বিএনপি-আ.লীগ উভয়ই সন্ত্রাসী দল: হান্নান মাসউদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি-আ.লীগ উভয়ই সন্ত্রাসী দল: হান্নান মাসউদ
সভায় কথা বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, বিএনপির বিকল্প আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি। বাস্তবে এটা সন্ত্রাসের বিকল্প আরেক সন্ত্রাসী দল, গুমের বিকল্প আরেক গুমের দল এবং চাঁদাবাজির বিকল্প আরেক চাঁদাবাজির দল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক সভায় এ কথা বলেন তিনি।

হান্নান মাসউদ বলেন, আমরা যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, তখন সুশীল সমাজের একটি অংশ আমাদের বলতো-২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ১০ শতাংশ কমিশন না দিলে কাজ হতো না, এখন তোমরা খাল কেটে কুমির আনছো। আমরা তখন বুঝতে পারিনি। সত্যিই আমরা খাল কেটে এমন এক কুমির এনেছি, যেখানে আগে ছিল ১০ শতাংশ, আর এখন তা দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে।

তিনি বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজির জন্য নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামিয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজি করে তারেক রহমান বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন। তিনি নিজের মন্ত্রিপরিষদকে সামলাতে পারেন না। তাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাদের সংসদ সদস্যদের হাত থেকে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানও রেহাই পাচ্ছে না।

এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরের সময় কেমন বিশেষজ্ঞ সাথে নিচ্ছেন? আমি প্রধানমন্ত্রী হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, সীমান্ত বিশেষজ্ঞ, সার্বভৌমত্ব বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের সফরসঙ্গী করতাম। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জামায়াত বিশেষজ্ঞ, বিএনপি বিশেষজ্ঞ ও সরকারবিরোধী দলকে গালিগালাজ করতে পারা ধান্দাবাজ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সফর করছেন এবং দেশের অর্থ অপচয় করছেন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ অনেক আশা নিয়ে বিএনপির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলো। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই ভোট কারচুপির নকশা শুরু করে এবং ১৯৯৬ সালে একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল, যা জনগণ মানেনি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করে তারা দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়, যার খেসারত হিসেবে দেশকে ১৭ বছর দুঃশাসন সহ্য করতে হয়েছে।

হান্নান মাসউদ বলেন, তারা নিজ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বা কেন্দ্রীয় নেতাদের তো বটেই, এমনকি ১৭ বছর ধরে নিজেদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসা দিতে পারেনি। তারা এখন বড় বড় কথা বলছে যে এ দেশের আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে মুক্ত করেছে। অথচ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের অসন্তোষ থেকে ছাত্র-জনতার আহ্বানে রাজপথে নেমেছিলো, বিএনপির ডাকে নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ ও শাসনব্যবস্থা কেমন হবে তার রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সেই রায় বদলে নিজেদের পছন্দমতো লোককে প্রধান বানিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্ত করছে। একইসঙ্গে সারের লাইসেন্স, ডালের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দলের ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীকে দেওয়া হচ্ছে।

/এসবি/