সাউদার্ন রুট'- প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।নতুন এই প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা দেবে সরকার। আর ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া।
পাতাল পথ ও উড়াল পথে ১৭.২০ কিলোমিটার এ মেট্রোরেলটি গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পযন্ত ১৩.১০ কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে। আর আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪.১০ কিলোমিটার উড়াল পথে যাবে। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরে অন্তবর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালে এর ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকার সেখান থেকে কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা ও গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে একনেকের সভায় মেট্রোরেলে তিন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এগুলোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন মেয়াদে এই প্রকল্প তিনটি চালু হবে।
প্রকল্প তিনটি হলো- জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমালাপুর)। ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এটিরও অর্থায়ন করবে জাপান। অন্যদিকে ১৩.১০ কিলোমিটার আন্ডরগ্রাউন্ডসহ ১৭.২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%
দেশের প্রথম পাতল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সেসময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা; আর বাকি ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ জাইকার ঋণ। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ১৩৩% বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। জাপানের ঋণের বরাদ্দও ১১২.৫৩% বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তকরণে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সময় লেগেছে। এ কারণে প্যাকেজসমূহের আর্থিক দরপত্র উন্মুক্তকরণ বিলম্বিত হয়, যা পরবর্তীতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪১ কিলোমিটার। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের বিমানবন্দর রুটটি দেশের সম্পূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল। এটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশের দৈর্ঘ্য ১৯.৮৭২ কিলোমিটার। যাতে মোট ১২টি পাতাল স্টেশন থাকবে। এই রুটের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল চালু হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ১১.৩৬৯ কিলোমিটারের পূর্বাচল রুটটি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রুটে ৭টি উড়াল এবং ২টি পাতাল স্টেশন থাকবে।
এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%
এদিকে পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%। ২০১৯ সালে অনুমোদন পাওয়া মূল প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা রুটের এ প্রকল্পের সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ৮৪.২২% বাড়িয়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণের অংশ ১৩১.৮৯% বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার অংশ এলিভেটেড মেট্রোরেল হিসেবে নির্মিত হবে। আর আমিনবাজার থেকে ভাটারা অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্য হাতে নেওয়া হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন
এদিকে, একনেকের আজকের সভায় ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে-৫ সাউদার্ন রুট'- প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।নতুন এই প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা দেবে সরকার। আর ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া।
পাতাল পথ ও উড়াল পথে ১৭.২০ কিলোমিটার এ মেট্রোরেলটি গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পযন্ত ১৩.১০ কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে। আর আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪.১০ কিলোমিটার উড়াল পথে যাবে। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরে অন্তবর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালে এর ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকার সেখান থেকে কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।

২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ
সিজেডএন ডেস্ক

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা ও গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে একনেকের সভায় মেট্রোরেলে তিন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এগুলোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন মেয়াদে এই প্রকল্প তিনটি চালু হবে।
প্রকল্প তিনটি হলো- জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমালাপুর)। ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এটিরও অর্থায়ন করবে জাপান। অন্যদিকে ১৩.১০ কিলোমিটার আন্ডরগ্রাউন্ডসহ ১৭.২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%
দেশের প্রথম পাতল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪%। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সেসময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা; আর বাকি ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ জাইকার ঋণ। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ১৩৩% বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। জাপানের ঋণের বরাদ্দও ১১২.৫৩% বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্তকরণে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সময় লেগেছে। এ কারণে প্যাকেজসমূহের আর্থিক দরপত্র উন্মুক্তকরণ বিলম্বিত হয়, যা পরবর্তীতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪১ কিলোমিটার। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের বিমানবন্দর রুটটি দেশের সম্পূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল। এটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশের দৈর্ঘ্য ১৯.৮৭২ কিলোমিটার। যাতে মোট ১২টি পাতাল স্টেশন থাকবে। এই রুটের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল চালু হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ১১.৩৬৯ কিলোমিটারের পূর্বাচল রুটটি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রুটে ৭টি উড়াল এবং ২টি পাতাল স্টেশন থাকবে।
এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%
এদিকে পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী, ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৮৭%। ২০১৯ সালে অনুমোদন পাওয়া মূল প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা রুটের এ প্রকল্পের সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ৮৪.২২% বাড়িয়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাপানের ঋণের অংশ ১৩১.৮৯% বাড়িয়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার অংশ এলিভেটেড মেট্রোরেল হিসেবে নির্মিত হবে। আর আমিনবাজার থেকে ভাটারা অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্য হাতে নেওয়া হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন
এদিকে, একনেকের আজকের সভায় ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে-৫ সাউদার্ন রুট'- প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।নতুন এই প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা দেবে সরকার। আর ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়া।
পাতাল পথ ও উড়াল পথে ১৭.২০ কিলোমিটার এ মেট্রোরেলটি গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পযন্ত ১৩.১০ কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে। আর আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪.১০ কিলোমিটার উড়াল পথে যাবে। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের আগস্টে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরে অন্তবর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালে এর ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকার সেখান থেকে কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।

মেট্রোরেলের ৪৬ পিলারে ফাটল, সংসদে সড়কমন্ত্রী
মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক চেয়ে ডিএমটিসিএলকে আইনি নোটিশ







