শিরোনাম

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি বন্ধের নির্দেশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি বন্ধের নির্দেশ
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

কোনও শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠলে তার কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না– এমন বিধান রেখে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সব ধরনের টিউশন ফি ও সেশন চার্জ নির্ধারিত উপকমিটির তত্ত্বাবধানে আদায় করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিট মামলার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম তপু।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠলে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় গত ২৫ জানুয়ারি জনস্বার্থে বাংলাদেশ আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশনের পক্ষে পরিচালক সুজন মাহমুদ রিট আবেদন করেন। ওই রিটে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সাইফুল ইসলাম তপু।

এদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রজ্ঞাপন আকারে এটি প্রকাশ করে। প্রজ্ঞাপনে সই করেন বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।

নীতিমালার ৫(ঙ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অবস্থায় পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হলে তার কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী টিউশন ফি আদায় করা যাবে।

এ ছাড়া নীতিমালার ১২ ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের জন্য একাধিক উপকমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায়ের জন্য তিনজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে নিয়ে প্রতি পঞ্জিকা বছরে একটি উপকমিটি গঠন করতে হবে। ওই উপকমিটির তত্ত্বাবধানে সব ধরনের ফি আদায় করতে হবে এবং মাসিক প্রতিবেদন পরিচালনা কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।

নীতিমালার ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো অনুচ্ছেদের ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বরখাস্ত, এমপিও স্থগিত বা অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে পরিচালনা কমিটিও বাতিল করা যাবে।

রিটের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ায় মামলাটি আর পরিচালনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম তপু।

/এসএ/