কলকাতায় এলপিজি ৮৭ টাকা কেজি, বাংলাদেশে দ্বিগুণ

কলকাতায় এলপিজি ৮৭ টাকা কেজি, বাংলাদেশে দ্বিগুণ
সিজেডএন ডেস্ক

বাংলাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা। অথচ ভারতের কলকাতায় প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম।
তবে বাংলাদেশে বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করে, বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় বাসাবাড়ির রান্নার কাজে। প্রতিবছর দেশে এলপিজির চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি। ফলে এই জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে দাম কত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে দাম আরও কম।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৯৬৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সমপরিমাণ এলপিজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার কম।
নেপালে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার কিছু কম। পাকিস্তানে সম্প্রতি দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি ২৭৯ রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির দাম দাঁড়ায় দেড় হাজার টাকার কিছু কম।
অর্থাৎ এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি। শুধু নির্ধারিত দাম নয়, বাস্তবে বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে কেন এত পার্থক্য
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অবশ্য ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এলপিজির দাম সরাসরি তুলনা করতে চান না। তার মতে, ভারতের সরকারি সংস্থাগুলোর এলপিজি বিতরণব্যবস্থা ও অবকাঠামো অনেক বেশি শক্তিশালী।
জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পরিবহন ব্যয়। দেশে বড় আকারের মজুতাগার ও গভীর সমুদ্রবন্দরভিত্তিক টার্মিনাল না থাকায় ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করতে হয়। এতে খরচ বাড়ে।
মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এলপিজি কোম্পানিগুলোর জমি রয়েছে। সেখানে টার্মিনাল হলে বড় জাহাজে করে গ্যাস আনা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর, বাগেরহাটের মোংলা ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গাতেও বড় মজুতাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো তৈরি হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ভর্তুকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
ভারতে এলপিজির দামে সরকারের সহায়তা রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এ অর্থ ব্যাংক বা মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (আইওসিএল) অনেক সময় লোকসান দিয়েও আবাসিক এলপিজি বিক্রি করে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি সিলিন্ডারে পরোক্ষ ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১০ রুপি।
তবে আইওসিএলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন থেকে কার্যকর বর্তমান দামে সরাসরি ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত নেই।
আমদানি হচ্ছে, তবু বাজারে সংকট
বাংলাদেশে এলপিজির বর্তমান উচ্চ দামের আরেকটি বড় সমস্যা হলো সরবরাহব্যবস্থা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কিছু কোম্পানি সরবরাহ কমাতে শুরু করে। প্রথম দিকে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়।
মোহাম্মদপুরের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, দিনে ৩০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও তিনি পাচ্ছেন প্রায় ১৫টি। ফলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
অবশ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, দেশে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরীর দাবি, পাইপলাইনে গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানি আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ঢাকায় বেশি, বরিশালে কম
এলপিজির দাম নির্ধারণের পরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দামের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বরিশাল শহরের বটতলা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পেট্রম্যাক্স, সান ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৭০ টাকায়। টোটাল গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯২০ টাকা।
অন্যদিকে ঢাকায় একই ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ রাজধানীতে একই সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, বিইআরসি নির্ধারিত দামই যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারা বড় সমস্যা।
তার ভাষ্য, ২০২১ সালের আগে ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করতেন। আদালতের আদেশের পর বিইআরসি দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পেলেও এখন সংস্থাটি নির্ধারিত দামও বাজারে কার্যকর করতে পারছে না। বরং আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বেশি দাম নির্ধারণের পরও বাজারে আরও বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, গভীর সমুদ্রবন্দরে এলপিজি টার্মিনাল, বড় মজুতাগার ও উন্নত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে উঠলে আমদানি খরচ কমবে। এতে ভবিষ্যতে দেশে এলপিজির দামও কমার সুযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু সেই অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তাদের উচ্চ দামেই রান্নার গ্যাস কিনতে হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা। অথচ ভারতের কলকাতায় প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম।
তবে বাংলাদেশে বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করে, বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় বাসাবাড়ির রান্নার কাজে। প্রতিবছর দেশে এলপিজির চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি। ফলে এই জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে দাম কত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে দাম আরও কম।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৯৬৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সমপরিমাণ এলপিজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার কম।
নেপালে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার কিছু কম। পাকিস্তানে সম্প্রতি দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি ২৭৯ রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির দাম দাঁড়ায় দেড় হাজার টাকার কিছু কম।
অর্থাৎ এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি। শুধু নির্ধারিত দাম নয়, বাস্তবে বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে কেন এত পার্থক্য
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অবশ্য ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এলপিজির দাম সরাসরি তুলনা করতে চান না। তার মতে, ভারতের সরকারি সংস্থাগুলোর এলপিজি বিতরণব্যবস্থা ও অবকাঠামো অনেক বেশি শক্তিশালী।
জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পরিবহন ব্যয়। দেশে বড় আকারের মজুতাগার ও গভীর সমুদ্রবন্দরভিত্তিক টার্মিনাল না থাকায় ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করতে হয়। এতে খরচ বাড়ে।
মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এলপিজি কোম্পানিগুলোর জমি রয়েছে। সেখানে টার্মিনাল হলে বড় জাহাজে করে গ্যাস আনা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর, বাগেরহাটের মোংলা ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গাতেও বড় মজুতাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো তৈরি হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ভর্তুকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
ভারতে এলপিজির দামে সরকারের সহায়তা রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এ অর্থ ব্যাংক বা মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (আইওসিএল) অনেক সময় লোকসান দিয়েও আবাসিক এলপিজি বিক্রি করে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি সিলিন্ডারে পরোক্ষ ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১০ রুপি।
তবে আইওসিএলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন থেকে কার্যকর বর্তমান দামে সরাসরি ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত নেই।
আমদানি হচ্ছে, তবু বাজারে সংকট
বাংলাদেশে এলপিজির বর্তমান উচ্চ দামের আরেকটি বড় সমস্যা হলো সরবরাহব্যবস্থা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কিছু কোম্পানি সরবরাহ কমাতে শুরু করে। প্রথম দিকে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়।
মোহাম্মদপুরের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, দিনে ৩০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও তিনি পাচ্ছেন প্রায় ১৫টি। ফলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
অবশ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, দেশে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরীর দাবি, পাইপলাইনে গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানি আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ঢাকায় বেশি, বরিশালে কম
এলপিজির দাম নির্ধারণের পরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দামের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বরিশাল শহরের বটতলা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পেট্রম্যাক্স, সান ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৭০ টাকায়। টোটাল গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯২০ টাকা।
অন্যদিকে ঢাকায় একই ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ রাজধানীতে একই সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, বিইআরসি নির্ধারিত দামই যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারা বড় সমস্যা।
তার ভাষ্য, ২০২১ সালের আগে ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করতেন। আদালতের আদেশের পর বিইআরসি দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পেলেও এখন সংস্থাটি নির্ধারিত দামও বাজারে কার্যকর করতে পারছে না। বরং আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বেশি দাম নির্ধারণের পরও বাজারে আরও বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, গভীর সমুদ্রবন্দরে এলপিজি টার্মিনাল, বড় মজুতাগার ও উন্নত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে উঠলে আমদানি খরচ কমবে। এতে ভবিষ্যতে দেশে এলপিজির দামও কমার সুযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু সেই অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তাদের উচ্চ দামেই রান্নার গ্যাস কিনতে হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

কলকাতায় এলপিজি ৮৭ টাকা কেজি, বাংলাদেশে দ্বিগুণ
সিজেডএন ডেস্ক

বাংলাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা। অথচ ভারতের কলকাতায় প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম।
তবে বাংলাদেশে বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করে, বাজারে সেই দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় বাসাবাড়ির রান্নার কাজে। প্রতিবছর দেশে এলপিজির চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি। ফলে এই জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে দাম কত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে দাম আরও কম।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৯৬৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সমপরিমাণ এলপিজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার কম।
নেপালে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার কিছু কম। পাকিস্তানে সম্প্রতি দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি ২৭৯ রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির দাম দাঁড়ায় দেড় হাজার টাকার কিছু কম।
অর্থাৎ এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি। শুধু নির্ধারিত দাম নয়, বাস্তবে বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে কেন এত পার্থক্য
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অবশ্য ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এলপিজির দাম সরাসরি তুলনা করতে চান না। তার মতে, ভারতের সরকারি সংস্থাগুলোর এলপিজি বিতরণব্যবস্থা ও অবকাঠামো অনেক বেশি শক্তিশালী।
জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পরিবহন ব্যয়। দেশে বড় আকারের মজুতাগার ও গভীর সমুদ্রবন্দরভিত্তিক টার্মিনাল না থাকায় ছোট জাহাজে এলপিজি আমদানি করতে হয়। এতে খরচ বাড়ে।
মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এলপিজি কোম্পানিগুলোর জমি রয়েছে। সেখানে টার্মিনাল হলে বড় জাহাজে করে গ্যাস আনা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর, বাগেরহাটের মোংলা ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গাতেও বড় মজুতাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো তৈরি হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ভর্তুকির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
ভারতে এলপিজির দামে সরকারের সহায়তা রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এ অর্থ ব্যাংক বা মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (আইওসিএল) অনেক সময় লোকসান দিয়েও আবাসিক এলপিজি বিক্রি করে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ২ কেজির একটি সিলিন্ডারে পরোক্ষ ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১০ রুপি।
তবে আইওসিএলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন থেকে কার্যকর বর্তমান দামে সরাসরি ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত নেই।
আমদানি হচ্ছে, তবু বাজারে সংকট
বাংলাদেশে এলপিজির বর্তমান উচ্চ দামের আরেকটি বড় সমস্যা হলো সরবরাহব্যবস্থা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কিছু কোম্পানি সরবরাহ কমাতে শুরু করে। প্রথম দিকে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়।
মোহাম্মদপুরের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, দিনে ৩০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও তিনি পাচ্ছেন প্রায় ১৫টি। ফলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
অবশ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, দেশে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।
লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরীর দাবি, পাইপলাইনে গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানি আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ঢাকায় বেশি, বরিশালে কম
এলপিজির দাম নির্ধারণের পরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দামের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বরিশাল শহরের বটতলা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পেট্রম্যাক্স, সান ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৭০ টাকায়। টোটাল গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯২০ টাকা।
অন্যদিকে ঢাকায় একই ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ রাজধানীতে একই সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, বিইআরসি নির্ধারিত দামই যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারা বড় সমস্যা।
তার ভাষ্য, ২০২১ সালের আগে ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করতেন। আদালতের আদেশের পর বিইআরসি দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পেলেও এখন সংস্থাটি নির্ধারিত দামও বাজারে কার্যকর করতে পারছে না। বরং আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বেশি দাম নির্ধারণের পরও বাজারে আরও বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, গভীর সমুদ্রবন্দরে এলপিজি টার্মিনাল, বড় মজুতাগার ও উন্নত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে উঠলে আমদানি খরচ কমবে। এতে ভবিষ্যতে দেশে এলপিজির দামও কমার সুযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু সেই অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তাদের উচ্চ দামেই রান্নার গ্যাস কিনতে হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।








