সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের দাবি ইলিয়াস কাঞ্চনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের দাবি ইলিয়াস কাঞ্চনের
গোলটেবিল বৈঠকে ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে তার ছেলে মিরাজুল মইন জয় অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য পাঠ করেন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দুর্ঘটনা কমাতে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দুর্ঘটনার তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন থাকায় ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে তার ছেলে মিরাজুল মইন জয় অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষ, আহত ব্যক্তি এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাচ্ছি। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের পাশাপাশি পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ উপলব্ধি থেকেই ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ১৯৯৪ সালে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ প্রতিষ্ঠা করি।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে ২২ অক্টোবরকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে নিসচা। সংগঠনটির দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করে।

তিনি বলেন, এই ইতিহাস কোনো ব্যক্তির একার নয়। সড়কে স্বজন হারানো মানুষ, নিসচার নিবেদিত কর্মী এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করা দেশবাসীর সম্মিলিত ইতিহাস এটি। নিসচার অবদান আড়াল করা কিংবা ২২ অক্টোবরের তাৎপর্য বিকৃত করার যেকোনো প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

সড়ক নিরাপত্তায় ২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগান ধারণ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়িত হয়। সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত হয়েছে৷ আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছি এবং এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই।

দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন এবং পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথায় ও কখন দুর্ঘটনা ঘটছে, কারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ কী এসব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবাইকে সম্মিলিতভাবে সড়ক নিরাপদ করার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

/এফআর/