১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলও কমেছে

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলও কমেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জন মন্ত্রীর চলাচলের সময় দেওয়া পুলিশের এসকর্ট বা প্রটোকল প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার নিজের প্রটোকল কমিয়ে এনেছেন। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং পুলিশে জনবল ও যানবাহনের সংকটের কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শুধু ১৪ জন পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে বলে সরকারি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানান, ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনেরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিজেরাই তাদের এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে তার নিজের প্রটোকল কমিয়েছেন। তার চলাচলের সময় এসকর্ট হিসেবে থাকা ৪টির জায়গায় এখন দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী যাদের জন্য এসকর্ট সুবিধা আর প্রয়োজন বলে মনে করেননি, সেই সব মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ডিএমপিকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন থেকে শুধু যাদের প্রয়োজন, তাদেরই চলাচলের সময় এসকর্ট দেওয়া হবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এসকর্ট প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকার ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সরকারি সফরে ঢাকার বাইরে গেলে মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাসুবিধা পাবেন।
১৪ জন পাচ্ছেন এসকর্ট সুবিধা
এখন যারা পুলিশ এসকর্ট পাচ্ছেন তাদের মধ্যে ৭ জন হলেন– জাতীয় সংসদের পদাধিকারী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
বাকি ৭ জনের মধ্যে আছেন– প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
যাদের এসকর্ট প্রত্যাহার হয়েছে
যে ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা হলেন– ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা; বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্টও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ১৮ মন্ত্রী ঢাকায় পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় আরও ২৪ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারে ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা আছেন।
সাধারণত একজন মন্ত্রীর মুভমেন্ট এসকর্টে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), ৪ জন কনস্টেবল এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান থাকে। তাদের বেতন, ভাতা ও জ্বালানি খরচ সরকার বহন করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ (ভিআইপি) ঢাকায় ভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য পুলিশের ১ হাজার ৬৯১ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, একজন ভিআইপির বাসভবনে শিফট অনুযায়ী ৪ জন পুলিশ সদস্য পাহারায় থাকেন, একজন তার কার্যালয়ে থাকেন এবং ৫ জন তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) একজন গানম্যান দিয়ে থাকে।
ভিআইপিদের তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তার নিরাপত্তার জন্য ৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

১৮ জন মন্ত্রীর চলাচলের সময় দেওয়া পুলিশের এসকর্ট বা প্রটোকল প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার নিজের প্রটোকল কমিয়ে এনেছেন। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং পুলিশে জনবল ও যানবাহনের সংকটের কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শুধু ১৪ জন পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে বলে সরকারি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানান, ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনেরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিজেরাই তাদের এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে তার নিজের প্রটোকল কমিয়েছেন। তার চলাচলের সময় এসকর্ট হিসেবে থাকা ৪টির জায়গায় এখন দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী যাদের জন্য এসকর্ট সুবিধা আর প্রয়োজন বলে মনে করেননি, সেই সব মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ডিএমপিকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন থেকে শুধু যাদের প্রয়োজন, তাদেরই চলাচলের সময় এসকর্ট দেওয়া হবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এসকর্ট প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকার ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সরকারি সফরে ঢাকার বাইরে গেলে মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাসুবিধা পাবেন।
১৪ জন পাচ্ছেন এসকর্ট সুবিধা
এখন যারা পুলিশ এসকর্ট পাচ্ছেন তাদের মধ্যে ৭ জন হলেন– জাতীয় সংসদের পদাধিকারী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
বাকি ৭ জনের মধ্যে আছেন– প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
যাদের এসকর্ট প্রত্যাহার হয়েছে
যে ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা হলেন– ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা; বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্টও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ১৮ মন্ত্রী ঢাকায় পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় আরও ২৪ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারে ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা আছেন।
সাধারণত একজন মন্ত্রীর মুভমেন্ট এসকর্টে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), ৪ জন কনস্টেবল এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান থাকে। তাদের বেতন, ভাতা ও জ্বালানি খরচ সরকার বহন করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ (ভিআইপি) ঢাকায় ভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য পুলিশের ১ হাজার ৬৯১ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, একজন ভিআইপির বাসভবনে শিফট অনুযায়ী ৪ জন পুলিশ সদস্য পাহারায় থাকেন, একজন তার কার্যালয়ে থাকেন এবং ৫ জন তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) একজন গানম্যান দিয়ে থাকে।
ভিআইপিদের তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তার নিরাপত্তার জন্য ৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলও কমেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জন মন্ত্রীর চলাচলের সময় দেওয়া পুলিশের এসকর্ট বা প্রটোকল প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার নিজের প্রটোকল কমিয়ে এনেছেন। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং পুলিশে জনবল ও যানবাহনের সংকটের কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শুধু ১৪ জন পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে বলে সরকারি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানান, ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনেরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিজেরাই তাদের এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে তার নিজের প্রটোকল কমিয়েছেন। তার চলাচলের সময় এসকর্ট হিসেবে থাকা ৪টির জায়গায় এখন দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী যাদের জন্য এসকর্ট সুবিধা আর প্রয়োজন বলে মনে করেননি, সেই সব মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ডিএমপিকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন থেকে শুধু যাদের প্রয়োজন, তাদেরই চলাচলের সময় এসকর্ট দেওয়া হবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এসকর্ট প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকার ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সরকারি সফরে ঢাকার বাইরে গেলে মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাসুবিধা পাবেন।
১৪ জন পাচ্ছেন এসকর্ট সুবিধা
এখন যারা পুলিশ এসকর্ট পাচ্ছেন তাদের মধ্যে ৭ জন হলেন– জাতীয় সংসদের পদাধিকারী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
বাকি ৭ জনের মধ্যে আছেন– প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
যাদের এসকর্ট প্রত্যাহার হয়েছে
যে ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা হলেন– ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা; বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্টও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ১৮ মন্ত্রী ঢাকায় পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় আরও ২৪ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারে ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা আছেন।
সাধারণত একজন মন্ত্রীর মুভমেন্ট এসকর্টে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), ৪ জন কনস্টেবল এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান থাকে। তাদের বেতন, ভাতা ও জ্বালানি খরচ সরকার বহন করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ (ভিআইপি) ঢাকায় ভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য পুলিশের ১ হাজার ৬৯১ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, একজন ভিআইপির বাসভবনে শিফট অনুযায়ী ৪ জন পুলিশ সদস্য পাহারায় থাকেন, একজন তার কার্যালয়ে থাকেন এবং ৫ জন তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) একজন গানম্যান দিয়ে থাকে।
ভিআইপিদের তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তার নিরাপত্তার জন্য ৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

আমলাদের প্রটোকল-আপ্যায়ন সংস্কৃতি দুর্নীতির ভিত্তি তৈরি করছে




