শিরোনাম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, যেভাবে হবে ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, যেভাবে হবে ভোট
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

নির্বাচনে প্রার্থী দুইজন। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সংসদে বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। সংখ্যার এই ব্যবধানের কারণে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত। তবে দুইজন প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতে হচ্ছে।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়েছিলো। পরবর্তী ৭ জন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন সংসদ সদস্যরা। নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ৬ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বর্তমানে সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকায় ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিইসি।

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে আবার পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে এই নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজেও ভোট দিতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। তাই তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। এমনকী ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত সংসদ কক্ষেও তার প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।

গতকাল বুধবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভোট গ্রহণের শুরুর দিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভোটদান বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। গণনা শেষে সংসদ কক্ষেই ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

দল ও জোটভিত্তিক হিসাব

সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনসহ জাতীয় সংসদে মোট আসন ৩৫০। তবে আদালতের নির্দেশের কারণে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন।

ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন। দলটির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য ৯০ জন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন এবং জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচিত জাগপার একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সদস্য রয়েছেন।

এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন এবং স্বতন্ত্র ৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। বিএনপি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছেও ভোট চেয়েছে বলে জানা গেছে। ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিএনপি ১৪০টি এবং আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন পেয়েছিলো। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিলো বিএনপি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে আর প্রার্থী দেওয়া হয়নি। ফলে ভোট গ্রহণেরও প্রয়োজন পড়েনি। এবার বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়ায় ৩৫ বছর পর আবার ভোট হচ্ছে।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। ১৯৯১ সালের পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।

/এসআর/